সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চিকিৎসকের সুরক্ষা

Doctors

রোগীর প্রাণ বাঁচাইবেন যাঁহারা, তাঁহাদের বাঁচাইবে কে? করোনাভাইরাস হইতে হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিদের সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা হইয়াছে কি না সেই প্রশ্নটি ক্রমে তীব্রতর হইতেছে। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই অন্তত তিনটি হাসপাতালে সংক্রমণ হইতে যথাযথ সুরক্ষা দাবি করিয়া বিক্ষোভ দেখাইয়াছেন চিকিৎসক ও নার্সেরা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, হাওড়া জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ, সর্বত্রই অভিযোগ শোনা গিয়াছে যে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া হয় নাই, তাঁহারা সংক্রমণের ঝুঁকি লইয়া কাজ করিতে বাধ্য হইতেছেন। কটু সত্য ইহাই যে, তাঁহাদের আশঙ্কা অযৌক্তিক নহে। সংক্রামক ব্যাধি এড়াইবার উপযুক্ত পিপিই-র অন্তর্গত বিশেষ চশমা, বিশেষ ধরনের কাপড়ের (এন-৯৫) মুখোশ, সমস্ত শরীর আচ্ছাদিত করা পোশাক, জুতা ইত্যাদির কোনও একটি বাদ পড়িলেই কর্মী অসুরক্ষিত থাকিয়া যান। যে হেতু সকল রোগীর মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ গোড়াতেই পরিস্ফুট হইয়া উঠে না, সকলের পরীক্ষার সুযোগও নাই, ফলে কাহার হইতে বিপদ, স্বাস্থ্যকর্মীরা বুঝিতে পারেন না। অতএব, সকল কর্মীর সর্বদা সম্পূর্ণ সুরক্ষা-প্রস্তুতি থাকাই বাঞ্ছনীয়। প্রস্তুতি সম্পূর্ণ না থাকিলে কী হইতে পারে, বিদেশের অভিজ্ঞতা তাহা বুঝাইয়াছে। ইতালিতে অন্তত সতেরো জন চিকিৎসক মারা গিয়াছেন সংক্রমণে, আড়াই হাজারের উপর আক্রান্ত হইয়াছেন। চিনে দুই তরুণ চিকিৎসক-সহ অন্তত আট জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারাইয়াছেন, তিন হাজারের উপর আক্রান্ত। ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীর প্রাণহানির সূচনা হইয়াছে। সুরক্ষা লইয়া টালবাহানা করিবার সময় ইহা নহে।

ঝুঁকি কেবল চিকিৎসকের নহে। এক জন সংক্রমিত চিকিৎসক প্রতি দিন বহু রোগী ও সহকর্মীদের সংস্পর্শে আসেন, কাজেই তাঁহার রোগ বহনের ক্ষমতা যথেষ্ট। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা অসুস্থ হইয়া ঘরবন্দি হইলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়িতে বাধ্য। বিশেষত ভারতের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা বরাবরই চিকিৎসকের অভাবে ক্ষীণবল। রোগীর চাপ বাড়িতেছে অথচ চিকিৎসক কমিতেছে, পরিস্থিতি এমন দাঁড়াইলে কী পরিণাম হইতে পারে, সহজেই অনুমেয়। অতএব প্রয়োজন যথেষ্ট সংখ্যায়, যথাযথ পিপিই। মন্দ মানের সরঞ্জাম বিষয়ে চিকিৎসকদের অভিযোগ তদন্ত করিয়া দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনিক ক্ষমতার পেশিপ্রদর্শনের সময় ইহা নহে। এবং, জানুয়ারি হইতে বিপদবার্তা থাকিলেও যথেষ্ট সংখ্যক পিপিই-র ব্যবস্থা করিতে কেন্দ্রীয় সরকার গড়িমসি করিতেছিল কেন, তদন্ত হওয়া প্রয়োজন তাহা লইয়াও।

ইহা দীর্ঘসূত্রতার সময় নহে। কেন্দ্র এখনও অবধি ষাট হাজার পিপিই রাজ্যগুলিতে পাঠাইয়াছে, আরও পাঠাইবে বলিয়া আশ্বাস দিয়াছে। বিভিন্ন সংস্থার পিপিই উৎপাদনের গতি ও পরিমাণ বাড়িতেছে, আমদানির ব্যবস্থাও হইতেছে। এই ব্যবস্থা জরুরি, কিন্তু যথেষ্ট নহে। সংক্রমণের গতি বলিয়া দেয়, কয়েক দিনের ব্যবধানে রোগ ছড়াইবার নকশা সকল কল্পনাকে অতিক্রম করিতে পারে। মহামারি প্রতিহত করিতে হইলে যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে। হাসপাতালে কর্মরত প্রতিটি ব্যক্তিকে সুরক্ষিত না করিতে পারিলে দেশ সুরক্ষিত থাকিবে না।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন