শ্রমিক নেতা থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতির আসনে। দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া জেলা তৃণমূলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়ার সভাধিপতির কুর্সিতে বসার সুযোগ পেলেন।

পুঞ্চার লাখরা গ্রামের বাসিন্দা সুজয় আসানসোলের বিধানচন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। বার্নপুরে শ্রমিক নেতা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। ঠিকাদার মজদুর কংগ্রেসের হয়ে কারখানার গেট থেকে তাঁর আন্দোলনময় জীবনের শুরু। প্রথমে যুব কংগ্রেস, পরে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক থেকে প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য হিসেবেও কাজ করেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গঠনের পর সুজয় সেই দলে চলে আসেন। সেই থেকে পুরুলিয়ায় তৃণমূলের সংগঠন তৈরিতে যে ক’জন মাটি কামড়ে ছিলেন, সুজয় তাঁদের অন্যতম।

ঝড়ঝাপটাও কম যায়নি। সিপিএমের তৎকালীন পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক নকুল মাহাতোর খাসতালুক পুঞ্চায় বিরোধী রাজনীতির ঝান্ডা বইতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মামলায় জেলও খাটতে হয়েছে তাঁকে। থেমে যাননি। দলেও একাধিকবার কোণঠাসা হয়েছেন। হাল ছাড়েননি। অনুগামীরা বলছেন, তারই স্বীকৃতি এল এতদিনে।

তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, একশো দিনের কাজে অন্য জেলার তুলনায় পুরুলিয়ার শ্রমিকদের শক্ত মাটি কাটতে হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য জেলার শ্রমিকেরা যতটা পরিমাণ মাটি কাটলে একটি শ্রমদিবসের মজুরি পান, পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে সেই মাপকাঠি কম করার দাবিতে সুজয় ব্লকে ব্লকে আন্দোলন করে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে নেন। ১৯৮৮ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে জেলা পরিষদে হারেন। আর হারেননি। বিদায়ী জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু, তাঁর কাজ নিয়ে সে ভাবে অভিযোগ শোনা যায়নি। আগাগোড়া নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রক্ষা করে গিয়েছেন। কর্মীরা বলছেন তারই পুরস্কার— সভাধিপতির কুর্সি!