পিঁপড়ের বাসার মাটি, নারকেল তেল ও তুলসি পাতার মিশ্রণ ব্যবহার করে মশা তাড়ানো যেতে পারে। আবার হাতের কাছে পাওয়া সহজলভ্য খাবারেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টি মিলতে পারে। এমনই নানা ভাবনা উঠে এল পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের ভাবনায়। মঙ্গলবার পুরুলিয়া জেলা স্কুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসের জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় এমনই নানা তথ্য তুলে ধরেন খুদে বিজ্ঞানীরা।

পিঁপড়ের বাসার মাটি, নারকেল তেল এবং তুলসি পাতার মিশ্রণ দিয়ে কী ভাবে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে তা তুলে ধরেন পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা। এই মিশ্রণে কোনও রাসায়ণিক মেশানোর প্রয়োজন পড়ে না। ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। কাশীপুর জে কে এম গার্লস স্কুলের এক ছাত্রীর ভাবনায় উঠে এসেছে— রান্নাঘরের সহজলভ্য বা বাজারে সস্তা যে সমস্ত খাবার জিনিস পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করে এক দিকে যেমন পুষ্টিগুণ মিলতে পারে, অন্য দিকে, তা শরীরকেও নীরোগ রাখতে পারে।

জঙ্গলে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে মহুয়া ফুল বা ফল মেলে। তা বাজারে বিক্রিও করেন অনেকে। বরাবাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা দেখায়, মহুয়া ফুলের জ্যাম-জেলি কিংবা মহুয়া ফলের আচারও তৈরি করে রাখা যায়। এই জ্যাম-জেলির এক দিকে দাম কম, উল্টো দিকে পুষ্টিগুণও অনেক বেশি। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও সক্ষম।

পুরুলিয়া রাষ্ট্রীয় উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জানায়, পুরুলিয়া জেলা ফাইলেরিয়া অধ্যুষিত একটি জেলা। মশা কী ভাবে এই রোগ ছড়াতে পারে, রোগের বাহক মশা প্রতিরোধ করা এবং ফাইলেরিয়া রোগ কী ভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে, তারা তা জানায়।

উদ্যোক্তাদের তরফে দেবাশিস মণ্ডল বলেন, ‘‘ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কমিউনিকেশন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ৩০টি স্কুলের পড়ুয়ারা ২৫তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসের জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। সফল প্রতিযোগীরা রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় যোগ দেবে।’’