তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পঞ্চায়েত ভোটের এত দিন পরে, বৃহস্পতিবার রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন হল। কিন্তু বিতর্ক এড়ানো গেল না। রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির বদলে কেন বাঁকুড়ায় জেলা পরিষদের ‘কনফারেন্স হল’-এ পঞ্চায়েত সমিতির ন’টি স্থায়ী সমিতি গড়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের অন্দরে।
গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন প্রাক্তন ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুলেখা মাহাতো। সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় যুব নেতা রাজকুমার সিংহকে (সদ্য জেলা যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন)। 
দলের অন্দরের খবর, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের মধ্যে স্থায়ী সমিতিতে কাদের রাখা হবে, তা নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব এক মত হতে পারেননি। মূলত ব্লকের দুই প্রভাবশালী নেতা নিজেদের অনুগামী সদস্যদের বেশি সংখ্যায় রাখতে চাইছিলেন। তার জেরেই থমকে ছিল স্থায়ী সমিতি গঠন। 
সমস্যা মেটে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে। মাস খানেক আগে শুভেন্দুবাবু রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে জানিয়ে দেন, ১২ সেপ্টেম্বর স্থায়ী সমিতি গঠন করতে হবে।
স্থায়ী সমিতি গঠনের আগে বাঁকুড়ায় দলীয় নেতৃত্ব বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সংসদীয় জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা, তৃণমূলের বাঁকুড়া সংসদীয় জেলা সভাপতি তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি শুভাশিস বটব্যাল, বাঁকুড়া জেলা সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, মেন্টর অরূপ চক্রবর্তী, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। 
স্থায়ী সমিতি গঠন বাঁকুড়ায় কেন হল, তা নিয়ে জল্পনা চলল দিনভর। দলের একাংশের দাবি, কোন স্থায়ী সমিতিতে কারা থাকবেন, এ দিন দলীয় বৈঠকে তা নেতৃত্ব ঘোষণা করেন। কিন্তু রাইপুরে ওই ঘোষণা হলে বৈঠকে গোলমাল হতে পারত। 
যদিও শুভাশিসবাবু দাবি, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যেরা আগেই একমত হয়ে গিয়েছিলেন। বাঁকুড়ায় ওই বৈঠক ডাকার পিছনে তেমন কোনও কারণ ছিল না।” রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি রাজকুমার সিংহ-ও দাবি করেন, “সমস্ত সদস্যই স্থায়ী সমিতি গঠন নিয়ে আগেই সহমত হয়েছিলেন। সকলেই দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছি।” 
সভাপতি সুলেখা মাহাতো বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ ভাবেই স্থায়ী সমিতি গঠন করা হয়েছে।’’ বিডিও (রাইপুর) সঞ্জীব দাস বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ন’টি স্থায়ী সমিতি থেকে ন’জন কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করা হবে।’’