শিশুপালের গ্রামে বিপ্লব
১৮ এপ্রিল উদ্ধার হয়েছিল বছর তেইশের শিশুপালের দেহ। তাঁর বাবা যাদব সহিস স্থানীয় শিরকাবাদ পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য। ঘটনার পরে বিজেপি অভিযোগ তোলে, রাজনৈতিক আক্রোশে সক্রিয় বিজেপি কর্মী শিশুপালকে খুন করা হয়েছে।
Biplab

শিশুপালের মা-বাবাকে সান্ত্বনা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর। ছবি: সুজিত মাহাতো

সারা সকাল দেওয়াল লেখার পরে বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বিজেপি কর্মী শিশুপাল সহিস। পরের দিন জঙ্গলের গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ মেলে। বৃহস্পতিবার শিশুপালের গ্রাম আড়শার সেনাবনায় গেলেন ত্রিপুরার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। গ্রামের মোড়ে সভা করলেন। মঞ্চে এসেছিলেন মৃত বিজেপি কর্মীর বাবা-মা। সভা শেষে বিপ্লব শিশুপালের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন।

১৮ এপ্রিল উদ্ধার হয়েছিল বছর তেইশের শিশুপালের দেহ। তাঁর বাবা যাদব সহিস স্থানীয় শিরকাবাদ পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য। ঘটনার পরে বিজেপি অভিযোগ তোলে, রাজনৈতিক আক্রোশে সক্রিয় বিজেপি কর্মী শিশুপালকে খুন করা হয়েছে। নিশানা করা হয় শাসকদলকে। তবে তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

শনিবার শিশুপালের বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু। এ দিন বিপ্লব অবশ্য মৃত কর্মীর বাড়িতে যাননি। সেনাবনা মোড়ে সভা হয়। সেখানে মঞ্চে শিশুপালের বাবা যাদব সহিসকে জড়িয়ে ধরেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন যাদববাবু। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যাদববাবু আড়শা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার পরে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে।

এ দিন বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও সভায়’ প্রধান বক্তা ছিলেন বিপ্লব দেব। ছড়রায় চপার থেকে নেমে দুপুরে গাড়িতে সভাস্থলে আসেন। উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। জ্যোতির্ময় বলেন, ‘‘মর্গ থেকে শিশুপালের দেহ নিয়ে যখন গ্রামে ফিরছি, চোখে পড়েছিল ওর হাতের দেওয়াল লিখন। লেখা রয়েছে, ‘পুরুলিয়া এ বার গেরুয়াময়, আসছে এ বার জ্যোতির্ময়’। চোখে জল চলে এসেছিল।’’ এই ঘটনার প্রসঙ্গে গত পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে বলরামপুরে বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের মৃত্যুর কথা ওঠে সভায়। নেতারা অভিযোগ করেন, বিজেপির ‘উত্থান’ আটকাতে শাসকদল ‘হিংসার রাজনীতি’ করছে। বিপ্লব বলেন, ‘‘এর জবাব ইভিএমে দিতে হবে।’’ 

যদিও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকেই কটাক্ষ করছেন পুরুলিয়ার তৃণমূল নেতারা। এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল তৃণমূল। বিজেপি-সহ অন্য বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলে আসছে, শাসকদল গাজোয়ারি করে তাদের মনোনয়ন জমা করতে দেয়নি। এ দিকে, ত্রিপুরায় গত পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় ৯৬ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের বরিষ্ঠ সহ-সভাপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘শিরকাবাদ পঞ্চায়েতটাই এ বারে বিজেপি জিতেছে। বিপ্লব দেখে গেলেন, এ রাজ্যে গণতন্ত্র বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে বলেই এটা সম্ভব। ওঁর 

রাজ্যে নয়।’’

যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত ভোটে এ রাজ্যের মত হিংসা হয়নি। কোথাও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।’’ তবে সিপিএমের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়ের বক্তব্য, ‘‘নির্যাতিতেরা যে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন, সেটুকু গণতন্ত্রও এখন ত্রিপুরায় নেই।’’