শিকার উৎসবে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা হবে, ভাবেননি তাঁরা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হাত ভাঙার যন্ত্রণা নিয়েও দুই ভাই পুরুলিয়া ১ ব্লকের হীরাখাপ গ্রামের নেপাল মাহাতো ও গণেশ মাহাতো শনিবার দাবি করেন, ‘‘হাতি আসছে দেখে ভয়ে গাছে চড়ে পড়েছিলাম। হাতিটা এসে গাছটা শুঁড়ে পেঁচিয়ে ভেঙে দিল। আমরা গাছ থেকে ঝোপের মধ্যে পড়ে যেতেই হাতিটা চলে গেল। একে পুনর্জন্ম ছাড়া আর কী বলব!’’

শনিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন অযোধ্যাপাহাড়ে শিকার উৎসবে গিয়েছিলেন বহু মানুষ। ওই এলাকায় হাতির একটি দল ঘুরছে বলে বন কর্মীরা তাঁদের সতর্কও করেছিলেন। তা সত্ত্বেও অনেকে শিকার করতে জঙ্গল ঢোকেন। অযোধ্যাপাহাড়ের শিমূলবেড়ার জঙ্গলে দুই ভাই যখন গাছ থেকে পড়ে যন্ত্রণায় ছটকাচ্ছিলেন, সেই সময় ওই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা তাঁদের সঙ্গীরা হাতির ডাকে ছুটে পালাতে গিয়ে চোট পান। আহতদের অযোধ্যাপাহাড়ের হিলটপে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক জয়ন্ত মান্ডি জানিয়েছেন, দুই ভাইয়ের হাত ভেঙেছে। তাঁদের পরে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই দলের কয়েকজন হাতির ভয়ে দৌড়তে গিয়ে পড়ে চোট পান। শিকার উৎসব সব মিলিয়ে নানা ভাবে আহত হয়েছেন মোট ১৭ জন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

ডিএফও (পুরুলিয়া) রামপ্রসাদ বাদানা বলেন, ‘‘আটটি হাতির একটি দল অযোধ্যাপাহাড়ে ঘোরাফেরা করছে বলে এ দিন শিকার উৎসবে যাওয়া মানুষজনকে সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনেকে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকেছিলেন। একটি দল হাতির সামনে পড়ে যায়। গাছে উঠে পড়লেও দাঁতালটি গাছ ভেঙে দেওয়ায় পড়ে গিয়ে দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।’’

নেপালদের থেকে কিছুটা পিছনে ছিলেন কেন্দার বাসিন্দা নীলকমল মাহাতো ও সুভাষ মাহাতো। তাঁরা বলেন, ‘‘জঙ্গলের শুকনো পাতায় সরসর শব্দ পেয়ে ভেবেছিলাম, তাগড়াই কোনও বনশুয়োর শিকার করা যাবে। গাছের আড়ালে উঁকি মারতে যা দেখি তাতে বুক ছ্যাঁৎ করে ওঠে। দেখি, একটি দাঁতাল এগিয়ে আসছে। পালানোর পথ নেই বুঝে দ্রুত গাছে উঠে পড়ে সামনে থাকা ওই দুই ভাই। আমরা গাছের আড়ালে সেঁধিয়ে যাই।’’ তাঁরা দাবি করেন, হাতিটি এসে দুই ভাইয়ের চড়ে পড়া গাছটি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। তারপরে গাছটি ভেঙে দেয়। গাছ থেকে নীচে দুই ভাই পড়ে যান। তারপরেই হাতিটি সেখান থেকে চলে যায়। 

ঘটনার পরে তাঁদের সঙ্গীরা ও আশপাশের লোকজন মিলে আহতদের অযোধ্যা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। দুই ভাইয়ের হাত ভেঙেছে। শরীরের নানা জায়গায় কাটাছেঁড়া 

হয়ে গিয়েছে।