রাহুল গাঁধীর পূজা-অর্চনার ছবি প্রকাশিত হয়েছে প্রথম পাতায় (৭-১০)। রাহুল গাঁধী এক জন হিন্দু। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে পুজোপাঠ করার অধিকার তাঁর আছে কিন্তু তিনি নিজেকে যে ভাবে পৈতেধারী ব্রাহ্মণ বলেন তা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। বৈদিক যুগে আর্যরা তাঁদের কর্ম অনুযায়ী ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ইত্যাদি বিবিধ বর্ণে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতেন। বর্ণান্তরে গমনও তখন অসম্ভব ছিল না। ঋষি বিশ্বামিত্র নিজেকে ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণত্বে পরিবর্তিত করেছিলেন। কিন্তু আজকের প্রচলিত হিন্দুধর্মে ব্রাহ্মণত্ব শুধুমাত্র জন্মসূত্রে লাভ করা যায়। রাহুল গাঁধীর বংশবৃক্ষ পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় তিনি পৈতে ধারণ করতে পারেন কিন্তু তিনি বংশানুক্রমিক ব্রাহ্মণ নন। তাঁর পিতামহীর পিতা জওহরলাল নেহরু ছিলেন কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ। নেহরুরা আসলে পণ্ডিত পদবিধারী ছিলেন। পরে তাঁরা ইলাহাবাদে একটি নহরের ধারে বসবাস করতে শুরু করলে নেহরু বলে পরিচিত হন। নহর থেকে নেহরু। জওহরলাল এবং মোতিলাল নেহরু তাঁদের নামের আগে তাঁদের বংশগত পণ্ডিত পদবিটি ব্যবহার করতেন। একদা জওহরলালের কন্যা ইন্দিরা নেহরু ফিরোজ় খানকে বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করলে শুরু হয় বিপত্তি। ফিরোজ় খান ধর্মে ছিলেন জরথ্রুস্টীয় এবং উৎসে পার্সি। সে সময় প্রায় মধ্যযুগীয় ভারতে অতি উদার জওহরলালের পক্ষেও এই বিবাহে সম্মত হওয়া সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত এই জটিল সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন মহাত্মা গাঁধী। তিনি হিন্দুশাস্ত্র অনুসরণ করে ফিরোজ় খানকে দত্তক নেন। ফিরোজ় খান গাঁধী পদবিতে রূপান্তরিত হন। বিয়ের পর ইন্দিরা নেহরু স্বামীর পদবি ধারণ করে ইন্দিরা গাঁধী বলে পরিচিত হন। পিতৃতান্ত্রিক ধারাকে মানলে, হিন্দু দত্তক আইনকে মানলে রাহুল গাঁধী মহাত্মা গাঁধীর উত্তরপুরুষ। মহাত্মা গাঁধী ছিলেন বৈশ্য। হিন্দু নিয়মে রাহুল গাঁধীও তাই। পরবর্তী জীবনে পৈতে বিসর্জন দিলেও মহাত্মা প্রথম জীবনে ছিলেন পৈতেধারী।‌ আইনত তাঁর বংশধর রাহুল গাঁধী পৈতে ধারণ করবেন এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু তিনি ব্রাহ্মণ নন। নিজেকে ব্রাহ্মণ বলতে গেলে রাহুল গাঁধীকে মোতিলাল, জওহরলালের উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করতে হবে এবং তাঁর পিতামহীর সময় থেকে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে ফিরে যেতে হবে। অথবা তাঁকে বিশ্বামিত্রের পথ অনুসরণ করতে হবে। 

সনাতন পাঠক

ইমেল মারফত

পাশে চাই 


 সুপ্রিম কোর্ট কিছু ঐতিহাসিক রায় দিলেন যা দেশের ক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক। এই ঐতিহাসিক রায়গুলো হল: সমকামীদের মান্যতা, সব বয়সি মহিলাদের শবরীমালায় প্রবেশাধিকারের স্বীকৃতি, এবং আধার সংক্রান্ত রায়।
সব চেয়ে চিন্তার বিষয় আইনের অপপ্রয়োগ। এই ধরনের অপপ্রয়োগের, অথবা আইনকে ভুল পথে চালিত করার লোকের অভাব নেই। বিভিন্ন আইন তৈরি হয় জনসমাজের উন্নয়নের জন্য ও যথোপযুক্ত গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য এবং গণতান্ত্রিক ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু আইন যখন তৈরি হয়, তখন কিছু দুর্বল জায়গা থেকে যায়। এই দুর্বল ক্ষেত্রে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষ ছাড় পেয়ে যান। কথায় বলে, আইনের ব্যাপারীরা দিনকে রাত আর রাতকে দিন করে ছাড়েন। মিথ্যে সাক্ষী ও প্রমাণ জোগাড় করে সত্যকে ধামাচাপা দিতে কুণ্ঠা বোধ করেন না। ফলে বহু নির্দোষ মানুষের ওপর বর্তায় দোষীর কলঙ্ক। এই ধারা দীর্ঘ দিনের। এটা আমাদের সমাজে মারাত্মক ব্যাধির‌ আকার নিয়েছে। প্রশাসন, আদালত কি জানে না? গণতান্ত্রিক দেশে প্রশাসনকে সর্বপ্রথম সকলের জন্য সমবণ্টন সুনিশ্চিত করতে হবে ।
আধার কার্ড তৈরির সময় প্রতি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এনেছিলেন সরকার-নিযুক্ত কর্মচারীরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁরা ঠিকমতো তথ্য সংগ্রহ করেননি। কার্ড হতে পাওয়ার পর দেখা যায় অনেক তথ্য ভুল দেওয়া হয়েছে। যেমন বয়স, নামের বানান, ঠিকানা, ইত্যাদি। কিন্তু চোখের মণি, দশ আঙুলের ছাপ নেওয়ার সময় ভুলগুলো শোধরানোর জন্য অনুরোধ জানালেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তার সংশোধন হয়নি। পরের দিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পেনশন, মোবাইল ফোন, গ্যাসের সাবসিডি-সহ নানা পরিষেবামূলক কাজে বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। সেই সময়ে আধার কার্ডের সংশোধন করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়েছিল সাধারণ মানুষ, বিশেষত পেনশন হোল্ডারদের। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার ও গরিব মানুষের কাছে এটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। অনেক সময় পেরিয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের রায় এসেছে মানুষের কাছে। এই রায় আগে বেরোলে মানুষের দুর্ভোগ কম হত।
সমকামীদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল তাঁদের সমকামিতাকে মান্যতা দিক সর্বোচ্চ আদালত। সেই অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই রায় আমাদের দেশে যুগান্তকারী। প্রশাসনকে নজর দিতে হবে, এই মানুষেরা যেন আর বঞ্চিত না হন। উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে সমস্ত পর্যায়ের মানুষকে আত্মিক সহযোগিতা দিয়ে, সচেতন হয়ে সাহায্য করতে হবে। তাঁদের যেন সর্বোচ্চ আদালতের মান্যতা অনুযায়ী সুষ্ঠু সামাজিক যোগাযোগ বেড়ে ওঠে। অযথা হয়রানির পরিস্থিতি না তৈরি হয়, প্রশাসনকে তা নজর রাখতে হবে। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ পাশে না থাকলে সুস্থ ও ভাল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
এই গণতান্ত্রিক দেশে কেরলে শবরীমালা মন্দিরে রজস্বলা মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। অথচ কেরলকে শিক্ষিত রাজ্য বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। সেখানেও এই ধরনের সিদ্ধান্ত ছিল এত কাল ধরে, ভাবতে কষ্ট হয়। আজকের যুগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত এটাই প্রমাণ করে, মন্দির কমিটির মানসিকতা কতটা পিছিয়ে আছে। ঈশ্বর সকলের জন্য। সেখানে কোনও ভেদাভেদ নেই, বর্ণ, ধর্ম, জাতপাত নির্বিশেষে সকলের প্রবেশাধিকার আছে ও চিরকাল ছিল। যাওয়া বা প্রবেশ নিষেধ, এই ধরনের নিয়ম কখনও সমর্থন করা যায় না। কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নিজেদের স্বার্থে এই ধরনের বর্বরোচিত নিয়ম করে থাকেন— শুধুমাত্র নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এই ধরনের মানসিকতা সমাজ ও দেশের পক্ষে ক্ষতিকর।
আমাদের দেশে বিবাহের সময় পণ দেওয়া ও নেওয়া দুই-ই সমভাবে দোষের। প্রতি বছর কত ছেলে ও মেয়ে যে পণপ্রথার বলি হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। পারিবারিক হিংসা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থানে আজও পণ দেওয়া-নেওয়া চলে প্রশাসনের নাকের ডগায়। আমার আবেদন সমস্ত পর্যায়ের প্রশাসনের কাছে, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে, আমরা একটু সহানুভূতিশীল হই। আইনের শাসন ঠিক পথে রয়েছে কি না সেই দিকে লক্ষ রেখে, সর্বসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করি।


অভিজিৎ দাস
বালি, ঘোষপাড়া, হাওড়া

দায়ী কে


 দীপঙ্কর সেনের ‘রেল কামরা থেকে’ (৭-১০) শীর্ষক চিঠি সম্পর্কে আমার অভিমত জানাতে চাই। দীপঙ্করবাবু তাঁর লেখাতে ট্রেনের এসি কামরায় দেওয়া বেডশিট, বালিশ, কম্বল, মগ চুরির যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা নিয়ে আমার কোনও প্রামাণ্য বিরোধিতা নেই। তবে মনে হচ্ছে আপনি এই চুরির পিছনে যাত্রীদেরই দায়ী করছেন। এটা সর্বাংশে সত্য নয়। আপনি যদি সংশ্লিষ্ট রেল কর্মচারী বা আধিকারিকদের বাড়ি যান, তা হলে রেলের অনেক জিনিসই তাঁদের বাড়িতে হয়তো দেখতে পাবেন। আর একটি কথা। এই ধরনের লেখা কিন্তু এই সরকারকে এই সব সুবিধা তুলে  দিতে সাহায্য করবে। এই সরকার সব কিছু তুলে দেওয়ার অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছে।


নারায়ণ চন্দ্র দে
কলকাতা-৮৯

হেলমেট নেই?
 

 হেলমেটবিহীন বাইক-চালকদের একমাত্র প্রতিরোধ হল, ওঁদের যানকে পাকড়াও করে বাইকের পিছনের চাকার হাওয়া খুলে যানের গতি রুদ্ধ করা। শুধু ‘নো হেলমেট নো পেট্রোল’ স্লোগান দিয়ে এঁদের জব্দ করা অসম্ভব। 


শৈলেন বড়াল
রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।