দু’দিন আগেই পঞ্চায়েত ভবনে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। এ বার সেই পঞ্চায়েত এলাকারই এক তৃণমূল নেতার বাড়ির চালে বোমা মারার অভিযোগ উঠল বিজেপি-র কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় ওই নেতা এখন সস্ত্রীক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশেই বিজেপি ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পুলিশ জানায়, ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।

ঘটনাটি লাভপুরের বিপ্রটিকুরি পঞ্চায়েতের। তৃণমূলের প্রধানের অভিযোগ ছিল, তিনি তোলা দিতে অস্বীকার করায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা শুক্রবার বিকেলে পঞ্চায়েতে হামলা চালায়। বিজেপি অবশ্য বিষয়টিকে তৃণমূলের ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেন। শনিবার রাতে ওই পঞ্চায়েতেরই আমনাহার গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি জিতেন্দ্রনাথ দাসের বাড়ির চালে দুষ্কৃতীরা বোমা মারে বলে অভিযোগ। ভেঙে পড়ে অ্যাসবেস্টসের চাল। আহত হন জীতেন্দ্রনাথবাবু এবং তার স্ত্রী পরিণীতাদেবী। রাতেই তাঁদের লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। জিতেনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যে ঘরে শুয়েছিলাম, রাত ১১টা নাগাদ সেই ঘরের চালের উপরেই বোমা পড়ে। আমাদের উপরেই ভেঙে পড়ে চাল। বোমা এবং ভেঙে পড়া চালের আঘাতে আমরা দু’জন আহত হই।’’

তৃণমূলের বিপ্রটিকুরি অঞ্চল সভাপতি শেখ ইসমাইলের দাবি, ‘‘জিতেনবাবু আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী। বিজেপির লোকেরা তাঁকে দলত্যাগের জন্য নানা হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু তিনি তা গ্রাহ্য করেননি। সেই আক্রোশেই বিজেপির লোকজন তাঁর বাড়িতে বোমা মারে।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি-র স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। তৃণমূল আমাদের ফাঁসাতে নিজেরাই ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। নয়তো ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই ওই ঘটনা ঘটেছে।’’

তৃণমূলেরই একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘কাটমানি’ নিয়ে দলেরই একটি গোষ্ঠীর ক্ষোভ ছিল জিতেনবাবুর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের লাভপুর ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী অবশ্য ওই তত্ত্ব মানেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দলে কোনও গোষ্ঠী নেই। তাই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও প্রশ্নই আসে না।’’