ভোট দিলেন নতুনডির ৫৪ মহিলা
সোমবার রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক আকাঙ্কা ভাস্কর বলেন, ‘‘নতুনডি গ্রামের সংখ্যালঘু মহিলাদের মধ্যে ভোট দিতে না যাওয়ার প্রথাটা ভাঙতে শুরু করেছে। আমাদের বিশ্বাস, পরবর্তী ভোটগুলিতে আরো বেশি সংখ্যক মহিলা বুথমুখী হবেন।”
Women

নির্বাচক: রঘুনাথপুর ২ ব্লকের নতুনডিতে ভোটকেন্দ্রে মহিলা ভোটারেরা। ছবি: সঙ্গীত নাগ

গত বিধানসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রামের মাত্র তিন জন মহিলা। রবিবার রঘুনাথপুর (২) ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নতুনডি গ্রামের ৫৪ জম মহিলা ভোট দিয়েছেন। তাঁরা সকলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। এক লাফে সংখ্যাটা তিন থেকে বেড়ে ৫৪ হওয়ায় খুশি প্রশাসন। যদিও ভোট দিয়েছেন এমন মহিলার সংখ্যা মোট মহিলা ভোটারের সংখ্যার তুলনায় নগণ্য। ওই গ্রামের দু’টি বুথে মোট মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭০০। 

সোমবার রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক আকাঙ্কা ভাস্কর বলেন, ‘‘নতুনডি গ্রামের সংখ্যালঘু মহিলাদের মধ্যে ভোট দিতে না যাওয়ার প্রথাটা ভাঙতে শুরু করেছে। আমাদের বিশ্বাস, পরবর্তী ভোটগুলিতে আরো বেশি সংখ্যক মহিলা বুথমুখী হবেন।” বিডিও, রঘুনাথপুর (২) মৃন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘‘সামগ্রিক চেষ্টার ফল মিলেছে। নতুনডি গ্রামের সংখ্যালঘু মহিলাদের অনেকেই ভোট দিয়েছেন।” পরের নির্বাচনে এই সংখ্যা যাতে আরো বাড়ানো যায় সেই বিষয়ে এখন থেকেই তাঁরা সচেষ্ট বলে জানান মৃন্ময়বাবু। 

পাড়া বিধানসভার রঘুনাথপুর ২ ব্লকের নতুনডি পঞ্চায়েতের নতুনডি গ্রামের সংখ্যালঘু মহিলারা ভোট দিতে যেতেন না। ভোট নিয়ে সচেতনতা প্রসারে জোর দিলেও ওই গ্রামের মহিলাদের ভোটের লাইনে দাঁড় করানো যেত না এতদিন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই মহিলাদের ভোট দিতে না যাওয়া একটা রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল। অথচ এমনটা নয় যে, গ্রামের মহিলারা বাইরে বেরোন না। স্থানীয় হাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে গ্রামের বহু ছাত্রী। কেন গ্রামের মহিলারা বুথমুখী হতে নারাজ, তার কারণ খুঁজে পায়নি প্রশাসন। 

এবারের লোকসভা নির্বাচনে গ্রামের বড় সংখ্যক মহিলাদের ভোটার লাইনে দাঁড় করানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর এবং বিডিও মৃন্ময় মণ্ডল। 

নির্বাচনের আগে গ্রামে প্রথামাফিক ভোট প্রচার যেমন প্রশাসন করেছিল, তেমনই মসজিদের ইমামের সঙ্গেও ওই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন মহকুমাশাসক এবং বিডিও। মহিলা ভোটারদের বুথমুখী করতে রাজনৈতিক দলগুলির কর্মীদেরও সাহায্য চেয়েছিল প্রশাসন। গ্রামের মহিলাদের সাথে আলোচনা করে সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন আকাঙ্খাদেবী। 

বরিবার সকাল থেকেই নতুনডি গ্রামের হাই মাদ্রাসার বুথে নজর ছিল প্রশাসনের। কত জন মহিলা ভোট দিয়েছেন তা সেক্টর অফিসারের থেকে মাঝেমধ্যেই খবর নিয়েছেন বিডিও। প্রশসান সূত্রের খবর, সকালের দিকে মহিলারা ভোট দিতে না আসায় চিন্তায় ছিলেন আধিকারিকেরা। 

মহিলাদের এবার বুথমুখী করার জন্য তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব বিশেষ ভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন নতুনডির প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমানে পঞ্চায়েত তৃণমূল সদস্য গোলাম মোস্তাফা ও যুব নেতা তাহির হোসেনকে। রবিবার ভোট দিতে যাওয়ার সময় শাসকদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে করেই নিয়ে যান।