কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে এখন সিপিএম পার্টি দ্বিধাবিভক্ত। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অভিমানে পদত্যাগ করার চিন্তা করছেন। আচ্ছা, এমনও তো হতে পারে, কংগ্রেস ঘোষণা করল তারা বামপন্থীদের সমর্থন চায় না! কংগ্রেস আপাদমস্তক বুর্জোয়া দল, তারা এ রকম কিছু বলে দিতেও পারে। তখন ‘অসাম্প্রদায়িক’ মহান নেতারা কী বলবেন? তাঁরা কি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনও কোনও শিক্ষা নেননি? না কি নিতে চান না?

অনেক রকম সমস্যা রয়েছে মানুষের জীবনে; সেই সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করা যেতে পারে। যদি সৎ আন্দোলন হয় তা হলে জনগণ পাশে দাঁড়াবেই। কিন্তু ক্ষমতা লাভের ইচ্ছাই যদি একমাত্র বিপ্লব হয়ে থাকে, তা হলে এই বামপন্থীরা অবলুপ্ত হতে বাধ্য।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর পার্টির এই অবক্ষয়। তাই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন, পার্টি সর্বতো ভাবে পরিত্যাজ্য তাঁর কাছে। ক্ষমতালোভী নেতারা এই সব পার্টি সম্মেলন বাদ দিয়ে বুদ্ধদেববাবুর কাছে শিক্ষা নিলে অনেক কাজের কাজ হত। কিন্তু সেটা হবে না। অনেক বছর পর হয়তো নির্লজ্জের মতো স্বীকার করতে হবে, দেওয়াল লিখন পড়তে না পারাটা এক ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল!

শুভব্রত দাশগুপ্ত  ই-মেল মারফত

 

বেড়াতে গিয়ে

সম্প্রতি আমরা কয়েক জন এক দিনের জন্যে গাদিয়াড়া যাই। আমাদের সকলেরই বয়স পঁয়ষট্টির আশপাশে। সময় বাঁচানোর জন্যে গাড়ি করে নুরপুর গিয়ে লঞ্চে গাদিয়াড়া যাই। আমাদের সঙ্গে এক বন্ধুর যুবতী কন্যাও গিয়েছিল। কন্যাটির বুদ্ধির বিকাশ সীমিত এবং হাঁটাচলার সমন্বয়ে সমস্যা আছে। নুরপুর লঞ্চঘাটে একটা পাকা জেটি থাকলেও গাদিয়াড়ার জন্যে সেটা ব্যবহার হয় না, তার জন্য আদিম ব্যবস্থা দেখে স্তম্ভিত হতে হল। কাদার ওপর পড়ে থাকা একটা ভাঙা ঘাটের ইটের খণ্ডের ওপর আট ইঞ্চি চওড়া কাঠের তক্তা ফেলে, তার ওপর দিয়ে পাড় থেকে লঞ্চে ওঠানামা। হাতে সাপোর্টের জন্যে একটা বাঁশ, আর অন্য প্রান্ত কাদায়। প্রবীণা-প্রবীণদের পক্ষে খুবই শক্ত। আমরা কোনও রকমে উঠতে পারলেও, যুবতী কন্যাটিকে তুলতে বেশ সমস্যা হয়েছিল, কারণ তার পা কেবলই তক্তার বাইরে চলে যাচ্ছিল। সমস্যাটা আরও জটিল হল ফেরার সময়। শীতকাল, তাড়াতাড়ি অন্ধকার নেমে আসে। লঞ্চ যখন গাদিয়াড়া ছেড়ে নুরপুরে পৌঁছল, ঘাটের অবস্থা দেখে আতঙ্ক হল। একে তো ঘাটে কোনও আলো নেই, তার ওপর লঞ্চের মাথায় টিমটিম করে জ্বলা আলোয় কিছুই প্রায় দেখা যায় না। কাঠের তক্তা দিয়ে সাবধানে কিছুটা নেমে মেয়েটি এক দিকে বিপজ্জনক ভাবে হেলে পড়ল। তাকে তুলতে গিয়ে আমাদের কাদায় নামতে হল এবং অবশেষে এক তরুণ কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে পাঁজাকোলা করে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে কাদা ও ইটের খণ্ডগুলো পেরিয়ে আমাদের সাহায্য করলেন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এবং সম্ভ্রম নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা বোধহয় এখানেই সম্ভব। ভেবে ভয় করছে, আমাদের সঙ্গে যদি কোনও হুইলচেয়ারের যাত্রী থাকতেন, তা হলে যাওয়াই হত না।

গাদিয়াড়া পশ্চিমবঙ্গের একটা সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র। শুধু পর্যটক কেন, যা শুনলাম, প্রতি দিন প্রায় কয়েকশো লোক এ ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন, যার মধ্যে বয়স্ক নারী-পুরুষও আছেন। একটা পাকা জেটি এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা তো করদাতা নাগরিকেরা পেতেই পারেন! 

এই প্রসঙ্গে বলি, পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে যাওয়া ও থাকার জন্য অশক্ত বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধীদের পক্ষে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। খাওয়ার জায়গায় কোনও হুইলচেয়ার-ব্যবহারকারী যেতে পারবেন না। টুরিস্ট লজগুলোতে লিফট বা ঢালু রাস্তা না থাকলে হুইলচেয়ার নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। অথচ প্রায় কুড়ি বছর হয়ে গেল আইন চালু হয়েছে, কোনও রকম বাধা ছাড়াই প্রতিবন্ধীদের যাওয়ার পথ তৈরি রাখতে হবে।

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়  কলকাতা-১০৪

 

দূরের ট্রেনে

 গত ২০ নভেম্বর ২০১৭, শিয়ালদহ-পুরী দুরন্ত এক্সপ্রেসে (২২২০১) স্লিপার ক্লাসে, কোচ নং এস-২’তে ছিল আমাদের রিজার্ভেশন। সঙ্গে মিল (ডিনার) বুক করা ছিল। ট্রেন সময়মতই (রাত ৮টা) ছাড়ল, কিন্তু ডিনার সার্ভ করা হল দেড়-দু’ঘণ্টা পর। খাবারগুলি ঠান্ডা। ভাত খাওয়ার জন্য কোনও চামচ নেই। জিজ্ঞেস করায়, কর্মীরা বললেন, কোম্পানি চামচ দেয় না। ট্রেনে চারটি ল্যাভেটরি, একটিতেও কমোড নেই। ফলে প্রবীণ নাগরিকদের দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হল। ফেরার দিন (২৪-১১-১৭, রাত ১০টা) পুরী-হাওড়া জগন্নাথ এক্সপ্রেসে (১৮৪১০) স্লিপার কোচে (এস-১৪ বগিতে) এলাম। তাতেও চারটে টয়লেটের মধ্যে একটিতে কমোড, সেটাও ভাঙা। আবার ওই বগির জানালা ঠিকমত বন্ধ হয় না। কিছুটা ফাঁক থেকে যায়। ফলে রাত্রিবেলা হুহু করে হাওয়া ঢুকছিল।

দীপ্তিময় ঘোষ  কলকাতা-৯১

 

প্রকৃতি, ইতিহাস

 পূর্ব মেদিনীপুরের বঙ্গোপসাগরের তীরে অনেকগুলি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জুনপুট ও দিঘা ছিল, এখন পাশাপাশি শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, বাঁকিপুট। অথচ প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দারিয়াপুর, হিজলি ও খেজুরি তেমন বিকশিত হয়নি।

অথচ প্রকৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধন ঘটেছে জায়গাগুলিতে। একদা খেজুরি বন্দর এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে ভারতকে যুক্ত করেছিল। ১৮৩০ সালে রামমোহন রায় এবং ১৮৪২ ও ১৮৪৫ সালে দ্বারকানাথ ঠাকুর খেজুরি বন্দর দিয়ে বিলাত যাত্রা করেন। এই বন্দর থেকে ডাকনৌকার সাহায্যে চিঠিপত্র যেত দেশের নানা প্রান্তে।

কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুর গ্রামের কপালকুণ্ডলা মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্কিমচন্দ্র ও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। কর্মসূত্রে কয়েক মাস কাঁথিতে ছিলেন তিনি। সে সময় ঘোড়ায় চেপে এ অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন। এখন যা কপালকুণ্ডলা মন্দির নামে পরিচিত, আগে ছিল ভবানী মন্দির। অষ্টাদশ শতকে রাজা যাদব রায়ের আমলে নির্মিত হয়। কয়েক বছর আগে মন্দিরটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে হেরিটেজ কমিশন ও মেদিনীপুর জেলা পরিষদ মন্দিরের সংস্কারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, ২০১৩-তে সংস্কার শেষ হয়। কিন্তু মন্দির কেন মূর্তিবিহীন থেকে যায়, সদুত্তর নেই। 

রসুলপুর নদীর পেটুয়াঘাট বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখানে এখন সামুদ্রিক মৎস্যবন্দর হচ্ছে। আগে এর নাম ছিল প্রতাপপুর ঘাট। হয়তো বা পেটেশ্বরী দেবীর জন্য পেটুয়াঘাট নামে পরিচিত হয়েছে। প্রাচীন এক অশ্বত্থগাছের তলায় এই বিচিত্র দেবীর অধিষ্ঠান। দেবী পেটে হাত দিয়ে আছেন। তার ব্যাখ্যা নিয়ে একটা জনশ্রুতি আছে। বিদেশি জলদস্যুরা অত্যাচার করত এ দেশের নারীদের, ফলে অনেক সময় তাদের গর্ভসঞ্চার হত। অসহায় নারীরা এই দেবীর স্থানে এসে গর্ভপাত করত।

রসুলপুর নদীর উত্তরে হিজলি, আগে যার নাম ছিল গুমগড়। পির মসনদির বংশধরেরা জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে বসতি স্থাপন করেন। পিরের আসল নাম তাজ খান। মসনদ-ই-আলা তাঁর উপাধি। তাঁর দান-ধ্যান ও উদারতার জন্য পাঠানরা এই উপাধি দিয়েছিল। ১৬২৮-১৬৪৯ পর্যন্ত রাজত্ব করেন তিনি। পটাশপুরের এক পিরের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন। অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য মানুষ তাঁকে পিরের মর্যাদা দেয়। অনেকের কাছে তিনি মছলন্দি পির নামে খ্যাত। এখানে আছে তাঁর মাজার। কেউ কেউ তাকে বাবা সাহেবের কোঠগড়া বলে। এই মসনদ-ই-আলার পরিবারের সঙ্গে হিন্দু পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল। সে ঐতিহ্য আজও আছে।

দিলীপ মজুমদার  কলকাতা-৬০

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়