রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাইগন যাত্রার ৯০ বছর উদযাপন করছে ভিয়েতনাম ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি। হ্যানয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগিতায় হ্যানয় শহরে উদযাপন অনুষ্ঠান হবে। সেখানেই ভারত থেকে বিশ্বভারতীর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। ৯০ বছর আগে সে দেশে সফরকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে সমস্ত ছবি বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন আর্কাইভে ছিল, তার মধ্যে থেকে কিছু ছবির প্রতিলিপিও ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ হ্যানয় শহরে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎবাবু। ৩০ মার্চ পর্যন্ত একটি প্রদর্শনীও চলবে সেখানে। মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানান তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাইগন যাত্রা নিয়ে গবেষণা করে ‘‘এ ট্রাভেলার টু সাইগন: রবীন্দ্রনাথ টেগোর ইন ভিয়েতনাম’’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন উপাচার্য। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, ১৯২৯ সালে কবি কানাডা এবং আমেরিকা ভ্রমণে যান। জাপান হয়ে ভারত আসার পথে তিনি ফরাসি সরকারের রাজ্য অতিথি হিসেবে সাইগন ভ্রমণ করেন। সেই সময় সেটি ছিল ইন্দো-চিন, বর্তমানে তাই-ই হয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি। ১৯২৪ সালেই সেখানে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু সেই সময় তিনি যেতে না পারার জন্য তাঁর সহযোগী ইতিহাসের অধ্যাপক কালিদাস নাগ সাইগন গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

আরও জানা যায়, ১৯২৯ সালের ২১ জুন থেকে ২৩ জুন তিনদিনের সফরে সাইগনে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁকে সম্মান জানাতে সেই বছর ২১ জুন দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। বিদ্যুৎবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই বিষয় নিয়ে গবেষণার কাজে রবীন্দ্রভবন বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। এর ফলে দু-দেশের সম্পর্ক আরও ভাল হবে।’’ রবীন্দ্রভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময়ে তোলা কিছু গ্রুপ ছবি, কবির একটি পোট্রেট, কবিকে স্বাগত জানাতে যে বক্তব্য রাখা হয়েছিল সেই ফ্রেঞ্চ ভাষার স্মারকপত্র রবীন্দ্রভবন আর্কাইভে আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঁচটি মহাদেশের ৩০টি দেশে ভ্রমণ করেছিলেন। হ্যানয় উৎসবে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের যোগদান নিয়ে খুশি বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারাও।