ঘোষণা হয়নি, পুরুলিয়ার দেওয়ালে ‘প্রার্থী’ নেপাল
পুরুলিয়া কেন্দ্রে লড়ার দাবি নিয়ে ফব ও কংগ্রেস— দু’পক্ষেরই টানাপড়েন চলছিল কংগ্রেস-বামফ্রন্টের আসন বোঝাপড়ার সময় থেকেই। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব পুরুলিয়া আসনটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন বরাবর।
Congress

লিখন: পুরুলিয়া শহরের নর্থলেক রোডে। ছবি: সুজিত মাহাতো

রাজ্যে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি কংগ্রেস। কিন্তু, পুরুলিয়া কেন্দ্রে দল জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোকেই প্রার্থী করতে চলেছে বলে দেওয়াল লিখতে শুরু করেছেন তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের দাবি, পুরুলিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেস লড়বেই। আর প্রার্থী হিসেবে ‘নেপালদার’ নাম ঘোষণা এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তৃণমূল ও ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন। তাই কবে হাইকমান্ড চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে, সেই অপেক্ষা করতে নারাজ কংগ্রেসের অনেক কর্মীই।

পুরুলিয়া কেন্দ্রে লড়ার দাবি নিয়ে ফব ও কংগ্রেস— দু’পক্ষেরই টানাপড়েন চলছিল কংগ্রেস-বামফ্রন্টের আসন বোঝাপড়ার সময় থেকেই। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব পুরুলিয়া আসনটির দাবি জানিয়ে আসছিলেন বরাবর। অন্যদিকে, ফব-ও অতীতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দখলে থাকা পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের আসন কংগ্রেসকে ছাড়তে নারাজ বলে জানিয়ে এসেছে। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, তারা আর আসন সমঝোতায় যাচ্ছেন না।

গত সপ্তাহে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র পুরুলিয়ায় কর্মিসভা করতে এসে তিনি জানিয়েছিলেন, এ নিয়ে ফব নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। এরমধ্যে শুক্রবার বামফ্রন্ট রাজ্যের ২৫টি কেন্দ্রের যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে পুরুলিয়া কেন্দ্রের জন্য ফব-র প্রার্থী বীরসিংহ মাহাতোর নাম জানানো হয়। সে দিনই রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রেস বিবৃতিতে জানান, এই নির্বাচনে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয়, সেই লক্ষ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শুক্রবার বামফ্রন্টের বৈঠকের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পুরুলিয়া আসনে ফরওয়ার্ড ব্লক এবং বসিরহাট আসনে সিপিআই প্রার্থী দিলেও কংগ্রেস যদি মনে করে এই দু’টি আসনে জয়ের জন্য প্রার্থী দেবে, তবে তারা তা দিতে পারে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

রবিবার দেখা গিয়েছে, পুরুলিয়া শহরের পুরুলিয়া-বাঁকুড়া (৬০-এ) জাতীয় সড়কের ধারে কংগ্রেস কর্মী পল্লব সাহানি, সমীর বাউরি, অমিত দাস প্রমুখেরা নেপাল মাহাতোর নামে দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘‘নেপালদার বিকল্প কেউ আছে না কি? তাঁর নাম ঘোষণা কেবল সময়ের অপেক্ষা।’’

কিছু দিন আগে রটে যায়, নেপালবাবু বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। যদিও তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে দলের কর্মীরা বলেন, ‘‘নেপালদাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়। তাই, এ বারও যে তিনিই কংগ্রেসের প্রার্থী হচ্ছেন, সেই বার্তা আমরা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে দেওয়াল লেখার কাজে নেমে পড়েছি।’’ যদিও বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা রবিবার ভেস্তে যাওয়ায় নেপালবাবুর পুরুলিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনও সংশয় নেই বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

বাঘমুণ্ডির বিধায়ক নেপালবাবু বলেন, ‘‘আমি আগেও বলেছি এই কেন্দ্রে কংগ্রেস লড়বে। দলের নির্দেশ পেলে আমি লড়ব। তবে, সরকারি ভাবে আমাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। তাই আর কোনও মন্তব্য করব না।’’ 

কী বলছেন ফব প্রার্থী? বীরসিংহবাবুর জবাব, ‘‘আমিও শুনেছি প্রার্থী হিসেবে নেপাল মাহাতোর নাম লেখা হচ্ছে। তবে এ ভাবে লড়াই হলে তৃণমূলকেই সুবিধা করে দেওয়া হবে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনে আমি তো মনসামঙ্গলের চাঁদ সওদাগরের মত বাঁ হাতে নেপালকে ভোট দিতে বলেছিলাম বামফ্রন্ট কর্মীদের। কিন্তু, এ বার যদি নেপাল আমার বিরুদ্ধে নামে কী আর বলব?’’