• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সংক্রমণের গতিতে রাশ বীরভূমে

Covid-19
প্রতীকী ছবি।

সুস্থতার হার স্বস্তি দিলেও রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এর মধ্যেও বীরভূমের পরিসংখ্যান আশা জাগাচ্ছে। এক সময় গ্রিন জ়োন থেকে অরেঞ্জ হওয়া বীরভূমে বর্তমানে শুধু সংক্রমণের গতিতে লাগাম পরাই নয়, করোনা-চিত্রের আমূল উন্নতি হয়েছে এই জেলায়। ৬ মে থেকে ৭ জুলাই—এই দু’মাসকে দু’ভাগে ভাগ করে ছবিটা দেখলেই সেটা মালুম হয়।  

স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, বীরভূমে মে মাসের ৭ তারিখ যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭, সেখানে জুনের ৭ তারিখের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২০০ পেরিয়ে গিয়েছিল। ৯ জুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৩৪। ওই গতিতে সংক্রমণ হলে বীরভূমে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছুঁয়ে যেত।

কিন্তু আশাব্যাঞ্জক ভাবে পরের ২৮ দিনে দিনে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে  মাত্র ৫৮ জন। গত পাঁচ দিনে নতুন করে আক্রান্ত মাত্র ৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮০ জন। সেটাই সবেচেয়ে স্বস্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসনকে।

তাই বলে সতর্কতা থেমে নেই। সম্ভাব্য করোনা রোগী চিহ্নিত করতে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা নির্ণায়ক আরটিপিসিআর টেস্ট করানো হচ্ছে সিউড়ি জেলা হাসপাতালে। করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়েছে কিনা যাচাই করতে ব্লকে ব্লকে বাসিন্দাদের লালারসের ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সব পুর-এলাকার বিভিন্ন স্থানে কিয়স্ক বসিয়ে পথচলতি ইচ্ছুকদের লালারসের নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিউড়ি শহরে দু-তিন দিনের মধ্যেই সেই কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। অন্য পুর-শহরেও তা কার্যকর হবে। 

 মহকুমাশাসক (সিউড়ি) রাজীব মণ্ডল বলেন, ‘‘বুধবারই এই নিয়ে বৈঠক আছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা, কবে কোথায় কিয়স্ক বসিয়ে পথচলতিদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।’’

জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই। তবে অত্যন্ত ধীর গতিতে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলায় ফিরে আসার সংখ্যা কমতেই করোনা সংক্রমণের গতিতে লাগাম পড়েছে। সুস্থতার হারও যথেষ্ট ভাল এই জেলায়। এখনও পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৯২ জন। তার মধ্যে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় ১৭৮ এবং বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় ১১৪ জন। জেলার দুই কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মাত্র ১১ জন।

আক্রান্তদের প্রায় সকলেই উপসর্গহীন। অজান্তে কেউ আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠছেন কিনা বা সংক্রমণ নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখতেই  লালারসের ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’-এর ভাবনা। ভিন্ রাজ্য থেকে কেউ এলে তার উপরে নজরদারি জারি রেখেছে প্রশাসন। শুধু কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধেই নয়, জেলায় ডেঙ্গি রুখতে সতর্কতা ও বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু হয়েছে। 

তবে এ সবের মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া করোনা চিত্রের মধ্যে গরমিল থেকে যাওয়া নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছ। দু’টি স্বাস্থ্য জেলা দাবি করছে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২৯২ জন। সেখানে  রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা তিনশো পেরিয়ে গিয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন