তৃণমূল দাবি করছে, শান্তি মিছিল। কিন্তু, সেই মিছিলেই দলের কর্মী-সমর্থকদের হাতে দেখা গেল বাঁশ, লাঠি। মিছিল শেষে পথসভা থেকে ‘প্রতিশোধ’-এর হুমকিও শোনা গেল ব্লক স্তরের নেতার মুখে। 

রবিবার ইলামবাজারে শান্তি মিছিল বের করে তৃণমূল। ইলামবাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তিন মাথার মোড় থেকে মিছিল বেরিয়ে এলাকা পরিদর্শন করে তিন মাথার মোড়েই শেষ হয়। মিছিলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েক জন কর্মী-সমর্থকের 

হাতে ছিল বাঁশ ও লাঠি।  অনেকের মুখ কাপড় ও গামছা দিয়ে বাঁধা। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। এ দিন মিছিল শেষে ইলামবাজার বাসস্ট্যান্ডে পথসভা করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের 

মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, তৃণমূলের ইলামবাজারের ব্লক সভাপতি ফজলুর  রহমান। 

সেই সভায় ব্লকের সাধারণ সম্পাদক দুলাল রায় বলেন, ‘‘ওরা যদি আমাদের কোনও কর্মীর উপর চড়াও হয় তা হলে  আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিরোধ করব।  ওরা যদি আজকে  বোম চালায়, ওরা যদি গুলি চালায়, ওরা যদি  লাঠি চালায়, ওরা যদি একটা চালায়, আমরা একের পিঠে এক অর্থাৎ ১১ টা 

চালিয়ে তার প্রতিশোধ নেব।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমরা দেখেছি কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কারণে ইলামবাজারকে অশান্ত করা হয়েছে। ফের এলাকাকে অশান্ত করা হলে আমরা তা বরদাস্ত করব না।’’ 

লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইলামবাজারের নানা এলাকা। এ দিন  তৃণমূল নেতার ‘প্ররোচনামূলক’ বক্তৃতায় তা বাড়বে বলে দাবি বিরোধীদের। বিজেপি-র জেলা সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘তৃণমূল 

কেমন শান্তি মিছিল করল, তা এলাকার মানুষ দেখেছেন। মুখে ফেট্টি, হাতে লাঠি-সোঁটা নিয়ে শান্তি মিছিলের নামে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। আর ওদের নেতাদের হুমকি প্রমাণ করে দেয়, তারা কতটা শান্তি চায়।’’ তাঁর দাবি, এই ধরনের কথা বলে এলাকায় আরও অশান্তি বাড়ার পথ প্রশস্ত করছে তৃণমূল। 

দুলালের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ব্লক তৃণমূল সভাপতি ফজলুর রহমানও বলেন, ‘‘গত সাত বছর ধরে এখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে উন্নয়ন  করেছি আমরা। এখন কিছু সিপিএমের লোক বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে  এলাকাকে অশান্ত 

করার চেষ্টা করছে। ওরা মারলে পাল্টা মার হবে। ওরা শুরু করলে আমরা তার শেষ করব!’’