শারদ উৎসবে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের পর, জেলা সদরের পুকুরগুলিকে দূষণ মুক্ত রাখায় ছিল পুরসভার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পুকুরগুলি থেকে প্রতিমার কাঠামো  তুলে ফেলানো, একই সঙ্গে পুকুরগুলিতে ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর উদ্যোগ নেয় সিউড়ি পুরসভা। সেই মতো লক্ষ্মী পুজোর পরের দিন থেকেই পুরসভার পক্ষ থেকে পুকুরগুলিকে দূষণ মুক্ত রাখার জন্য কাঠামোর তোলার কাজ শুরু করা হয় কিন্তু তারপরেও জেলা সদরের বেশকিছু পুকুরে এখনও জলের উপর ভেসে আছে খড়ের তৈরি প্রতিমার কাঠামো। একই সঙ্গে জলের উপর ভাসছে ফুল, বেলপাতা, বিভিন্ন ধরনের পচা ফল, প্রতিমার কাপর, অলঙ্কার, শোলার সামগ্রী-সহ অন্যান্য জিনিস। যার জন্য ঘটছে দূষণ দাবি পরিবেশ সচেতন মানুষদের।

শহরবাসীর একাংশ জানিয়েছেন যে, সিউড়ি শহরে পারিবারিক এবং বারোয়ারি পুজোগুলির প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব সম্পন্ন হয়েছে প্রায় দশদিন হল। কিন্তু তারপরেও শহরের কিছু পুকুরের এখনও ভাসছে কাঠামো। মূলত, সিউড়ি সাঁইথিয়া রোডে চৌরঙ্গী ক্লাবের বিপরীত দিকে পুকুরে, মল্লিকগুনাপাড়া থেকে সিউড়ি সাঁইথিয়া বাইপাস যাওয়ার রাস্তার পাশের পুকুরে, পাইপলাইনের কাছে ৬০ জাতীয় সড়কের পাশের পুকুরে,  ইঁদিরাপল্লীর শিবপুকুর-সহ শহরের বেশকিছু পুকুরের চিত্র এখনও অপরিবর্তিত। পরিবেশ সচেতন মানুষদের মতে, কোনও পুকুরে বা জলাশয়ে ওই ধরনের কাঠামো পরে থাকলে  জল দূষণ হয়। কারণ, দীর্ঘ সময় জলে থাকার ফলে খড়গুলি পচে যায়, একই সঙ্গে ফুল, বেলপাতা, পচতে শুরু করে, যা ওই পুকুর বা জলাশয়ের স্বাস্থ্য নষ্ট করে। এছাড়া পুজোর মণ্ডপ সজ্জা বা অন্যকাজে ব্যবহৃত শোলার সামগ্রী, প্লাস্টিকজাত দ্রব্যও ওই পুকুর বা জলাশয়ে ফেলা হয়েছে যার কারণে ঘটছে জল দূষণ। শহরবাসীর একাংশের আরও অভিযোগ যে, কালীপুজোর হাতে গোনা কয়েকটি দিন বাকি। কালীপুজোর পর সেই সমস্ত প্রতিমাও ওই পুকুর বা জলাশয়ে নিরঞ্জন করা হবে। 

একই চিত্র বোলপুর শহরেও। একাধিক জলাশয়ে পরে রয়েছে প্রতিমার কাঠামো-সহ নানা পুজোর সামগ্রী। এর ফলে দূষণ ছড়াচ্ছে জলাশয়গুলিতে। বোলপুরের হাটতলার কালীপুকুর, ভুবন ডাঙ্গারপুকুর , শুড়িপুকুর সহ বেশ কয়েকটি পুকুরে সার দিয়ে প্রতিমার কাঠামো থেকে শুরু করে যাবতীয় জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত জলাশয় থেকে সেই সমস্ত কাঠামো সরানোর ব্যবস্থা করা হয়নি পুরসভার তরফ থেকে। এ বিষয়ে পুরসভার উপ পুরপ্রধান নরেশ বাউরি বলেন, ‘‘পুরসভার তরফ থেকে পুজো উদ্যোক্তাদের বলা হয়েছে জলাশয় থেকে প্রতিমার কাঠামো সরিয়ে নিতে, এখনও যে সমস্ত জলাশয়ে প্রতিমার কাঠামো পরে রয়েছে তা খুব তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।’’

দুর্গা প্রতিমার কাঠামো থেকে শুরু করে বিভিন্ন নোংরা-আবর্জনা ভাসতে দেখা যাচ্ছে নলহাটি পুরসভার বিভিন্ন পুকুরেও। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু দিন পরে ছট পুজো পুকুরগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে নলহাটি পুরসভা। নিয়মিত পুকুরগুলি পরিষ্কার করা হয় না। ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাঁধা পুকুরটি সবুজ শ্যাওলায় ভর্তি রয়েছে। এলাকার মানুষ পুকুরটি ব্যবহার করতে পারছে না। পুকুরের চারিদিকে পলিথিন ও প্রতিমার কাঠামো ভাসছে।

অন্যদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাজার পুকুরের অবস্থাও একইরকম। নোংরা ফেলে পুকুরের জল দূষিত করছে এলাকার মানুষজন। এই পুকুরটির অবস্থা আরও খারাপ। সমস্ত পুকুর সবুজ শ্যাওলায় ভর্তি হওয়ায় পুকুরের জল দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে কোনও আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন। পুকুর পাড়ে নোংড়া ফেলা হয় পুকুরের মধ্যে ভাসছে প্লাস্টিক, সোলার ভাঙা বাক্স, খড় আরও অনেক কিছু। পুকুরগুলি আবর্জনায় ভর্তি থাকার ফলে সরকারের সবুজ শহরের পরিকল্পনা ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদরা।

নলহাটির বাসিন্দা শুভদীপ দাস বলেন, ‘‘বাঁধা পুকুর ও রাজার পুকুর এই দুটি পুকুরের অবস্থা খুব খারাপ। শহর জুড়ে সৌন্দর্যায়ান করা হচ্ছে, অথচ পুকুরের এই অবস্থা শহরবাসীর জন্য দুঃখের। সমস্ত পুকুরগুলি পরিষ্কার করা দরকার।” নলহাটি শহরের বিজেপি নেতা অনিল সিংহ বলেন, ‘‘কোনও কাজ হচ্ছে না। বছরে এক দিন ছট পুজো উপলক্ষে পুকুর সংস্কার করা হয়। স্থায়ী কোনও ঘাট নেই। পুজোর সময় অস্থায়ী ঘাট তৈরি করা হয়। রাজার পুকুরে দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি।’’

নলহাটির পুরপ্রধান রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংহ বলেন, ‘‘শহরের সমস্ত পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে। আবর্জনা পুকুরে ফেলার জন্য পুকুরগুলি নোংরা হচ্ছে। এলাকার মানুষজনকেও সজাগ হতে হবে।’’