খুনের দায়ে এক পরিবারের ছ’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ হল পুরুলিয়া জেলা আদালতে। শুক্রবার এই রায় দিয়েছেন জেলা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অরুণকিরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

সরকারি আইনজীবী গৌতম চট্টোপাধ্যায় জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ, পুরুলিয়া মফস্সল থানার বনবালিগাড়া গ্রামে। ওই দিন সকাল ৭টা নাগাদ গ্রামের রাস্তায় হারাধন মাহাতোকে (৪৫) কুপিয়ে খুন করা হয়। তিনি জানান, ২৫ মার্চ গ্রামে একটি ঝামেলা হয়েছিল। তাতে ধনঞ্জয় মাহাতোর স্ত্রী গ্রামেরই এক জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। পুরুলিয়া মফস্সল থানায় গ্রামের কিছু লোকজনকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ছিলেন হারাধন মাহাতো। তিনি পুলিশের সামনে ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তার পরেই ধনঞ্জয় তাঁকে হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ।

গৌতম জানান, ইট বোঝাই গাড়ি এসেছে কি না দেখতে ২৬ তারিখ সকালে সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন হারাধন। ধনঞ্জয় মাহাতোর বাড়ির কাছাকাছি আসতেই ধনঞ্জয় ও তাঁর পরিবারের আরও পাঁচ জন তাঁকে ঘিরে ধরে। কুড়ুল দিয়ে আঘাত করা হয়। এ দিকে, হারাধনের আগেই তাঁর ভাই শত্রুঘ্ন মাহাতোও ইটের গাড়ির খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে দেখেন, ধনঞ্জয়ের পরিবারের লোকজন তাঁর দাদেকে ধরে রেখেছে। ধনঞ্জয় কুড়ুল দিয়ে মারছে। তিনি ছুটে গেলে তারা পালিয়ে যায়। হারাধনের মাথায় চোট ছিল। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। 

এর পরে হারাধনের ছেলে সুনীল মাহাতো ধনঞ্জয় ও তার পরিবারের সদস্য জবারানি মাহাতো, অমূল্য মাহাতো, প্রহ্লাদ মাহাতো, যমুনা মাহাতো ও জানকী মাহাতোর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। তিন মাসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা করে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত ধনঞ্জয় জামিন পাননি। তবে অন্য অভিযুক্তেরা জামিন পেয়েছিলেন।

মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৮ সালের গোড়ায়। শুক্রবার বিচারক অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সঙ্গে পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।