বছরের শুরুতে ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের প্রথম দিনে ভারতে ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৩০ কোটির ভারত নতুন বছরের প্রথম দিনটির হিসেবে চিনকে টপকে গেল। চিনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ৪৪ হাজার ৯৪০। আর তৃতীয় নম্বরে আছে নাইজিরিয়া, আফ্রিকার এই দেশে শিশুজন্মের সংখ্যাটা হল ২৫ হাজার ৬৮৫। রিপোর্টটি আরও জানাচ্ছে, ২০১৯-এর প্রথম দিনে এই গ্রহে জনসংখ্যা বেড়েছে ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭২, আর ভারত এ দিনের হিসেবে সবার শীর্ষে উঠে প্রায় ৭০ হাজার সদ্যোজাতকে স্বাগত জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্যে উঠে আসছে, সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ আগামী দিনে ভারতই হতে চলেছে, যে দেশ ২০২৪ সালের মধ্যেই চিনকে ছাড়িয়ে যাবে। অথচ, ১৯৫২ সালে গঠিত প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারতই প্রথম দেশ, যা পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টিকে ‘জাতীয় নীতি’ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। 

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ— এই ক্ষেত্রগুলিতে দুর্দশা, এবং নিরক্ষরতা, ভয়াবহ বেকারি, দারিদ্র, অনুন্নয়ন— সবের সঙ্গেই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্কটি গভীর। জনসংখ্যার রাশ টানতে সত্তরের দশকে চিনের ‘এক সন্তান নীতি’ বিতর্কিত বিষয় হলেও, চিন পরবর্তী কালে এ ব্যাপারে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা বা কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা নিপুণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। চিন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি। চিনের মাথাপিছু আয় আমাদের দ্বিগুণ, কৃষির হারও বেশি। চিনে মাথাপিছু প্রাপ্তবয়স্কের সম্পদের পরিমাণ ১৬১৩৩ ডলার, ভারতে সেই পরিমাণ সাকুল্যে ১২৮৯ ডলার। অন্য দিকে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও অসম পরিস্থিতিতে আর্থিক বৃদ্ধির 

সুখ বা শ্রীবৃদ্ধি এ দেশে কখনও সমাজের পিছিয়ে পড়া লোকের কাছে পৌঁছয় না। অর্থনীতিবিদরা বলেন ভারতের মতো শ্রম-উদ্বৃত্ত দেশে সেটা হওয়া কঠিন।

১৯৭৫-৭৭ সালে সঞ্জয় গাঁধীর কুড়ি মাসের জন্ম-নিয়ন্ত্রণের ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক ‘নাশবন্দি’ ঘটনার স্মৃতি বহু কাল অতীত; অথচ এ দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত পরিকাঠামো ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি বা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে  উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। শিক্ষার প্রকৃত প্রসার, ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জেহাদ এবং সঙ্কীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিরোধ করতে যা ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৬— এই আট বছরে এ দেশে কন্ডোমের ব্যবহার কমেছে ৫২ শতাংশ, পাশাপাশি বন্ধ্যত্বকরণ হ্রাস পেয়েছে ৭৩ শতাংশ। দেখা গিয়েছে বিগত আট বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণে এ দেশের মহিলারা উদ্যোগী হলেও পুরুষেরা এ বিষয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। এটাকে ‘পৌরুষ হরণের চক্রান্ত’ বলেও চিহ্নিত করা হয়। ছত্তীসগঢ় রাজ্যের বিলাসপুরে ২০১৪ সালে মহিলা বন্ধ্যত্বকরণের চিকিৎসা-বিভ্রাটে ১৬ জন নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশ জুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এর প্রকৃত সমাধানে সর্ব স্তরে প্রয়োজন সক্রিয় উদ্যোগ বা গণ-সচেতনতা। অথচ বিপুল জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নেতা-মন্ত্রী-সহ ক্ষমতাশালী বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তেমন উচ্চবাচ্য শোনা যায় না— যেমন ভাবে ভোটের স্বার্থে সব সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁরা প্রবল ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কবির ভাষা অনুকরণ করে তাই বলতে হয়, এ ‘মহাজনতরঙ্গ’ রোধিবে কে!

পৃথ্বীশ মজুমদার

কোন্নগর, হুগলি

জানানো হোক

আনন্দবাজার পত্রিকাকে অজস্র ধন্যবাদ, কলকাতার বড় বড় হাসপাতালে দূরদূরান্ত ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা গরিবগুর্বো রোগীদের হয়রানি ও অবহেলার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাগুলো তুলে ধরার জন্য। 

যখন এই রকম অবহেলা, হয়রানির ঘটনা সামনে আসে, তখন হাসপাতালের সুপার বলেন ‘‘ব্যাপারটা খতিয়ে দেখব।’’ কিন্তু তিনি খতিয়ে কী দেখলেন, কত দিনে দেখলেন, আদৌ দেখলেন কি না, বা দেখে কী ব্যবস্থা করলেন— সেটা দেখার কেউ নেই, জনগণও কিছু জানতে পারে না। এটা জানানো বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। 

জেলা থেকে রোগী রেফারিং পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রাথমিক, মহকুমা বা জেলা হাসপাতাল থেকে তাদের চিকিৎসাধীন কোনও রোগীকে যখন কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়, তখন তাঁকে কলকাতায় পাঠানো এবং রেফার্ড হাসপাতালে ভর্তির দায়িত্বও স্বাভাবিক ভাবে তাদেরই। তারা ওই রকম সিরিয়াস রোগীকে ‘ভগবান ভরোসে’ ছেড়ে দিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত হতে পারে না। যেখানে রেফার করা হচ্ছে সেখানে নিরাপদে পৌঁছনো, ভর্তি এবং চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা তাদেরকেই করতে হবে। তা না করতে পারলে রেফার করা যাবে না। 

সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং মন্ত্রীর কাছে আমার দু’টি বিনীত প্রস্তাব— গুরুতর এবং আপাত স্পষ্ট অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করুন, যেমন অন্য দফতরে বা গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। তার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করুন। 

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি হাসপাতাল থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অভিযোগের তথ্য প্রকাশ করা হোক। তাতে বলা থাকবে, ওই সময়ে মোট কতগুলি অভিযোগ এসেছিল, তার তদন্তের ফল কী হল, কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করা হয়েছে, আর এই রকম গাফিলতি বা অভিযোগ আসা বন্ধ করার জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে।

চণ্ডীচরণ দাস

কলকাতা-১৫৪

এসএসকেএম

এসএসকেএম হাসপাতাল নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানাতে চাই। সন্দেহ নেই, আমাদের রাজ্যে সরকারি স্তরে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল এটি। প্রতি দিন কয়েক লক্ষ রোগী ওখানে চিকিৎসা করাতে যান। আছেন প্রচুর অভিজ্ঞ ডাক্তারও। 

কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণবশত এসএসকেএমে ইমারজেন্সি বিভাগ থেকে সরাসরি ইন্ডোরে রোগী ভর্তি নেওয়া হয় না। আপনার রোগী যত সঙ্কটাপন্নই হোন না কেন, আপনাকে আউটডোর ঘুরেই রোগী ভর্তি করতে হবে! 

অতি সঙ্কটাপন্ন রোগী আউটডোর লাইনে দাঁড়িয়ে মরে গেলেও কুছ পরোয়া নেহি! এটাই নাকি সিস্টেম! আমার বিনীত প্রশ্ন, তা হলে লোক দেখানো ইমারজেন্সি বিভাগ রাখার দরকার কী? গভীর রাতে অত্যন্ত অসুস্থ কোনও রোগীকে জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে এসএসকেএম ইমারজেন্সি বিভাগে আনাটা কি অপরাধ?

এর পরে আসা যাক বেড না থাকা প্রসঙ্গে। কোন বিভাগে কতগুলি বেড খালি আছে, সে সব তথ্য কখনও জনসমক্ষে আনা হয় না। ফলে আপনি হয়তো হাজার চেষ্টা করেও আপনার রোগী ভর্তি করতে পারছেন না, ও দিকে প্রভাবশালীরা সহজেই ওই বিভাগেই বেড পেয়ে যাচ্ছেন! একটা ডিসপ্লে বোর্ড মারফত কোন বিভাগে কত বেড খালি, সেটা অন্তত প্রকাশ্যে জানানো যেতে পারে।

সবশেষে বলি, আয়া-রাজ। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে সব সরকারি হাসপাতালে আয়া নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এসএসকেএমে প্রতিটি ইন্ডোর বিভাগ ঘুরলেই দেখা যাবে, আয়ারা আছেন বহাল তবিয়তেই। তাঁরা জুলুমবাজি করেন, রোগীদের ঠকান, ইচ্ছামতো টাকাও তোলেন। এমনকি স্যালাইন দেওয়া, রক্ত সংগ্রহও অনেক ক্ষেত্রে তাঁরাই করেন। হাসপাতালে ভর্তির পরেও এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে রোগী স্থানান্তর বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো— সবেতেই প্রয়োজন রোগীর পরিজনকে! অথচ, ওয়ার্ডবয় বা অন্য কর্মীদের এগুলো করানোর কথা! ফলে যাঁদের লোকবল কম, তাঁরা কতটা সুলভ চিকিৎসা পান, তা সহজেই অনুমেয়।

শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

নবদ্বীপ, নদিয়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।