ব্যবসার কাজে জায়গা ব্যবহারের জন্যে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠল জেলা পরিষদের প্রাক্তন খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা ময়ূরেশ্বর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জটিল মণ্ডল সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। জটিলবাবু অবশ্য ওই অভিযোগ মানেননি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণেই এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। ঘটনাটি ময়ূরেশ্বরের নারায়ণঘাটির।

প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণঘাটি মৌজায় ৬০১ নম্বর দাগে সিউড়ি-বহরমপুর সড়কের পাশে প্রায় ১ বিঘা ১৪ কাঠা এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি পুকুর ছিল। সরকারি নথিতে সেটি এখনও পুকুর হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনও পুকুর নেই। রয়েছে বালির পাহাড়।

শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, যন্ত্রের সাহায্যে স্তুপীকৃত করে রাখা হচ্ছে বালি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, লাগোয়া ময়ূরাক্ষী নদী থেকে বালি তুলে এনে সেখানে মজুত করে রাখা হচ্ছে। বালি রাখার জন্যেই পুকুর বুজিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

সরকার নথি অনুযায়ী ওই পুকুরের ০.১৫ অংশের মালিকানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জটিলবাবুর ছেলে তথা ‘ভিলেজ পুলিশ’ শুভেন্দু মণ্ডলের নামে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুকুর ভরাট করা হয়েছে। ওই এলাকার আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা মাতলি হাঁসদা, পানমনি মাড্ডির নালিশ, ‘‘আগে ওই পুকুরের জল নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কাজে ব্যবহার করতাম। কিন্তু পুকুর বুজিয়ে দেওয়ায় দূরের নদীতে যেতে হচ্ছে।’’

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন অনুযায়ী রেকর্ডভুক্ত জলাশয় তো বটেই, প্রাকৃতিক কোনও জলাশয়ের পরিমাণ যদি ন্যূনতম ৩ কাঠা হয়, তা হলে সেই জলাভূমি ভরাট করা বেআইনি। কারও বিরুদ্ধে পুকুর ভরাটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের খরচে পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হয়। অভিযুক্ত তা না করলে প্রশাসনকেই ওই কাজ করতে হবে। তার খরচ মেটাতে হবে অভিযুক্তকে। এ জন্য প্রতি ব্লকে একটি করে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্য বিডিও, বিএলএলআরও, ওসি, ব্লক মৎস্য অধিকর্তা। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, ভরাট করা পুকুর থেকে কিলোমিটার খানেক দূরত্বেই রয়েছে ওই সব আধিকারিকদের দফতর।

জটিলবাবু অবশ্য পুকুর ভরাট করে বালির ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘১২ জন মালিকের মধ্যে পুকুরের একটি অংশ আমার ছেলের নামে রয়েছে। পুকুরটি ভরাট করা হয়নি। বন্যায় ভরাট হয়ে গিয়েছে। আমরা কেউ বালির ব্যবসাও করি না। এক বালি ব্যবসায়ীকে জায়গাটি ভাড়া দিয়েছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’ একই দাবি করেছেন পুকুরের অন্য অংশীদার নয়ন মণ্ডল, বুদ্ধদেব মণ্ডল, রজত রায়। 

এ কথা মানতে নারাজ বিজেপির ময়ূরেশ্বর ২ মণ্ডল কমিটির সভাপতি সন্দীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকায় ২০০০ সালে শেষ বার বন্যা হয়েছিল। এলাকার মানুষ বছরখানেক আগেও ওই পুকুর ব্যবহার করেছেন। তা ছাড়া বন্যায় সাধারণত পলিমাটি বা বালিতে ভরাট হওয়ার কথা। কিন্তু ওই জায়গাটি এখন খুঁড়লে মাটি উঠে আসবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ময়ূরেশ্বর ২ ব্লকের বিডিও অর্ণবপ্রসাদ মান্না এবং বিএলএলআরও সুজিত বিশ্বাসের সঙ্গে চেষ্টা করেও ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। এসএমএসেরও উত্তর মেলেনি। রামপুরহাটের এসডিএলএলআরও সুব্রত সরকার এবং জেলা সহকারী মৎস্য অধিকর্তা শুভেন্দু চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন।