গাজনের সন্ন্যাসীদের উপরে ইট ছোড়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বিষ্ণুপুর। মঙ্গলবার গভীর রাতে মটুকগঞ্জ এলাকার ঘটনা। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর চলে পথ অবরোধ। বুধবার এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় অনেক বাড়ির দরজায় তালা ঝুলছে। ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন বাসিন্দাদের একাংশ। যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও আতঙ্কিত। 

মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরের আবরার মাঠে গাজন উপলক্ষে শুরু হয় সূর্যকে ভক্ত সন্ন্যাসীদের অর্ঘ্যদান। রাতে ভক্ত সন্ন্যাসীরা আবরার মাঠ থেকে গোপালগঞ্জ বুড়াশিবের মন্দিরে যাচ্ছিলেন দণ্ডী কাটতে কাটতে। অভিযোগ, রাত ১টা ৪৫ নাগাদ মটুকগঞ্জ প্রিয়বাবুর স্কুলের ছাদ থেকে কে বা কারা আচমকা তাঁদের দিকে ইট পাটকেল ছোড়ে। তাঁদের অভিযোগ, ইটের আঘাতে জখম হন বেশ কয়েকজন। তার পরেই প্রশাসনিক গড়িমসির অভিযোগে শুরু হয় পথ অবরোধ। 

অভিযোগ পেয়ে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দু’জন অভিযুক্তকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার দাবিতে অবরোধে অনড় থাকেন ভক্ত সন্ন্যাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাতেই এলাকার প্রায় দশটি বাড়িতে ভক্ত সন্ন্যাসীদের একাংশ ভাঙচুর চালান। ভেঙে ফেলা হয় ৭টি মোটরবাইক। পানীয় জলের নলকূপ, জলের পাইপ লাইন, পুরসভার শৌচাগারেও তাণ্ডব চলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের ঝালাইয়ের দোকান। শ্যামাপদ কর্মকার নামে ওই বৃদ্ধের দাবি, তিনি ও তাঁর স্ত্রীর রাতে সন্ন্যাসীদের দণ্ডী কাটা দেখে বাড়িতে ঢুকে গিয়েছিলেন। তারপরেই শুনতে পান চিৎকার। ভয়ে বাইরে বেরোননি। শ্যামাপদবাবু বলেন, ‘‘আমি কিছুই জানি না। সকালে দেখি, আমার দোকান কারা ভেঙে দিয়েছে। প্রতি বছরই ছোটখাট ঝামেলা হয়। তবে এ ভাবে রণক্ষেত্র হবে বুঝতে পারিনি।’’ এখানেই শেষ নয়। সকালে দেখা যায়, পুকুরের জলে ডুবছে সাইকেল। ড্রেনে পড়েছে মোটরবাইক। এখানে-ওখানে ছড়িয়ে রয়েছে গৃহস্থালির জিনিসপত্র। এলাকার কিছু মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের আশঙ্কার কথা বলেছেন। 

প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন হল? উত্তরে গোপালগঞ্জ বুড়াশিবতলা ষোলোআনা কমিটির সম্পাদক উদয় দে বলেন, “এটা পরিকল্পিত আক্রমণ। আমাদের ১২টি লাইট বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। ছাদ থেকে বড় বড় ইট ছুড়েছে ভক্তদের লক্ষ করে। পুলিশের অনুমতি নেওয়া সত্বেও কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়েই দায় সেরে ফেলতে চেয়েছে প্রশাসন।’’ আবার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, কিছু না করেই আক্রমণের শিকার হয়েছেন তাঁরা। 

দোষীদের গ্রেফতার করার দাবিতে মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টো নাগাদ মটুকগঞ্জ চৌমাথায় শুরু হয় পথ অবরোধ। বাস চলার রাস্তা গিয়েছে ওই মোড় দিয়েই। অবরোধের জেরে বুধবার দিনভর শহরে কোনও বাস চলেনি। এ দিন বেলায় একদল ভক্ত সন্ন্যাসী মহকুমা দফতরে অবস্থান শুরু করেছিলেন। মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) মানস মণ্ডল ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। অবরোধকারীদের না বোঝাতে পেরে তিনি ফিরে আসেন দফতরে। পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ অবরোধ ওঠে। স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিরা ফেরার। তদন্ত শুরু হয়েছে।