এ বার আন্ত্রিক ছড়াল রঘুনাথপুরের মধুতটি গ্রামের একাংশে। রঘুনাথপুর ১ ব্লকের খাজুরা পঞ্চায়েতের মধুতটির বাউরি পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই পেটের রোগ ছড়াচ্ছে এলাকায়। শনিবার গ্রামে যান বিডিও অনির্বাণ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত ওই গ্রামের ৩০ জন বাসিন্দা পেটের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছ’জনকে ভর্তি করা হয়েছে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে এক জন প্রসূতি।’’ তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছেন অনির্বাণবাবু।

মধুতটি গ্রামের বাউরিপাড়ায় গত চার-পাঁচ দিন ধরেই পেটের রোগ ছড়িয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, মূলত ঘন ঘন বমি ও পায়খানার উপসর্গ নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছিলেন বাসিন্দারা। আন্ত্রিক ছড়াচ্ছে বুঝতে পেরে গ্রামে মেডিক্যাল টিম পাঠায় ব্লক স্বাস্থ্য দফতর। 

শনিবার সকালের দিকে গ্রামে যান বিলতোড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার অম্বিকাপ্রসাদ চক্রবর্তী ও জেলা পরিষদের বিদায়ী সদস্য তথা ওই এলাকার তৃণমূল নেতা হাজারি বাউরি। গ্রামে ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পুকুরের জল ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন করেন তাঁরা। হাজারিবাবু বলেন, ‘‘মধুতটি গ্রামের বাউরিপাড়ায় আন্ত্রিক ছড়িয়েছে খবর পাওয়ার পরেই স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রামে মেডিক্যাল টিম পাঠাতে বলা হয়েছিল। অম্বিকাপ্রসাদবাবু জানান, পেটের রোগে বাসিন্দারা আক্রান্ত হচ্ছেন, এটা জানার পরেই ওই গ্রামে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পাঠিয়ে সচেতনতার কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হচ্ছে। তবে এখন নতুন করে পেটের রোগে বাসিন্দারা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, এ দিন দুপুরে গ্রামে যান বিডিও অনির্বাণবাবু। তিনি বলেন, ‘‘মূলত একটি পুকুরের জল ব্যবহার করার জন্যই পেটের রোগ ছড়িয়েছে গ্রামে। যাঁরা ওই পুকুরের জল ব্যবহার করেন, তাঁরাই আক্রান্ত হয়েছেন।’’ তিনি জানান, ওই পুকুর ও লাগোয়া একটি টিউবওয়েলের জল ব্যবহার করতে বাসিন্দাদের বারণ করা হয়েছে। ব্লক থেকে দু’টি ট্যাঙ্কারে পানীয় জল গ্রামে পাঠানো হয়েছে।”