সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বহির্বিভাগ নেই, তাই পুরুষ বিভাগেই চলছে বহির্বিভাগের চিকিৎসা। এই ছবি প্রত্যন্ত গ্রামের কোনও হাসপাতালে নয় খোদ বোলপুর শহরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেই দেখা যাবে এমন দৃশ্য।

বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল তৈরির অনেক আগে থেকেই এখানকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য ভরসা ছিল বোলপুর-শ্রীনিকেতন রোডের উপর বোলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বোলপুরের কাছাকাছি বহু গ্রামের বাসিন্দারাও এই  স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপরে নির্ভরশীল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হলেও পিছিয়ে আছে পুরনো এই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।  

পর্যাপ্ত পরিমাণে সেখানে যেমন ডাক্তার নেই, তেমনই পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে। পুরুষ বিভাগে আট-ন’টি শয্যা আছে। মহিলা বিভাগটি খুবই ছোট। সেখানেও প্রায় দশটি শয্যা আছে। ছোট্ট একটি লেবার রুমও আছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে  বহির্বিভাগের জন্য আলাদা কোনও ভবন না থাকায় হাসপাতালের পুরুষ বিভাগের কিছুটা নিয়ে হয়েছে বহির্বিভাগ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগে চারশো’র বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য যান। রোগীর ভিড় সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় স্বাস্থ্য কর্মী থেকে চিকিৎসকদের। রোগীরা বসার জায়গাও পান না।  স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটিও পুরনো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে কয়েক জায়গায় ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে।  স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি একবার সংস্কার করা হলেও, নানা কারণে তারপর আর তা হয়নি। রোগীর আত্মীয় থেকে শুরু করে এলাকাবাসীর দাবি বর্তমানে বোলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি আলাদা বহির্বিভাগ করা হোক। বহির্বিভাগে দেখাতে আসা এক রোগীর আত্মীয় শিউলি দাস বলেন, ‘‘বোলপুরের মতো একটি জায়গায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলাদা একটি বহির্বিভাগের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে।’’ স্থানীয় বাসিন্দা অরিন্দম পালও বলেন, ‘‘এত পুরনো একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সংস্কার এবং বহির্বিভাগ আশু প্রয়োজন।’’  

এ বিষয়ে বিএমওএইচ সব্যসাচী রায় বলেন, ‘‘আমাদের একটি বহির্বিভাগের প্রয়োজন রয়েছে। কোনও রকমভাবে আমরা পুরুষ বিভাগকে ভাগ করে বহির্বিভাগ চালাচ্ছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিরও সংস্কারের দরকার রয়েছে। বিষয়টি দেখছি।’’