রাত পোহালেই মাধ্যমিক। তার আগে বই-খাতা নিয়ে যাওয়ার জন্য বাজারে ব্যাগ কিনতে এসেছিল দুই বান্ধবী। ব্যাগ কিনে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল তারা। কিন্তু, এক জনের আর ফেরা হল না। বান্ধবীর চোখের সামনেই কোটাসুর মোড়ে কুণ্ডলা পঞ্চায়েত অফিসের কাছে বালিবোঝাই ডাম্পারে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল তনুশ্রী বাগদির (১৬)। ওই ঘটনার পরে উত্তেজিত জনতা ডাম্পারে ভাঙচুর চালায়। দেহ আটকে রেখে দীর্ঘ সময় বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয় বলেও স্থানীয়দের কারও দাবি।

সোমবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তনুশ্রীর বাড়ি স্থানীয় গঙ্গারামপুর গ্রামে। এ বার কোটাসুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সে জন্য বান্ধবী বিউটি বাগদির সঙ্গে কোটাসুর থেকে ব্যাগ নিতে এসেছিল। বিউটিও এ বার পরীক্ষা দেবে।  ব্যাগ নিয়ে দুটি সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল। বিউটি ছিল আগে। পিছন থেকে বালি বোঝাই ডাম্পার প্রথমে তনুশ্রীকে ধাক্কা মারে। পড়ে গেলে তার উপর দিয়েই চলে যায়। ওই ঘটনার পরেই উত্তেজিত জনতা ডাম্পারটিতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ দেহ তুলতে গেলে বাধা দেয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টিও হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পুলিশকে লাঠি-চার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ যান-নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে যেখানে সেখানে বালির গাড়ি দাঁড় করিয়ে তোলা তোলে। তাই মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুলিশ অবশ্য ওই অভিযোগ মানেনি। ঘটনার আকস্মিতায় আতঙ্কে রয়েছে বিউটি। কথা বলার মতো অবস্থায় ছিল না সে। কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না মৃতার বাবা পেশায় আনাজ বিক্রেতা দীনু বাগদি এবং মা সাদেশ্বরী বাগদি। তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে। তনুশ্রী বড়ো। ছেলে সোমনাথ নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিবেশীরা জানান, বড়ো কষ্ট করে ছেলেমেয়েকে পড়াচ্ছিলেন ওঁরা। মেয়েটাকে ঘিরে আশাও ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। পুলিশ ডাম্পারটি আটক করেছে। চালক পলাতক।