খুনের চেষ্টার অভিযোগ হওয়ার পরেও অভিযুক্তরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য প্রলোভন, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে দলের পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে নানুরের রামকৃষ্ণপুরে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূলের ঝামেলা বাঁধে। তার জেরে স্থানীয় বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াইকে গুলি করে খুনের চেষ্টা এবং তাঁর বাবা ভুবনেশ্বর গড়াইকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রাতেই দু’জনকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে স্বরূপবাবুকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শনিবার সেখানে তিন ঘণ্টা অপারেশনের পরে বুক থেকে গুলি বের করা হয় বলে স্বরূপবাবুর জেঠতুতো ভাই অনুপ গড়াই জানান। রবিবার ভুবনেশ্বরবাবুকেও হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার স্বরূপবাবুর বাড়িতে যান জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা প্রমুখ। 

এ দিকে, শুক্রবার রাতে ঝামেলা পাকানোর অভিযোগে পুলিশ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভাবে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ৯ তৃণমূল এবং আট বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করায় পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে থেকে চার জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গুলি চালনার ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজ পেতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্য দিকে, শনিবারই অনুপবাবু নানুর থানায় তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য তথা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খান সহ তৃণমূলের ১০ নেতা এবং জন প্রতিনিধির নামে অভিযোগ দায়ের করেন। অনুপবাবুর দাবি, ‘‘অভিযুক্তেরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কর্মী, সমর্থকদের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার অথবা হালকা অভিযোগ দায়ের জন্য প্রলোভন, হুমকি দিচ্ছে।’’

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল কেরিম খান জানান, ঘটনার রাতে কলকাতায় ছিলেন। দলের কেউ ওই ঘটনায় জড়িত নয় বলেও তাঁর দাবি। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের কথায়, ‘‘অভিযোগ যে কেউ করতেই পারেন। তার সরবত্তা থাকতে হবে। আমিও তো অনেক কিছু বলতে পারি।’’ এমন দাবি নস্যাৎ করে বিজেপির নানুর ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষের জবাব, ‘‘তৃণমূল নেতারা উল্টোপাল্টা বকছেন। আমরা শেষ দেখে ছাড়ব।’’ পুলিশ জানায়, অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি চলছে।

যদিও স্বরূপবাবুর খুড়তুতো দাদা অনুপ গড়াই রবিবার রাতে জানান, সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ কলকাতার নার্সিংহোমে ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ওই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। এ বারে পরিবারটা ভেসে যাবে।’’ পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর জানা নেই। পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘মৃত্যু খবর পাওয়া গেলে 

খুনের চেষ্টার পরিবর্তে খুনের মামলা দায়ের করা হবে।’’