পালা দেখাতে যাওয়ার পথে ছৌ দলের গাড়ি উল্টে জখম হলেন তিন শিল্পী।

সোমবার রাতে মানবাজার-পুঞ্চা রাস্তায়, পুঞ্চা থানার বুধপুর সেতুর বাঁকের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই রাতেই গুরুতর জখম এক শিল্পীকে জামশেদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মানবাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি থাকা আরও দু’জনকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

বরাবাজারের কুটরা গ্রামের ‘কুটরা রাধাকৃষ্ণ শবর সমিতি’ ছৌ নৃত্য দল পালা দেখাতে পুরুলিয়ার কাশীপুর রওনা হয়েছিল। দলের অন্যতম শিল্পী ফটিক কর্মকার জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তাঁদের ২৭ জনের দল একটি মিনি ট্রাকে চড়ে গ্রাম থেকে রওনা দেয়। কেবিনে তিন জন বসেছিলেন। অন্যদের সঙ্গে ফটিকবাবু গাড়ির উপরে বাঁশের মাচায় বসেছিলেন। মাচার তলায় ছিল মুখোশ, ধামসা-মাদল ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ও সাজসজ্জা। তাঁর কথায়, ‘‘মানবাজার পেরিয়ে পুঞ্চা থানার সীমানা ঢোকার মুখে কংসাবতী নদীর উপর একটি সেতু রয়েছে। সেখানকার রাস্তা ভাল থাকায় তাঁদের গাড়ি বেশ গতিতেই ছিল। গাড়িটা ডান দিকে যেতে যেতে হঠাৎ বেসামাল হয়ে বাঁ দিকে বাঁক নিল। আবার ডান দিকে বাঁক নিতে গিয়ে উল্টে গেল। আমরা একে অনন্যের উপরে ছিটকে পড়ি। মুখোশ, বাদ্যযন্ত্র উল্টে অনেকের উপরে আছড়ে পড়ে। তারপরে কিছু মনে ছিল না।’’ পরে তিনি জানতে পারেন, কেউ তাঁকে গাড়ির তলা থেকে টেনে বের করেন।

বুধপুর গ্রামের বাসিন্দা নবীন বাউরি, সমর বাউরি বলেন, ‘‘তখন রাত প্রায় ন’টা বাজে। হঠাৎ বাঁকের মাথায় কিছু যেন একটা আছড়ে পড়ার শব্জ শুনতে পাই। তারপরেই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে আর্তনাদ কানে আসে। তখনই বুঝে যাই কোনও গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছে। পড়িমড়ি করে আলো নিয়ে আমরা সবাই ছুটে যাই।’’

কুটরা গ্রামের কৈলাস মাহাতোকে জামশেদপুরে চিকিৎসার জন্যে পাঠানাও হয়েছে। পরে মঙ্গলবার সকালে আরও দুজনকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সকলের অবস্থা স্থিতিশীল।

মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও দুর্ঘটনায় পড়া গাড়িটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পরেই চালক পালিয়েছেন। পুঞ্চা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ছৌ দলের গাড়ির চালক সামনে এতটা যে বাঁক রয়েছে, মনে হয় অনুমান করতে পারেননি। সোজা এসে বাঁ দিকের বাঁক বুঝতে না পারার জন্যে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। তবে বুধপুর গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে হাত লাগানোয় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা মিলেছে। স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়াররা দ্রুত থানায় জানিয়েছিলেন।