আশ্বিনের সকালে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতাদের একাংশ। আজ, মঙ্গলবার কলকাতায় বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়েছে জেলার বিভিন্ন ব্লকের তৃণমূল সভাপতিদের। কী নিয়ে আলোচনা হবে, সেই ব্যাপারে কোনও আঁচ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির শুরু হওয়ার পরে কলকাতায় ডাক এই প্রথম। ফলে, ‘দিদিকে’ কে কী বলেছেন, তা নিয়ে একটা চাপা চিন্তা রয়েছে অনেকেরই। বাতাসে ভাসছে নানা জল্পনা। 

লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পরে সাধারণ মানুষের নালিশ শুনতে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চালু করেছে তৃণমূল। এই কর্মসূচির সূচনার দিনে ডাক পেয়েছিলেন ব্লক সভাপতিরা। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কর্মসূচির নাম লেখা টি-শার্ট ও প্রচারের কার্ড। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তৃণমূল কর্মীরা এই কর্মসূচির প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন। তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, এই ক’মাসে জেলা থেকে ভুরি ভুরি অভিযোগ ফোন করে জানানোও হয়েছে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির নম্বরে। 

আজ, মঙ্গলবার রাজ্য নেতৃত্ব বাঁকুড়া-সহ অন্য জেলার ব্লক সভাপতি ও জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন। এই পরিস্থিতিতে কোন জেলা থেকে কত অভিযোগ উঠে এসেছে, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া হবে কি না সেই জল্পনা চলছে রওনা হওয়ার আগে। বাঁকুড়ার এক ব্লক সভাপতি বলেন, “দিদিকে বলো-র নম্বরে ফোন করে অনেকেই নানা অভিযোগ জানিয়েছেন বলে শুনেছি। রাজ্য নেতৃত্ব এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুললে কী উত্তর দেব, তা আগাম ভেবেই বৈঠকে যাচ্ছি।” জেলার পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত একটি ব্লকের তৃণমূল সভাপতি বলেন, “সরাসরি আমার বিরুদ্ধে কেউ কোনও অভিযোগ জানাবেন না বলে আমি নিশ্চিত। তবে এলাকার কিছু নেতার বিরুদ্ধে নালিশ জানানো হয়েছে বলে শুনেছি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যা সত্য, তা-ই বলে আসব।”

বাঁকুড়া শহরের এক তৃণমূল নেতার আবার জানাচ্ছেন, শহরের অনেকেই পুরপরিষেবা নিয়ে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হলে পুরভোটের মুখে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন পুরসভার কর্তারা। জেলার জঙ্গলমহলের একটি ব্লকের সভাপতি বলেন, “দিদিকে বলো নম্বরে অভিযোগ কিছু গিয়ে থাকলে সেগুলি শুধরে নেব।” যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের একটা বড় অংশেরই অভিমত, বৈঠকে ‘দিদিকে বলো’-তে আসা অভিযোগ নিয়ে তেমন আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং নতুন করে এই কর্মসূচির প্রচারে জোর দেওয়ার বিষয়েই দল বলতে পারে বলে তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন। 

তবে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দলে জোর জল্পনা দানা বাঁধেছে বলে টের পেয়েছেন জেলা নেতৃত্বও। তৃণমূলের বাঁকুড়া সংসদীয় জেলার সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল বলেন, “বৈঠকে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে উঠে আসা অভিযোগ নিয়ে কাটাছেঁড়া হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কায় আছেন। এটা শুভ লক্ষণ। কারণ, বাবা-মা কড়া হলে সন্তানেরা বখাটে হওয়ার সাহস 

পায় না।” 

বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র আবার কটাক্ষ করছেন, ‘‘দিদির ভাইয়েরা যে পরিমাণ বিগড়ে গিয়েছেন, তাতে এখন আর তাঁদের ঠিক পথে ফেরানো মুশকিল। মানুষ এ বার ওঁদের নির্বাসনে পাঠানোর 

প্রহর গুনছেন।”