• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

করোনা-আক্রান্ত পুরুলিয়ার দু’জন

Corona
করোনা-আক্রান্তের হদিস পাওয়ার পরে রঘুনাথপুরের গ্রামে পুরুলিয়ার এসপি। নিজস্ব চিত্র

এত দিন পর্যন্ত ‘গ্রিন জ়োন’ পুরুলিয়া জেলায় দু’জন করোনা-আক্রান্তের সন্ধান মিলল।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে এক জন আদ্রা থানার অধীনে থাকা রঘুনাথপুর ১ ব্লক এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা। বছর আঠাশের ওই যুবক সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের থানে থেকে ফিরে ‘কোয়রান্টিন’-এ ছিলেন। পুরুলিয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিলকুমার দত্ত বুধবার বলেন, ‘‘মঙ্গলবার রাতে রঘুনাথপুরের লালারসের পরীক্ষার রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তিনি করোনায় আক্রান্ত।’’ অন্য দিকে, পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, ‘‘বলরামপুরের এক জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বেসরকারি হাসপাতালে আছেন।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র থেকে গত ১৯ মে পুরুলিয়ায় ফেরেন রঘুনাথপুর ১ ব্লকের আদ্রা থানার অধীনে থাকা একটি গ্রামের তিন পরিযায়ী শ্রমিক। দু’জন ফিরেছিলেন থানে থেকে। এক জন পুণে থেকে। এক সঙ্গে ট্রাকে চেপে তাঁরা আসেন ঝাড়খণ্ডে। সেখান থেকে হেঁটে গ্রামে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ওই দিনই জয়চণ্ডী পাহাড়ের যুব আবাসের ‘কোয়রান্টিন সেন্টার’-এ লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের ‘কোয়রান্টিন’-এ।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। তাতে দেখা যায়, থানে থেকে ফেরা এক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত। তবে সোমবার তাঁকে প্রাথমিক স্কুলের ‘কোয়রান্টিন’ থেকে প্রশাসন নিয়ে যায় পুরুলিয়া শহরের কোভিড হাসপাতালে। আপাতত তিনি দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, মহারাষ্ট্র থেকে ফেরা অন্য দুই শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ এসেছে। বিডিও (রঘুনাথপুর ১) অনির্বাণ মণ্ডল বলেন, ‘‘বুধবার আবার ওই দুই শ্রমিকের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’’ প্রশাসন সূত্রের খবর, ওই তিন জনের সঙ্গে গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের ‘কোয়রান্টিন’ করা হয়েছিল রাঁচী থেকে আসা আরও এক শ্রমিককে। তবে এখনও তাঁর কোনও উপসর্গ ধরা পড়েনি।

অন্য দিকে, করোনা-আক্রান্ত বলরামপুরের বছর পঞ্চান্নর ব্যবসায়ী ‘লকডাউন’ পর্বে বাইরে যাননি বলেই পরিবারের দাবি। পরিজনেরা জানিয়েছেন, শনিবার তাঁর বুকে ব্যথা ও ঘাম শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ে যাওয়া হয় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে। সেখানে ‘ইসিজি’ পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি। রবিবার ভর্তি করানো হয় জামেশেদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে করোনা-পরীক্ষা করানো হয়।

ওই ব্যবসায়ীর ছেলে বলেন, ‘‘মঙ্গলবার গভীর রাতে হাসপাতাল থেকে আমরা জানতে পারি, বাবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ এসেছে।’’ তিনি এবং কয়েকজন আত্মীয় এখন ওই বেসরকারি হাসপাতালের ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা জানান, হাসপাতাল থেকে তাঁদেরও লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাড়িতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরও যাতে করোনা-পরীক্ষা করানো হয়, সেই আবেদন জানিয়েছেন ব্যবসায়ীর ছেলে। পুরুলিয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিলকুমার দত্ত জানান, বাড়ির লোকজনের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে লালারস পরীক্ষায় পাঠানো হবে। আপাতত তাঁদের ‘হোম কোয়রান্টিন’ রাখা হয়েছে।

এ দিকে, পুরুলিয়ায় করোনা-আক্রান্তের হদিস পাওয়ার পরেই তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে পুলিশ ও প্রশাসনের। সূত্রের খবর, রঘুনাথপুরের ওই গ্রামের প্রাথমিক স্কুল লাগোয়া এলাকা গণ্ডিবদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে গ্রামবাসীর যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। গ্রামের অন্য এলাকা ‘বাফার জ়োন’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রামে ঢোকার মুখে ব্যারিকেড তৈরি করে বসানো হয়েছে পুলিশি পাহারা। বুধবার ওই গ্রামে যান পুরুলিয়ার পুলিশসুপার এস সেলভামুরুগন এবং প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। দমকলের কর্মীরা গ্রামটি জীবাণুমুক্ত করেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন