শিল্পপতিদের সমস্যার সমাধানই শুধু নয়, জেলার নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প ভাবনার প্রসার ঘটাতে সিনার্জি-কে হাতিয়ার করছে প্রশাসন। এক দিনের এই সম্মেলনে তাই ভাল মতো প্রস্তুতি নিয়ে নামছেন প্রশাসনের কর্তারা।

সম্মেলনে শিল্পপতিদের জন্য এ বার বিশেষ চমক হতে চলেছে জেলার ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’। আজ, শুক্রবার বাঁকুড়ার রবীন্দ্র ভবনে সিনার্জি-তে সেটির উদ্বোধন হওয়ার কথা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৬৬১ একর খাসজমি রয়েছে। কোন ব্লকে কতটা খাসজমি রয়েছে সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ল্যান্ড ব্যাঙ্কে মিলবে। এত দিন জেলার খাসজমি খোঁজা বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। এ বারে মাউসের একটি ক্লিকেই সব তথ্য মিলে যাবে।

জেলার পড়ুয়াদের শিল্পে উৎসাহিত করতে বাঁকুড়ার প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। জেলার কলেজগুলিতে শিল্পে উৎসাহী ছাত্রছাত্রীদের সিনার্জি-তে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বাঁকুড়া জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, “শিল্পপতিদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও জেলায় শিল্প টানার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও আমরা শিল্পের উৎসাহী করে তুলতে চাই। সিনার্জি-তে তাই কলেজ পড়ুয়াদেরও আনতে সচেষ্ট হয়েছি আমরা।”

জেলাশাসক আরও বলেন, “সিনার্জি শুরু মাত্র। আমরা নিয়মিত শিল্পপতিদের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাব।” তিনি জানান, সিনার্জি-তে শিল্পপতিদের সমস্যা, অভিযোগ বা আবেদন লিখিত ভাবে জানানোর জন্য একটি বাক্স থাকবে। ওই বাক্সে যে সব চিঠি জমা পড়বে সেগুলি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

গত কয়েক বছরে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে জেলার মানুষ এগিয়ে আসছেন বলেও দাবি করেছেন জেলা শিল্প দফতরের জেনারেল ম্যানেজার মৌ সেন। তিনি জানান, গত চার বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে এই খাতে। যেখানে রাইস মিল, হিমঘর, পোলট্রি ফার্মের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, দুগ্ধজাত শিল্প, লৌহ শিল্পের মতো ৭৯টি শিল্প গড়ে উঠেছে জেলায়। প্রত্যক্ষ ভাবে অন্তত তিন হাজার মানুষ ওই শিল্পগুলির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, “শিল্প গড়তে চেয়ে অনেকে আমাদের দফতরে যোগাযোগ করেছেন। গত কয়েক বছরে এই প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এর থেকেই বেশ বোঝা যায়, বেতনভুক কর্মী হওয়ার বদলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে নতুন প্রজন্ম বেশি উৎসাহী।’’

বণিকসভা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিনার্জি-তে জেলা ও জেলার বাইরের বহু শিল্পপতিই বিনিয়োগ করতে চলেছেন। ডিনামাইট প্রস্তুতকারী একটি সংস্থা জেলায় কারখানা বানাতে চেয়ে জমির জন্য আবেদন জানিয়েছে। মেজিয়া, বড়জোড়া, সারেঙ্গা ও জয়পুর ব্লকে ডেয়ারি শিল্প গড়তে উদ্যোগী হয়েছে একাধিক সংস্থা। এ ছাড়াও বাঁকুড়ায় ইকো ট্যুরিজম কটেজ, শপিং মল, ম্যানেজমেন্ট কলেজ গড়তে চেয়েও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে বেশ কিছু সংস্থা। হিমঘর, চালকল, ছাইইট তৈরির কারখানা, ইটভাটা, কৃষিজ ফসল থেকে তেল, কেক, ঘি প্রস্তুতকারী সংস্থাও জেলায় বিনিয়োগ করতে উদ্যোগী হয়েছে। শিল্পপতিদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন প্রশাসন ও বণিকসভার কর্তারা। বাঁকুড়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কর্তা মধুসূদন দরিপা ও প্রবীর সরকারের কথায়, “বাঁকুড়ায় শিল্প গড়তে শিল্পপতিরা উৎসাহী। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। প্রশাসন সেগুলি মিটিয়ে দিতে পারলেই উদ্যোগ সফল হবে।” শিল্পপতিদের যাবতীয় সমস্যা মেটাতে প্রশাসন তৎপর হবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক। সিনার্জি জেলার শিল্প মহলকে নতুন দিশা দেখাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।