শ্বশুরবাড়িতে তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল নলহাটি থানার বেলুয়া গ্রামে। পুলিশ জানায়, মৃত তরুণীর নাম সাহেবা খাতুন (২১)। সোমবার সকালে তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখেন, বিছানার নীচে পড়ে রয়েছে সাহেবার নিথর দেহ। নলহাটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সাহেবাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে দাবি করে লিখিত অভিযোগ হয়েছে থানায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। 

সাহেবার বাপের বাড়ি নলহাটি থানার গোকুলপুর গ্রামে। বাবা বেলু শেখ পেশায় কৃষিজীবী। মাস আটেক আগে একই থানার বেলুয়া গ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিকির সঙ্গে বিয়ে হয় সাহেবার। বেলুয়া ও গোকুলপুর পাশাপাশি দু’টি গ্রাম। সাহেবার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবিতে তাঁর উপরে অত্যাচার চালাতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সাহেবার দুই ননদের বেলুয়া গ্রামেই বিয়ে হলেও তাঁরাও থাকেন বাপের বাড়িতে। স্বামী, শাশুড়ির পাশাপাশি ননদ ও নন্দাইরাও অত্যাচার চালাতেন সাহেবার উপরে বলে অভিযোগ। 

সাহেবার বাবা বেলু শেখ বলেন, ‘‘রবিবার রাতেও আমার মেয়েকে মারধর করা হয়। সোমবার সকালে অসুস্থতার খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, মেয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে বিছনার নীচে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’’ এর পরে গোকুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাহেবার পরিবারের লোকজন ওই বাড়ি ঘিরে রেখে পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সাহেবার স্বামী ও নন্দাই মনিরুল শেখকে গ্রেফতার করেছে। বাকি অভিযুক্তেরা পলাতক। বেলু শেখের অভিযোগ, “বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের দাবি মতো যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরও অতিরিক্ত পণের দাবিতে মেয়ের উপরে অত্যাচার চালাত। আমরা গরিব। কোনও রকমে সংসার চালাই। ফলে জামাইয়ের চাহিদামতো অতিরিক্ত টাকা দিতে পারিনি।’’ সেই কারণেই মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি চাই।”