• নিজস্ব প্রতিবেদন 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুরুলিয়ায় আক্রান্ত দুই আধিকারিক

Covid-19
প্রতীকী ছবি

পুরুলিয়া মেডিক্যাল ও এক ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চার নার্সের পরে, এ বার করোনা-সংক্রমণ ধরা পড়ল জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের। আক্রান্ত হয়েছেন জেলার এক সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিকও। এ ছাড়া, পুরুলিয়ার জয়পুর থানার চার পুলিশ কর্মী, দুই ইএফআর জওয়ান, দুই সিভিক ভলান্টিয়ার ও দু’জন এনভিএফ কর্মীও আক্রান্ত হয়েছেন। 

অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর শনিবার বলেন, ‘‘এ দিন নতুন করে মোট ১৫ জনের করোনা-আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে এক জন বিএমওএইচ, এক জন সরকারি আধিকারিক ও জয়পুর থানার দশ জন রয়েছেন।’’

পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড সীমানা পেরিয়ে যে সব পরিযায়ী শ্রমিকেরা ভিন্ রাজ্য থেকে পুরুলিয়ায় ঢুকছিলেন, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন ওই স্বাস্থ্য আধিকারিক। কয়েকদিন আগে রুটিন পরীক্ষার জন্য তিনি নিজে লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য দেন। এ দিন তাঁর পরীক্ষা রিপোর্ট ‘পজ়িটিভ’ আসার পরে, ওই স্বাস্থ্য আধিকারিককে আপাতত ‘হোম আইসোলেশন’-এ থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আপাতত অন্য দুই চিকিৎসক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সামলাবেন। এ ছাড়া, আক্রান্ত বিএমএওইচের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে লালারসের নমুনা পরীক্ষা করানো হবে।’’

বিডিও (জয়পুর) বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘জয়পুর থানার ১০ জনের করোনা ধরা পড়ার পরে, তাঁদের জয়পুর কিসান মান্ডিতে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ি ঘিরে ‘কন্টেনমেন্ট জ়োন’ করা হয়েছে। থানায় এ দিন জীবাণুনাশক ছড়ানো হয়েছে।’’ 

জানা গিয়েছে, গত ২৭ জুলাই জয়পুর থানায় কর্মরত ২৭ জনের লালারসের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের করোনা ধরা পড়ে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, যে আধিকারিকের করোনা ধরা পড়েছে, তিনি কয়েক দিন আগে ভিন্‌ জেলার বাড়ি থেকে ফিরে কাজ যোগ দেন। তার পরেই ওই আধিকারিকের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। বিএমওএইচের পরামর্শে তিনি অফিসে যাচ্ছিলেন না। তিনি বাড়ি থেকেই কাজ করছিলেন। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছিল। 

জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘রিপোর্ট পাওয়ার পরেই ওই আধিকারিককে সেফ হাউসে পাঠানো হয়েছে। যে বাড়িতে তিনি থাকতেন, তাকে ঘিরে ‘কন্টেনমেন্ট জ়োন’ করা হয়েছে।’’

অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌জেলা পরিষদ) জানান, বাকি তিন আক্রান্তের মধ্যে এক জন পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা, অন্য দু’জন আদ্রা থানা এলাকার বাসিন্দা। সূত্রের খবর, পুরুলিয়া শহরের ওই বাসিন্দা মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা। কয়েকদিন আগেই ওই এলাকায় সংক্রমণের হদিস মেলার পরে তা ‘কন্টেনমেন্ট জ়োন’-এর আওতায় রয়েছে। এ নিয়ে পুরুলিয়া শহরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩।

বিডিও (কাশীপুর) সুদেষ্ণা দে মৈত্র এবং বিডিও (রঘুনাথপুর ১) অনির্বাণ মণ্ডল জানান, আদ্রার দৌলতপুরের এক রেলকর্মী ও লোয়ার বেনিয়াশোলের এক যুবক করোনা-রিপোর্ট শুক্রবার রাতে পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা লোকজনদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, লোয়ার বেনিয়াশোলের ওই যুবকের পা ভেঙে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি তাঁকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছিল। রঘুনাথপুরের যুব আবাসের সেফ হাউসে তাঁকে রাখা রয়েছে। 

দৌলতপুরের যে রেলকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর আরও কয়েকজন সহকর্মীর ইতিপূর্বে করোনা ধরা পড়েছে। তাঁকে আদ্রার রেলওয়ে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে আদ্রায় মোট করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দাঁডিয়েছে ১৭।

 

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও। 

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন