সিউড়ি লাগোয়া হুসনাবাদ গ্রামের স্কুলপড়ুয়া কিশোরকে খুনের অভিযোগে আগেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এ বার অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবিতে   ‘নিহত’ কিশোরের দেহ রাস্তায় রেখে ঘন্টাখানেক পথ অবরোধ ও বিক্ষোভে শামিল হলেন তার পরিজন ও গ্রামের মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ সিউড়ি প্রশাসন ভবনের সামনের  ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, দিনের ব্যস্ত সময় জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এমন বিক্ষোভে নাকাল হন স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার  পুলিশি আশ্বাসে ১১টা নাগাদ বিক্ষোভ  ওঠে। তবে গ্রামবাসী ও মৃতের পরিজনদের হুঁশিয়ারি, দাবি না মিটলে  ফের একই পথে হাঁটবেন তাঁরা। তাঁরা আও জানান, পুলিশ দু’দিন সময় নিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে মত্যু হয় রব আলি খান ওরফে ইমরান খান নামে  হুসনাবাদ গ্রামের  বছর পনেরোর ওই কিশোরের। তার মা রুবিদা বিবি সে দিনই পুলিশের কাছে লিখিত আভিযোগে দাবি করেন, শনিবার রাতে ছেলে তার এক বন্ধুর সঙ্গে সিউড়ির কাঁটাবুনি গ্রামে গিয়েছিল। সেখানে ওই বন্ধুর প্রেমিকার বাবা ও পরিজনেরা ইমরানকে বেধড়ক মারধর করে। মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছিল। আহত ইমরানকে প্রথমে সিউড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার এনআরএসে ‘রেফার’ করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার দুপুরে মারা যায় ছেলে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ ওই কিশোরীর বাবাকে গ্রেফতার করে।

২৪ ঘন্টা পেরোলেও কেন বাকিদের গ্রেফতার করা হল না, তা নিয়ে ক্ষোভ ছিল এলাকাবাসীর। কলকাতা থেকে বুধবার রাতে ইমরানের দেহ ফিরতেই, দেহ নিয়ে বৃহস্পতিবার পথে নামেন ওই স্কুলপড়ুয়ার পরিজন ও এলাকাবাসী। গ্রাম থেকে মৃতদেহ নিয়ে শ’পাঁচেক মানুষ জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের সমস্ত রাস্তা সাইকেল, মোটরবাইক ও টোটো দিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ছিলেন মহিলারাও। তাঁদের দাবি ছিল— হয় পুলিশ কিশোর খুনে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করুক। না হয়, তাঁদের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অনুমতি দিক। শেষ পর্যন্ত পুলিশ  পরিস্থিতি সামলায়।

ইমরানের পরিবার ও এলাকাবাসীর  কথায়— ‘সমবয়সি এক বন্ধুর সঙ্গে শনিবার কাটাবুনিতে গিয়েছিল নবম শ্রেণির ইমরান। ওই বন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল, পুকুরপাড়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করার। সেই সময় ওই মেয়েটির বাবা সদলবলে এসে তাদের উপর আক্রমণ করে। ওই বন্ধু পালাতে পারলেও, ইমরান পারেনি। তাকে রড দিয়ে পেটায় কিশোরীর বাবা ও সঙ্গীসাথীরা।’ 

পিটিয়ে মারার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন, কেউ মারধর করেনি। দু’টি ছেলে পাড়ার মেয়েদের উত্যক্ত করছিল। সেই সময় ওই মেয়েটির বাড়ির লোকেরা তেড়ে গেলে তারা পালিয়ে যেতে গিয়ে দেওয়ালে গিয়ে ধাক্কা মারে। তবে ওই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে মৃত কিশোরের পরিবার।

ইমরানের বাড়ির লোক ও গ্রামবাসীদের ক্ষোভ যে কিশোরের সঙ্গে ইমরান কাটবুনিতে গিয়েছিল, তার উপরেও। অভিযোগ, ‘দিদার বাড়ি যাব’— এই কথা বলে সে ইমরানকে নিয়ে গিয়েছিল। ইমরান আহত হওয়ার পরে মোটরবাইক দুর্ঘটনা বলেও আসল ঘটনা চেপে গিয়েছিল। কিন্তু ওই কিশোর মারা যাওয়ার আগেই গোটা ঘটনা জানতে পারে সকলেই। পুলিশ জানিয়েছে,  ইমরানের বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শহরের অনেকে কিশোর-খুনে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিকে সমর্থন করলেও, যে ভাবে সদর স্তব্ধ করে আন্দোলন করা হয়েছে তা সমর্থন করছেন না। কেউ কেউ বলছেন, কয়েক বছর ধরে নানা কারণে জেলাসদরকে স্তব্ধ করে দিয়ে এ ভাবে আন্দোলন করা হয়েছে। প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত।