অবৈধ ভাবে মজুত করে রাখা কাঠ বাজেয়াপ্ত করতে অভিযান চালাল বন দফতর। বুধবার দুপুরে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া ঝালদা ১ ব্লকের পুস্তি গ্রামে অভিযান হয়েছে। এডিএফও (পুরুলিয়া) দেবরাজ সুরের নেতৃত্বে অভিযানকারী দলে ছিলেন ঝালদা, জয়পুর, বাঘমুণ্ডি এবং মাঠা রেঞ্জের আধিকারিকেরা। সঙ্গে ছিল ঝালদা থানার পুলিশ। 

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামে পৌঁছেই দলটি সোজা চলে যায় একটি কাঠের ডিপোর কাছে। সেখান থেকে বারোটি শাল গাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই কাঠ এনে বন দফতরের ঝালদা অফিসে রাখা হয়েছে। বন দফতর জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা প্রায় এক ট্রাক্টর কাঠের বাজার মূল্য আনুমানিক পঁচাত্তর হাজার টাকা। পুস্তি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘ওই এলাকায় রাতের অন্ধকারে প্রায় দিনই কাঠের চোরাকারবার চলে। লাগাতার অভিযানের পরে ইদানীং সেটা কিছুটা কম হয়েছিল। কিন্তু একেবারে বন্ধ হয়নি।’’ 

এলাকার কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জঙ্গল থেকে রাতের অন্ধকারে সুবর্ণরেখার পার করে কাঠ নিয়ে আসে মাফিয়ারা। বন দফতর এবং পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সেই কাঠ পৌঁছে যায় বিভিন্ন মিলে। সেখানে চেরাই হয়ে পাচার হয়ে যায়। বন দফতরের একটি সূত্র দাবি করেছে, সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলার আড়শা বনাঞ্চলেও একই কায়দায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে মজুত কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার পর থেকেই জেলা জুড়ে কাঠের চোরাকারবার রুখতে উঠেপড়ে লেগেছে দফতর। পুস্তি এলাকার যে বাসিন্দার জায়গায় ওই কাঠ মজুত ছিল, তার মালিক কলিম আনসারিকে তিরিশ দিনের মধ্যে কাঠ মজুত রাখার প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে নোটিস জারি করেছে ঝালদা বন দফতর। ডিএফও (পুরুলিয়া) রামপ্রসাদ বাদানা বলেন, ‘‘গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়েছি। সাফল্য মিলেছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই এই ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান নিয়মিত চলবে।’’