সিউড়িতে বিজেপি-র ধর্না-মঞ্চ থেকে যখন তৃণমূলের জেলা নেতাকে ‘থানার সামনে ফেলে পিটিয়ে মারার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই পাশের জেলার কাটোয়ায় পুলিশকে ‘অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের’ সঙ্গে তুলনা করে বিতর্ক তৈরি করলেন বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। বুধবার জোড়া হুমকিতে আরও একপ্রস্ত চড়ল জেলা-রাজনীতির পারদ।

নানুরে বিজেপি কর্মী খুনের পরে পুলিশ এবং শাসকদলের চাপানউতোর প্রথম থেকেই চলছিল। এমন আবহে তৃণমূলের জেলা কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল মান্নানের নাম করে হুমকি দিলেন বিজেপি প্রাক্তন জেলা সভাপতি, বর্তমানে বিজেপির লিগ্যাল সেলের আহ্বায়ক নির্মল মণ্ডল। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘তোমাকে ওই (লাভপুর) থানার সামনে ফেলে মারব, পিটিয়ে মারব। সেই দিন তোমাকে কেউ বাঁচাবে না। এসপি-ও না।’’ মান্নানের প্রতিক্রিয়া, ‘‘কথাটা বেআইনি কিনা এসপি সাহেব দেখবেন। আর ওরা যত তাড়াতাড়ি খুন করবে, তত তাড়াতাড়ি ভগবানের কাছে যাব। ভগবান যেন ওঁদের মঙ্গল করেন।’’

এ দিন নিহত বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াইয়ের দেহ আনা হয় কাটোয়ায়। সেখানে ছিলেন বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল ও দলীয় কর্মীরা। শ্যামাপদ দাবি করেন, ‘‘যখন স্বরূপকে গুলি করা হচ্ছে তখন মাঝে পুলিশ, পিছনে তৃণমূল, আগে তৃণমূল। যখন স্বরূপের বৃদ্ধ বাবার হাত, পা ভাঙা হচ্ছে তখনও পুলিশ পেছনে। এমন পুলিশকে সবক শেখাতে আমার আর মাস পাঁচ-ছয়েক সময় লাগবে।’’

পাল্টা জবাব মিলেছে পুলিশের তরফেও। জেলার পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহের কথায়, ‘‘কোনও রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেব না। তবে একটা কথা বলতে চাই, আইন হাতে নিলে পুলিশ রং-না দেখে ব্যবস্থা নেবে। মঙ্গলবার বোলপুরের সিয়ান হাসপাতাল চত্বরে যাঁরা ভাঙচুর করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবে পুলিশ। নানুরের খুন, বোমাবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।’’

কর্মী-খুনের প্রতিবাদে সোমবার থেকে জেলা পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত দিন ধরে সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এ দিনও পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে ধর্নায় বসেন কর্মী, নেতারা। উপস্থিত ছিলেন 

প্রাক্তন জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়, বিজেপি নেতা কালোসোনা মণ্ডল, প্রাক্তন জেলা সম্পাদক পলাশ মিত্র-সহ অন্য নেতাকর্মীরা।