মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে এক পরিবারের তিন জনকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে হইচই পড়েছে। ওই ঘটনার তদন্তে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে, স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান খুনের এই ঘটনার তদন্তে শুক্রবার বীরভূমের দু’জায়গায় তল্লাশি চালাল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। একই যুবকের সন্ধানে দুই জায়গায় তল্লাশি বলে পুলিশ সূত্রের খবর। 

এ দিন দুপুর তিনটে নাগাদ এসডিপিও (লালবাগ) বরুণ বৈদ্যের নেতৃত্বে ওই জেলার পুলিশ রামপুরহাটে আসে। তারা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঁড়শালাপাড়ার গ্যাস গলির বাসিন্দা শৌভিক বণিকের বাড়িতে ঘণ্টা দেড়েক তল্লাশি চালায়। বাড়িতে অবশ্য শৌভিকের দেখা পায়নি পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে শৌভিকের শোওয়ার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কিছু কাগজপত্র নিয়ে  বিকেল পাঁচটা নাগাদ এলাকা থেকে বেরিয়ে যায় মুর্শিদাবাদ পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এসডিপিও বরুণ বৈদ্য অবশ্য কোনও কিছু জানাতে চাননি। 

শৌভিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁর ভাই ছিলেন। শৌভিকের বাবা, রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অবসর প্রাপ্তকর্মী বাড়িতে ছিলেন না। পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা শয্যাশায়ী। পুলিশি তল্লাশি চালানোর ব্যপারে শৌভিকের ভাইও কিছু বলতে চাননি। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তেতাল্লিশের শৌভিক মাস ছয়েক হল বাড়ির বাইরে। কোথায় কী কাজ করেন, প্রতিবেশীরাও কিছু জানেন না। তাঁরা জানালেন, অন্যান্য বছর পাড়ার দুর্গাপুজোয় দেখা গেলেও এ বছর শৌভিককে দেখতে পাওয়া যায়নি। রামপুরহাটের পরে পুলিশ যায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া সিউড়ির অরবিন্দপল্লির একটি বাড়িতে। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন শৌভিক বণিক। এ দিন সিউড়ি থানার আইসি-কে সঙ্গে নিয়ে সেই ভাড়া বাড়িতে শৌভিকের খোঁজে তল্লাশি চালায় মুর্শিদাবাদ পুলিশ। তবে ওই যুবকের সন্ধান সেখানেও মেলেনি। তাঁর ঘর থেকে কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছে পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মাস চারেক ধরে দু’হাজার টাকায় সিউড়িতে ভাড়া থাকতেন ওই যুবক। স্থানীয় বাসিন্দাদের জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ডের কুন্ডহিতে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন তিনি। পড়শিরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলেও শৌভিককে তাঁরা এলাকায় দেখেছেন। তবে একাদশীর দিন বাড়ি থেকে পানীয় জল নিতে বের হলে 

শৌভিকের পায়ে চোট লক্ষ্য করেছিলেন এলাকার কিছু মহিলা। তাঁর পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল।