যথার্থ সংগ্রামীও

মহাপুরুষ নির্বাচনের মাপকাঠি যে কোনও ব্যক্তির নিজস্ব জ্ঞান বুদ্ধির দ্বারা স্থির হয়, সে ব্যাপারে কারও কোনও বক্তব্য থাকতে পারে না। (‘মহাপুরুষ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে রাজি নই’, অশোক মিত্র, ২৪-১২) শ্রীমিত্র ১৯৬৭ সালের ঢাকুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। সে বছর নির্বাচনের প্রাক্কালে বামপন্থী ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের জন্য দুই কমিউনিস্ট পার্টির সর্বভারতীয় নেতারা বহু বার আলোচনার টেবিলে বসা সত্ত্বেও সে চেষ্টা সফল হয়নি। অশোকবাবু স্বীকার করবেন কি না জানি না, তত্‌কালীন ‘বাম কমিউনিস্ট’ পার্টির নেতারা বাংলা কংগ্রেসের ভূমিকার রাজনৈতিক মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। প্রধানত সেই কারণে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন সম্ভব হয়নি। কিন্তু নির্বাচনের পরে জনগণের রায়ে যখন কংগ্রেস পরাজিত হল, তখন দুই ফ্রন্ট ইউ এল এফ এবং পি ইউ এল এফ বাধ্য হয় সমঝোতা করতে এবং অজয় মুখোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সবাইকেই মেনে নিতে হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতটি বাদ দিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে ঢাকুরিয়া কেন্দ্রের নির্বাচন নিয়ে কোনও মন্তব্য করলে তা ঠিক হবে না বলেই মনে হয়।

এই প্রসঙ্গে অনেকেরই মনে থাকবে যে, প্রমোদ দাশগুপ্ত ঢাকুরিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী সোমনাথ লাহিড়ীর জামানত জব্দ করে দেওয়া হবে বলে হুঙ্কার ছেড়েছিলেন। সোমনাথ লাহিড়ী অবশ্যই সুলেখক ছিলেন, কিন্তু শ্রীমিত্র যদি সেই সঙ্গে উল্লেখ করতেন যে তিনি (সোমনাথ লাহিড়ী) রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রাম শ্রমিক আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য নেতা ছিলেন, তবে শ্রীলাহিড়ীর পরিচয় আজকের প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণ মাত্রা পেত। যত দূর জানি সোমনাথ লাহিড়ীর কোনও বাড়ি বা জমি ছিল না। এমনকী কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ছিল না। শ্রীলাহিড়ীর মতো সর্বহারার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ বিদগ্ধ পণ্ডিত সে যুগেও খুব বেশি ছিলেন না। কমিউনিস্ট পার্টির আদি পর্বে ১৯৩১-এ যে ক্যালকাটা কমিটি গঠিত হয়, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন সোমনাথ লাহিড়ী।

শ্রীমিত্র উল্লেখিত হরিদাস মালাকার জয় ইঞ্জিনিয়ারিং শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত বলি, ওই কারখানায় ধর্মঘট ১৭-১২-১৯৬৩ থেকে ২৭-৫-১৯৬৪ অবধি মোট ৫ মাস ১০ দিন ধরে চলেছিল। জানি না এটা শ্রমিক ধর্মঘটের সর্বোচ্চ রেকর্ড কি না। কিন্তু ১৯৬৭ সালের নির্বাচনী পরিপ্রেক্ষিত মনে রাখলে হরিদাস মালাকারের সমর্থনে সোমনাথ লাহিড়ীর প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথা একটি অলীক কল্পনার ব্যাপার বলেই পরিগণিত হবে।

অঞ্জন ভট্টাচার্য। বল্লভপুর, মেদিনীপুর

 

¶ ২ ¶

সোমনাথ লাহিড়ী শুধু সর্বজনপরিচিত পরমপরিশীলিত সুলেখক ছিলেন না, রেল থেকে টাটানগর অথবা ট্রাম কিংবা গার্ডেনরিচ— তাঁর শ্রমিক আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রটা যথেষ্টই বিস্তৃত। ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের প্রভাবে লাহিড়ী এটাও শিখেছিলেন যে, শুধুমাত্র ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত করলেই কমিউনিস্টের দায়িত্ব শেষ হয় না। সে জন্য তিনি একের পর এক লিখেছেন ও প্রকাশ করেছেন শ্রমিকদের জন্য ইশতেহার-পুস্তিকা-মুখপত্র। শ্রীলাহিড়ী আমৃত্যু চর্চা ও চর্যায় প্রকৃত অর্থে ছিলেন এক জন শ্রেণিচ্যুত কমিউনিস্ট।

ভিষক গুপ্ত। কলকাতা

 

সিজার ও মদন মিত্র

‘জুলিয়াস সিজার’ নাটকের প্রথম দৃশ্যে বিজয়ী সিজারের প্রতি জয়ধ্বনি থামাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল— কীসের জয়, কার বিরুদ্ধে জয় ও কী ভাবে রোম গৌরবান্বিত হচ্ছে?

অভিযুক্ত মদন মিত্রের প্রতি জয়ধ্বনি, ফুলবৃষ্টি ও উলুধ্বনি দেখে কোনও প্রশ্ন উঠল না: মন্ত্রীমশাই কী ভাবে নিজের, দশের বা দেশের গৌরব বাড়াচ্ছেন?

সুজিত ভট্টাচার্য। কলকাতা-৩৩