জেলার সব বুথে বাহিনী, জানালেন বিশেষ পর্যবেক্ষক
একশোয় একশো।
1

অজয় ভি নায়েক। নিজস্ব চিত্র

একশোয় একশো।
বুধবার সিউড়ি এসে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক জানিয়ে গেলেন, ভোটের দিনে সব বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জেলার বিরোধী শিবির। তবু যে জেলায় পঞ্চায়েতে কার্যত ভোট হয়নি, সেখানে লোকসভা ভোট শেষ হওয়া এবং বাহিনীর ভূমিকা দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় বিজেপি, সিপিএম। বিশেষ পর্যবেক্ষক অবশ্য একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বীরভূম পুলিশ এবং প্রশাসনকে শংসাপত্র দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট।’’
বুধবার সকাল এগারোটায় কপ্টারে সিউড়ি ডিএসএ মাঠে এসে পৌঁছন রাজ্যের দায়িত্বে থাকা কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক। সেখান থেকে গাড়ি করে জেলা নির্বাচনী কার্যালয় তথা জেলাশাসকের দফতরে আসেন। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক পৃথক ভাবে কথা বলেন। তৃণমূলের পাঁচ সদস্যও দেখা করেন। জেলা তৃণমূল সূত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছে বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমানার দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। সিউড়ির উপপুরপ্রধান বিদ্যাসাগর সাউয়ের দাবি, ‘‘ওই সীমানা দিয়ে বিজেপি লোক ঢুকিয়ে অশান্তি করার চেষ্টা করে।’’
বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও বিশেষ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগও জানান। সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার পরে সার্কিট হউসে যান। সেখানে জেলার অবজার্ভার, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে বলেন, ‘‘আমি জেলা পুলিশের ভূমিকায় খুশি। যদিও আমার কাছে বেশ কিছু অভিয়োগ জমা পড়েছে। তবে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক।’’
বিশেষ পর্যবেক্ষকের ঘোষণা খুশি করলেও নিশ্চিন্ত করতে পারেনি বিরোধীদের। রাজ্যের আর পাঁচটা জেলার চেয়ে বীরভূম আলাদা। গত পঞ্চায়েত ভোটে জেলার প্রায় ৮৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় শাসকদল। তৃণমূলের বাধায় বহু ক্ষেত্রে মনোনয়ন জমা করা যায়নি বলে অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। তা ছাড়া গত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার পরেও শাসক দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করা, হুমকি দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। 
এ বারও একই চিন্তায় বিরোধীরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাহিনী থাকবে বুথে এবং ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে। ভোটারদের বাড়ি থেকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছনোর দায়িত্ব কে নেবে? বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের কথায়, ‘‘সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার খবরে আমরা খুশি। কিন্তু, বাড়ি থেকে বুথ পর্যন্ত যাওয়ার সময় ভোটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে, তা নিয়ে 
চিন্তিত আছি। মানুষ যদি বুথেই না যেতে পারেন, ভোট দেবেন কী করে?’’