তারাপীঠে লজের বাথরুম থেকে রহস্যজনক ভাবে পড়ে গুরুতর জখম হল এক যুবক। রবিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। তড়িঘড়ি যুবককে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কোমরে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত আছে। সোমবার পরিজনেরা কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করায়। কী ভাবে এমন হল তা জানতে যুবকের সঙ্গী তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই রামপুরহাট থানায় নিয়ে আসে। 

পুলিশ জানায়, বছর কুড়ির ওই যুবকের নাম লক্ষ্মণ মণ্ডল। পেশায় গাড়ি চালক। বাড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙড়ের ভোজেরহাট এলাকায়। রামপুরহাট থানার কবিচন্দ্রপুর মোড় লাগোয়া তারাপীঠের ওই লজের ম্যানেজার শ্রীকৃষ্ণ দাস জানান, ওই যুবক সহ সাত জন রবিবার বিকেলে লজে উঠেছিলেন। একদিনের বুকিং ছিল। চারতলার একটি বড়ঘর ভাড়ায় নিয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবাবুর কথায়, ‘‘রাত পৌনে বারোটা নাগাদ আচমকা জোর শব্দ শুনে বেরিয়ে দেখি চারতলায় বাথরুমের  কাঁচ ভেঙে এক জন নীচে পড়ে গিয়েছে। কেউ এ ভাবে পড়ে গিয়েছে আগে শুনিনি।’’ 

পুলিশ সূত্রের খবর, লক্ষ্ণণ প্রথমে কেবিলের তারে পড়ে তার পরে নীচে পড়ে। তার জন্য আঘাত গুরুতর হলেও অঘটন ঘটেনি। রাম মণ্ডল নামে যুবকের এক ভাই বলেন, ‘‘মদ খেয়ে দাদা আমাদের সঙ্গেই থাকা তিন জনের সঙ্গে তর্কাতর্কি করছিল। এক সময় একাই বাথরুমে ঢোকে। তার পরে কী ভাবে বাথরুমের জানালার কাচ ভেঙে নীচে পড়ে গেল বুঝতে পারছি না।’’ সোমবার সকালে জখম যুবককে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠার সময় লক্ষ্ণণ বলেন, ‘‘বাথরুমে গিয়েছিলাম। তার পরে কী হয়েছে বুঝতে পারছি না।’’ 

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, অতিরিক্ত মদ খেয়েই ওই কাণ্ড। পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।