তৃণমূল শুনবে সমস্যা। বিজেপি বলবে সচেতন হতে। পুরভোটের আগে জনসংযোগ বাড়াতে বাঁকুড়ায় এমন কৌশলই নিচ্ছে দুই দল। আর মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কনভেনশন করছে সিপিএম। 

২০২০ সালের মে মাসে শেষ হতে চলেছে বাঁকুড়ার পুরভোটের মেয়াদ। তৃণমূল চাইছে, শীত ফুরনোর আগেই ভোট সেরে নিতে। সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি। তবে জেলার বাতাসে আঁচটা একটু একটু করে টের পাওয়া যাচ্ছে। গত পুরভোটে বাঁকুড়ার দু’টি ওয়ার্ড বিজেপির দখলে এসেছিল। এ বারের লোকসভায় ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে দেখা যাচ্ছে, শহরের ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টিতেই তৃণমূলকে টপকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে গেরুয়া শিবির। জেলার রাজনীতির ওঠাপড়ার নিয়মিত পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইতিমধ্যে এ বারের পুরভোট নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। 

তৃণমূল অবশ্য দাবি করছে, লোকসভা আর পুরসভার ভোটের মধ্যে ফারাকটা আকাশ আর পাতালের মতো। বাঁকুড়ার পুরপ্রধান তৃণমূলের মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের বক্তব্য, ‘‘গত পাঁচ বছরে বাঁকুড়া শহরে যে কাজ হয়েছে, অতীতে তা হয়নি। তাই মানুষ যে আমাদের পক্ষেই থাকবেন, এ নিয়ে দ্বিমতের কোনও প্রশ্নই নেই।” তবে, কৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে তারা। পুজোর আগেই বাঁকুড়ায় এসেছিলেন জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গ্রামাঞ্চলের যোগ্য তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে এসে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিতে বলেছেন তিনি। নেতৃত্বের আশা, শহরের পরিচিত নেতাদের কাছে মন খুলে কথা না বলতে পারলেও অচেনা মানুষের কাছে কথাচ্ছলে অনেক কিছুই খোলসা করবেন ভোটারেরা। 

লোকসভায় জেলার দু’টি আসনই তাদের দখলে এসেছে। পুরভোটেও ভাল ফলের ব্যাপারে নিজেদের প্রত্যয়ী বলে দাবি করছেন বিজেপি নেতারা। তবে তার আগে এলাকাভিত্তিক জনসংযোগে আরও জোর দেওয়ায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। আর মানুষের মন বুঝতে সেই কাজে রাজনীতিকে কিছুটা আড়ালে রাখতে চাইছে বিজেপি। সরাসরি ভোটের কথা না পেড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে পরিবেশ সচেতন হতে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, “দেশকে প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমাদের কর্মীদেরও মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে এ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে সচেষ্ট হতে বলেছি। পাশাপাশি, জলের অপচয় বন্ধ করা নিয়েও বার্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।” 

তবে জনসংযোগের ক্ষেত্রে এলাকার সমস্যার চেয়ে পরিবেশ সচেতনতাকে কেন সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি বিবেকানন্দবাবু কোনও মন্তব্য করতে চাননি। শহরের এক বিজেপি নেতা বলেন, “পুরভোটে সফল হতে গেলে দলমত নির্বিশেষে পাড়ার লোকজনের ‘কাছের মানুষ’ হওয়াটা আগে দরকার। কথায় রাজনীতির গন্ধ প্রকট হলে সে ক্ষেত্রে মুশকিল হতে পারে।’’ 

বিবেকানন্দবাবু জানান, প্রস্তুতিতে নেমে বাঁকুড়া শহরের ১৩৯টি বুথেই কমিটি গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তাঁরা। গত এক মাসে ১২৭টি বুথ কমিটি গড়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। জানাচ্ছেন, বুথ কমিটির সদস্যদের মানুষের বাড়ি-বাড়ি যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দিকে, তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী বলে গিয়েছেন, পুজোর মরসুম কাটলে তিনি নিজে আসবেন শহরবাসীর সমস্যা শুনতে। দলের বাঁকুড়া সংসদীয় জেলার সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল বলছেন, “পুরভোটের প্রচার ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে। শহরের বুথ কমিটিগুলিতেও কিছু অদল বদল করা হচ্ছে।” 

এ দিকে, বাঁকুড়ার পুরভোটে হারানো জমি ফিরে পেতে তৎপর সিপিএমও। দলের জেলা সম্পাদক অজিত পতি বলেন, “জেলার তিনটি পুরসভার মানুষের সমস্যা ও দাবিদাওয়া জানতে আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক কনভেনশন করেছি। পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ পুজোর মরসুম কাটলে পুরভোটের হাওয়া আরও জোরে বইবে বলে মনে করছে শহর।