ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিন দু’য়েক আগেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। বীরভূমের পাইকর থানার নয়াগ্রামের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের সেই রবিউল ইসলামকেই ইসলামিক স্টেট (আইএস) অনুপ্রাণিত বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি-র সদস্য সন্দেহে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। 

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত অন্য তিন জন মহম্মদ জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন, মামুনুর রশিদ, মহম্মদ শাহিন আলম ওরফে আলামিন বাংলাদেশের বাসিন্দা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এরিয়া থেকে মহসিন ও মামুনুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই দু’জনকে জেরা করে পুলিশ আরও দু’জনের খোঁজ পায়। হাওড়া স্টেশন থেকে আলামিন ও রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এলাকায় গিয়ে জানা গেল, ২০১৪ সালে রবিউল ও তাঁর দাদা জুলফিকার শেখ রাজমিস্ত্রির কাজে কাশ্মীর যায়। সেখানে খাগড়াগড়-কাণ্ডে বারামুলার থানার পুলিশ জুলফিকার শেখকে আটক করে। ২৩ দিন আটক থাকার পরে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার পরে দুই ভাই আসানসোলে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। এ বছরের ইদের সময় বাড়ি এসেছিল। পরিবার সূত্রের খবর, ১৩ জুন হাওড়া যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পর দিন রাতে ফিরবে বলে ফোন করে বাড়িতে জানায়। আর যোগাযোগ হয়নি। ২২ জুন রবিউলের বাবা এরজাহান শেখ পাইকর থানায় মিসিং ডাইরি করেন।

স্থানীয়েরা জানালেন, রবিউলদের অভাবের সংসার। মাটির বাড়ি। রবিউলকেও খেটে খাওয়া ভাল ছেলে বলে চেনেন। মিত্রপুর হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে। মঙ্গলবার পাড়ার ছেলের গ্রেফতার হওয়ার খবর শুনে অনেকে এসেছিলেন। এরজাহান শেখ বলেন, ‘‘এর আগেও আমার এক ছেলেকে জঙ্গি সন্দেহে ধরেছিল। পরে ছেড়েও দেয়।’’ রবিউলের স্ত্রী মাজকুরা বিবি বলেন, ‘‘ও কী করেছে জানি না। রাজমিস্ত্রির কাজ করত। আমাদের বাড়িতে কোনও দিন কোনও লোকজন আসেনি। আমি গর্ভবতী। বাড়িতে রান্না হচ্ছে না। বড়ো বিপদ হয়ে গেল।’’