মোদীর সভার মাঠে পাহারা বিজেপির
বিজেপি সূত্রে খবর, পুরনো ঘটনার কথা মনে রেখেই এ বার প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সভার মাঠে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
puru

সজাগ: মাঠ-পাহারা। নিজস্ব চিত্র

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার মাঠে ‘পাহারা’ বসাল বিজেপি। লক্ষ্য একটাই— কোনও ভাবেই কেউ যাতে সভার আয়োজনে ‘জল’ ঢালতে না পারে।

দলীয় সূত্রে খবর, শনিবার থেকেই ওই মাঠে পাহারায় বসেছেন বিজেপির স্থানীয় ৩০ জন নেতা-কর্মী। সভার মাঠের পাশেই তাঁবু খাটিয়ে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ দিন সেই মাঠ পরিদর্শন করেন পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিক, দলের জেলা নেতৃত্ব।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বীরভূমের লাভপুরে বিজেপির সভা হওয়ার কথা ছিল। অন্য মাঠের অনুমতি না পেয়ে দলের সংখ্যালঘু সেলের নেতা রফিক শেখের জমিতে সভা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। লাভপুরের মহুগ্রাম ঠাকুরপাড়ার বাসিন্দা রফিক তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে বিজেপির সভা করার লিখিত অনুমতি দেন। বিজেপির অভিযোগ, সভার এক দিন আগে ওই জমিতে পাম্প দিয়ে জলে ভরে দেওয়া হয়। আঙুল উঠেছিল শাসক দলের দিকে। তবে তৃণমূল তা অস্বীকার করে।

বিজেপি সূত্রে খবর, পুরনো ঘটনার কথা মনে রেখেই এ বার প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সভার মাঠে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৪ এপ্রিল বোলপুরে আসতে পারেন নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি বোলপুর ডাকবাংলা মাঠে তাঁর সভার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ওই মাঠ সেই দিন সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের সভার জন্য আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় প্রশাসন। বিকল্প জায়গার খোঁজ শুরু করে বিজেপি। শুক্রবার  বিজেপির প্রতিনিধিদল বোলপুর ও ইলামবাজারের মাঝামাঝি কামারপাড়ায় একটি মাঠ সভার জন্যে ঠিক করে। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ওই জমির অনুমতিও জোগাড় করা হয়। এরপরেই শনিবার সেই মাঠ পরিদর্শনে যান বোলপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় সরকার, জেলা বিজেপি সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

দিলীপবাবু বলেন, ‘‘এর আগে আমাদের দলের সভার মাঠে জল ভরে দেওয়া হয়েছিল। তা রুখতে এ বার মাঠে পাহারা বসানো হয়েছে।’’ দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপির তপসিলি উপজাতি মোর্চার জেলা সভাপতি লক্ষণ হাঁসদার নেতৃত্বে মাঠ পাহারা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সভাস্থলের মাঠ মিললেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য হেলিপ্যাডের মাঠ এখনও মেলেনি। তবে দলের জেলা সভাপতি বলেন, ‘‘সভার মাঠ পেয়েছি। হেলিপ্যাডের মাঠও পেয়ে যাব।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার ওই মাঠ পরিদর্শনে আসবে এসপিজি। তার পরেই প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল চূড়ান্ত হবে।

বোলপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে প্রশ্নে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‘জনসভা করার অধিকার সবার রয়েছে। তাই  উনিও করছেন। তিনি চারটি লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে একটি জনসভা করেন। আমরা চারটি ব্লক নিয়ে একটা সভা করি। সিউড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাও ৪ ব্লকের লোককে নিয়ে করে দেখিয়ে দেব।’’