লোকসভা ভোটের প্রচারে ‘যুযুধান’ সোশ্যাল মিডিয়া
ভোটপ্রচারে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল সূত্রে খবর, সর্বভারতীয় স্তরে তো বটেই, জেলাতেও এমন প্রচারে তারা এগিয়েছে। একই পথে রয়েছে বামেরাও।
Social Media

প্রতিপক্ষ: সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ভাবেই প্রচার চলছে রাজনৈতিক দলগুলির। নিজস্ব চিত্র

সোশ্যাল মিডিয়া যে ভোট প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে, গত লোকসভা নির্বাচনে প্রমাণ দিয়েছিল বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য— ‘তাতে প্রায় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছিল কেন্দ্রের শাসক দল।’

এ বার পরিস্থিতি  বদলেছে। ভোটপ্রচারে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল সূত্রে খবর, সর্বভারতীয় স্তরে তো বটেই, জেলাতেও এমন প্রচারে তারা এগিয়েছে। একই পথে রয়েছে বামেরাও।

নির্বাচনী সভা, মিছিলে প্রার্থীদের প্রচার তো রয়েছেই, নিজের নিজের দলের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরে ভোট চাওয়া থেকে বিপক্ষকে আক্রমণ—যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলি সে জন্য ব্যবহার করছে দলীয় ফেসবুক (অফিসিয়াল) পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার  মাধ্যম। ওই ‘লড়াইয়ে’ রয়েছে বামেরাও। মুহূর্তে যা ছড়িয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের কাছে। বিভিন্ন দলের নেতাদের কথায়, ‘‘বর্তমান সমাজে সোশ্যাল মিডিয়ার মতো শক্তিশালী মাধ্যমকে উপেক্ষা করা  সম্ভব নয় কোনও দলের পক্ষেই।’’

তবে রাজনৈতিক মহলের খবর, সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানোর নিরিখে এখনও পর্যন্ত  পাল্লা ভারী বিজেপির। সিপিএমের জেলা কমিটির ফেসবুক পেজে ‘লাইক’ যেখানে ১৪ হাজার ৬৯০, তৃণমূলের ফেসবুক অফিসিয়াল পেজে তা ১৮ হাজার ৯৫৪টি। সেখানে বিজেপির পক্ষে ‘লাইক’ সংখ্যা ৩১ হাজার ৫৮০টি।

তৃণমূলের আইটি সেলের দায়িত্বে থাকা কৌশিক দে বলেন, ‘‘বিজেপির ফেসবুক পেজ ২০১৪ সালে তৈরি। আমাদের তা তৈরি হয়েছে গত বছর অগস্টে। মাত্র কয়েক মাসে প্রায় ১৯ হাজারের মতো ‘হিট’ মোটেই খারাপ নয়।’’ তাঁর বক্তব্য, স্বেচ্ছাশ্রমে আইটি সেল চালান তৃণমূলের সমর্থকেরা।

প্রায় একই সুর বামেদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের দায়িত্বে থাকা ডিওয়াইএফআই-এর জেলা সম্পাদক  মতিউর রহমান বলছেন, ‘‘সংখ্যার বিচারে আমরা হয়তো ওই দু’টি দলের থেকে পিছিয়ে। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ততায়  নয়। খুব শক্তিশালী ভাবেই প্রচার চলছে ইন্টারনেটের সামজিক মাধ্যমেগুলিতে। পিছিয়ে থাকার মূল কারণ, আমাদের আইটি সেল তৈরিতে কর্পোরেট ছাপ নেই।’’

তৃণমূলের আইটি সেল সূত্রে খবর, শুধু ফেসবুক নয়, অন্তত ৩০টি  হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও দলীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচার চলছে। বিজেপির ‘অপপ্রচারের’ পাল্টা প্রচারও করা হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের কথা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উপরে। সঙ্গে চলছে বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলাপরিষদ থেকে রাজ্য— কোথায়, কী কাজ হয়েছে তার প্রচার।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও সফল ভাবে কী করে ভোটপ্রচারে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা যায়, তা বোঝাতে দলের আইটি সেলের সদস্য ও ছাত্র সংগঠনের হাজারের বেশি সদস্যকে নিয়ে শুক্রবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। তৃণমূল ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘তার উদ্দেশ্য,  আইটি সেলের সঙ্গে সমণ্বয় রেখে পোস্টগুলিকে আরও বেশি করে শেয়ার করার দায়িত্ব যুব-ছাত্রদের দেওয়া হয়েছে।’’

অন্য দিকে, বিজেপির  আইটি সেলের দায়িত্ব থাকা কৃষানু সিংহ বলেন, ‘‘আইটি সেলের অনেক কাজের মধ্যে অন্যতম সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানো। শক্তি প্রমূখ, মণ্ডল, ব্লক বাদ দিয়ে শুধু জেলা কমিটির ১০৭ জন আইটি সেল ইন-চার্জ প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এক দিকে জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চলছে। একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকারের জনমুখী নীতি জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টাও হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, ফেসবুক তো আছেই, ১ হাজার ২০০টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ইন্সটাগ্রাম, শেয়ারচ্যাট— কোনও মাধ্যমকেই বাদ রাখা হয়নি। বিজেপি সূত্রে খবর,  নানা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা ও মিস্ড-কল দিয়ে বিজেপির সদস্যপদ নিয়েছেন এমন দেড় থেকে দু’হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতি দিন কথা বলে ভোটপ্রচারের কৌশলও নেওয়া হয়েছে।

জেলাবাসীর একাংশ বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানোর ফায়দা কোন দল ভোট-বাক্সে পাবে, এখন সেটাই দেখার।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত