প্রমাণটা অকাট্য ভঙ্গিতে এল এ বার। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভুয়ো খবরের রমরমা যে বেড়েই চলেছে এবং সেই ক্রমবর্ধমান মিথ্যাচারই যে একের পর এক ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনছে, সে বিষয়ে বার বার সতর্কবার্তা উচ্চারিত হয়েছে আগেও। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ভুয়ো খবর ছড়ানো, ভুয়ো খবরে বিশ্বাস রাখা, ভুয়ো খবরের ভিত্তিতে পরিস্থিতিকে সংবেদনশীল করে তোলা ইত্যাদি দিন দিন বেড়েছে বই কমেনি। এ বার হাতেনাতে ধরা পড়ল সঙ্কীর্ণতায় নিমজ্জিত এক মিথ্যাচার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছিল এক কিশোরের মুখ। সে একটি জাতীয় পতাকা ছিঁড়ছে এবং জানাচ্ছে যে, সে ‘পাক্কা মুসলমান’। ভিডিয়ো সেখানেই শেষ নয়। উত্তেজিত জনতা চড়াও হচ্ছে ওই কিশোরের উপরে এবং তাকে দিয়ে ‘ভারতমাতা কি জয়’, বলিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

যে খবরের উপরে ভিত্তি করে এত কাণ্ড হয়ে গেল, যে খবরের উপরে ভিত্তি করে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াল, যে খবরে ভরসা রেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ল পরস্পর সহাবস্থানকারী দুই জনগোষ্ঠী, অবশেষে দেখা গেল সে সবই মিথ্যা। ‘আমি পাক্কা মুসলমান’ বলে যে ছেলেটি দাবি করছিল ভিডিয়োয়, তদন্তে জানা গিয়েছে, সে ছেলেটি মুসলিমই নয়। ধর্ম বিশ্বাসে সে হিন্দু। যখন ভুয়ো খবর ছড়ায়, তখন কিন্তু যুক্তি-বুদ্ধি-সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। ভুয়ো খবরের থেকে সাবধান থাকাটা তাই অত্যন্ত জরুরি।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

প্রায় রোজ কোথাও না কোথাও এ ধরনের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ছে। ভুয়ো খবর বা অসত্য পোস্ট পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলছে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তা আমরা ছেলেধরা গুজবের সময়েই দেখেছি। একের পর এক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে গুজব কিন্তু কিছুতেই তাকে রোখা যায়নি। ছেলেধরা গুজবের জেরে অনেকগুলো প্রাণহানি ঘটে গিয়েছে। গণপ্রহারে মৃত্যু হয়েছে একাধিক নাগরিকের। তারপরেও আমাদের টনক নড়েনি। ভুয়ো খবর ছড়িয়েছি বা ছড়াতে দিয়েছি বা তা নিয়ে হইচই করেছি বিস্তর।

আরও পড়ুন: জানেন কি, ‘পাক্কা মুসলমান’ বলে পতাকা ছেঁড়া সেই কিশোর আসলে হিন্দু!

দায়িত্ববোধ সম্পন্নের মতো আচরণ করার সময় এখন। যে কোনও খবরে বা  নজরকাড়া তথ্যে বিশ্বাস রাখার আগেও যাচাই করে নেওয়ার সময় আজ। কতটা সাংঘাতিক মিথ্যাচার চলছে, হাতেনাতে তার পরিচয় মিলল। এ  বার অন্তত বিবেচক হয়ে ওঠা জরুরি।