মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে এসে ঝাড়খণ্ড সীমানায় পুলিশকে নজরদারি বাড়াতে বলার পরেই একের পর এক জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে পুলিশ। সেই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়েছে কয়েকজনকে। বুধবারও পুঞ্চার একটি গ্রাম থেকে পাইপগান আটক করে পুলিশ। ধরা পড়ে এক যুবক। তারই মধ্যে বরাবাজারের বেড়াদা এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে এক ধৃতের মুক্তি দাবি করে এ দিন মাওবাদীদের নাম করে পোস্টার পাওয়া গেল ওই এলাকায়। যদিও ওই পোস্টারের সঙ্গে মাওবাদীদের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ক’দিন আগে বরাবাজারের বেড়াদা পঞ্চায়েত এলাকার গিরগিটি গ্রামের বাসিন্দা বছর পঁচিশের রূপেশকুমার মাহাতোকে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, তার কাছে একটি পাইপগান ছিল। এই আগ্নেয়াস্ত্র সে কোথা থেকে পেয়েছে, কেনই বা নিজের কাছে রেখেছিল, পুলিশ তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এখনও পর্যন্ত কিছু সূত্র মিলেছে। সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রূপেশ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাকে আগামীকাল, শুক্রবার পুরুলিয়া আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

এ দিন সকালে সেই রূপেশকে ছাড়ানোর দাবি করে পোস্টার পাওয়া যায় বেড়াদায় সিআরপিএফ শিবির থেকে কয়েকশো মিটার দূরে ঝোপের মধ্যে। পাকানো অবস্থায় পোস্টারগুলি পড়েছিল। তাতে কালো কালিতে এলাকার তৃণমূল নেতাদের খুনের হুমকি দিয়ে এবং রূপেশের মুক্তি দাবি করা হয়েছে। যদিও পুলিশ কর্তাদের দাবি, ওই পোস্টারের সঙ্গে মাওবাদীদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। কারা, কেন পোস্টার দিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া মাওবাদী পোস্টার। —নিজস্ব চিত্র

পুলিশ সূত্রে খবর, বান্ডিলে আটটি পোস্টার ছিল। সে গুলি সাঁটাতে না পেরেই মনে হয়, ঝোপে ফেলে পালিয়েছে। তৃণমূলের বরাবাজার ব্লকের কার্যকরী সভাপতি প্রতুল মাহাতোর বাড়ি বেড়াদা গ্রামেই। তাঁর নাম করেও পোস্টারে হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রতুলবাবু বলেন, ‘‘এক ভিলেজ পুলিশ পোস্টারগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পোস্টারগুলি দেখেছি। আমি নিশ্চিত, এই পোস্টার মাওবাদীদের নয়। এলাকায় ভীতির পরিবেশ ফেরাতে কারা এই পোস্টার ছড়িয়েছে পুলিশ তা দেখুক।’’

এ দিন দুপুরে পুলিশ পুঞ্চা থানার বিশপুরিয়া গ্রাম থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করে। আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে পুলিশ ওই গ্রামের বাসিন্দা রবন মুখোপাধ্যায় নামে বছর আটাশের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ দিন দুপুরে তারা ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। রবন সেই সময়ে বাড়িতেই ছিল। পুলিশের দাবি, ওই যুবকের বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় অপরাধমূলক নানা কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, কয়েকদিন আগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনেছিল,
কী উদ্দেশ্যে এনেছিল, খতিয়ে
দেখছে পুলিশ।