বিনা অনুমতিতে মিছিল করার অভিযোগে পুলিশ মামলা করেছিল। মঙ্গলবার পুরুলিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে সেই মামলার জামিন নিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ, সায়ন্তন বসু, লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের ছয় নেতানেত্রী। তাঁদের সঙ্গেই বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী ও সম্পাদক বিবেক রঙ্গাকেও মোট তিনটি মামলায় জামিন নিতে হয়।

বিজেপি নেতৃত্বের আইনজীবী শেখর বসু জানান, গত ৬ জুন ও ৮ জুন পুরুলিয়া শহরে মিছিল করার জন্য পুলিশ মোট তিনটি মামলা রুজু করে। অভিযোগ, মিছিলের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া ছিল না। সেই মামলাগুলিতে রাহুল সিংহ, সায়ন্তন বসু, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী ও বিবেক রঙ্গা অভিযুক্ত ছিলেন। এই ছ’জনের নামে মামলাগুলির প্রেক্ষিতে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রত্যেকেরই জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৬ ডিসেম্বর।

এ দিন দুপুরে বিজেপি নেতাদের দেখতে পুরুলিয়া আদালতে ভিড় জমে যায়। রাহুল দাবি করেন, ‘‘বিজেপি কর্মীদের খুনের প্রতিবাদে আন্দোলন করার জন্য তৃণমূল সরকারের প্রশাসন আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমাদের অপরাধী প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দুর্ভাগ্য এটাই যে খুনিদের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলা যাবে না। তৃণমূল যদি ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে বিজেপির গতি রোধ করবে, তাহলে ভুল। এই বাধাদান বিজেপি কর্মীদের জেদ আরও বাড়াচ্ছে।’’ তিনি জানান, খুনের প্রতিবাদে সে দিন মানুষ স্বতঃস্ফূত মিছিলে নেমেছিলেন। তবে আদালতকে সম্মান করেন বলেই তাঁরা এ দিন হাজিরা দেন।

পরে পুঞ্চার দলহায় বিজেপির একটি মিছিলে যোগ দেন লকেট, সায়ন্তন, বিদ্যাসাগরবাবুরা। মিছিল শেষে পুঞ্চার কিসান মান্ডির প্রবেশমুখে তাঁরা সভা করেন। সেখানে লকেট অভিযোগ করেন, ‘‘কিছু দিন আগে পুঞ্চায় এক যুবক (পিন্টু সিংহ) খুন হন। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, খুনের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। নিহত যুবক সরাসরি কোনও দলের সভা, মিছিলে যেতেন না। কিন্তু তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাড়াতাড়ি পুঞ্চায় এসে একটি সাধারন খুনের ঘটনাকে রাজনৈতিক খুন বলে প্রচার করে গেলেন।’’ 

সায়ন্তনের দাবি, পুঞ্চার পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে নেমেছে তৃণমূল। আসলে লোকসভা নির্বাচনের আগে আমাদের দলের কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পুরতে চাইছে তৃণমূল।’’ 

যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব তা মানতে চাননি। জেলা তৃণমূল সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো দাবি করেন, ‘‘পুঞ্চায় নিহত পিন্টু সিংহ যে আমাদের দলীয় কর্মী, তা এলাকার সবাই জানেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করেছে। তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যুব সভাপতি এসেছিলেন। বিজেপি মিথ্যা কথা বলে রাজনীতি করে এ রাজ্যে জমি পাবে না।’’ তিনি আরও দাবি করেন, আইন ভেঙে সভা, মিছিল করলে, পুলিশ তো ব্যবস্থা নেবেই। তৃণমূল পুলিশের কাছে হস্তক্ষেপ করে না।