কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানের নামে প্রথম বর্ষের দুই পড়ুয়ার থেকে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠল কলেজেরই কয়েকজন সিনিয়র পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়ায় বাঁকুড়ার কালপাথর এলাকার বাঁকুড়া গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজে। অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে কলেজে বিক্ষোভ দেখান সিনিয়র পড়ুয়ারা। পুলিশ গেলে বিক্ষোভ তুলে নেন তাঁরা। 

কলেজ সূত্রের খবর, প্রথম বর্ষের পড়ুয়া এক ছাত্র এবং এক ছাত্রীর থেকে কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য সিনিয়র ছাত্রেরা দেড় হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ। দাবি না মানায় সিনিয়র পড়ুয়ারা তাঁদের ‘র‌্যাগিং’ করে বলে অভিযোগ করেন ওই দুই পড়ুয়া। 

সূত্রের খবর, প্রথমে তাঁরা কলেজের ‘হেল্প লাইনে’ ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার দু’জনেই লিখিত ভাবে ঘটনাটি কলেজের অধ্যক্ষকে জানান। তাঁদের অভিযোগ, “আমাদের দু’জনের থেকে মোট তিন হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। আমরা দিতে অস্বীকার করার পরেই আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। মানসিক অত্যাচার শুরু করে সিনিয়র ছাত্রদের একাংশ। আমরা বিষয়টি অধ্যক্ষের কাছে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।’’ 

কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই এ দিন সিনিয়র পড়ুয়াদের একাংশ বিক্ষোভ  দেখাতে শুরু করেন। কলেজের অধ্যক্ষ বারবার বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া দেননি সিনিয়র ছাত্রেরা। ঘণ্টা খানেক বিক্ষোভ চলার পরে কলেজে পৌঁছয় পুলিশ। তার পরে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। 

অভিযুক্তদের দাবি, জোর করে কারও থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল না। আগামী তিন বছর ধরে কলেজে নানা অনুষ্ঠান হবে। তার জন্য পড়ুয়াদের থেকে সাহায্য নেওয়া হচ্ছিল। কেউ দিতে না চাইলে জোর করা হচ্ছিল না।

এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ওই কলেজের অধ্যক্ষ কৃপাময় মণ্ডল বলেন, “এক ছাত্র এবং এক ছাত্রী পৃথক ভাবে আমার কাছে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছে। আমি নিয়ম মাফিক পুলিশের কাছে অভিযোগ দু’টি পাঠিয়েছি।’’ 

যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিকেল পর্যন্ত তাদের কাছে র‌্যাগিংয়ের কোনও অভিযোগ এসে পৌঁছয়নি। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের আধিকারিকেরা।