‘কৃষিতে সমস্যা থাকলেই লাভ’ (৮-৮) এবং ‘চাষিকে পঙ্গু করে ক্রাচের ব্যবস্থা’ (৯-৮) শিরোনামে সুগত মারজিতের প্রবন্ধ দু’টি প্রসঙ্গে দু’চার কথা। সুগত জানিয়েছেন, ‘‘একশো দিনের কাজের ফলে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী।’’ গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প কী ভাবে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী করছে তার বিশদ আলোচনা থাকলে ভাল হত। তবে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির আরও কিছু কারণ আছে। স্বাধীনতার পর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সরকার বিনিয়োগ করেছিল। এর ফলে কৃষি-উৎপাদন বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। কৃষিক্ষেত্রে আয়ও বৃদ্ধি পায়। তবে এই লভ্যাংশের বেশির ভাগ বিত্তশালীদের শ্রীবৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৯১ সালের পর দেশে উদার অর্থনীতি প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকে বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষি সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ, ডিজ়েলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। ফলে কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায় না। কৃষকের জীবন যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থেকে যায়। ২০১৩ সালে ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজ়েশন-এর হিসাব অনুযায়ী, গ্রামীণ ভারতের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কৃষক পরিবারের মাসিক আয় ছিল ৫,৩৭০ টাকা। পাশাপাশি সরকার পুঁজিপতিদের শর্ত মেনে কৃষিক্ষেত্রে ব্যয়সঙ্কোচ শুরু করে। ফলে সেচ ব্যবস্থা, ভূমি সংস্কার, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ ব্যাপক ভাবে ধাক্কা খায়। ভারতীয় কৃষিব্যবস্থা, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দিন দিন গভীর সঙ্কটে তলিয়ে যায়। ২০০৪ সালে গঠিত স্বামীনাথন কমিটির পর্যবেক্ষণে এই সমস্যার প্রতি অঙ্গুলিনির্দেশ করে প্রতিকারের উপায় বাতলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদানীন্তন কংগ্রেস কিংবা বর্তমান বিজেপি সরকারের মধ্যে এই সুপারিশ কার্যকর করার বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা‌ দেখা যায় না। ফলে কৃষিপণ্যের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পিছনে শুধু ১০০ দিনের কাজ দায়ী— তা সর্বৈব সত্য নয় বোধ হয়।

শ্রীমারজিৎ লিখেছেন, ‘‘কৃষকদের যত বেশি চুক্তি চাষের সুযোগ দেওয়া যায়, ততই মঙ্গল।’’ চুক্তি চাষকে আপাত ভাবে মনে হতে পারে কৃষকের পরিত্রাতা। কিন্তু পরিণামে কৃষকের ভয়ঙ্কর বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি চাষে কৃষককে অগ্রিম দাদন দেওয়া হয়। জমি এবং চাষের উপর কৃষকের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কর্পোরেট বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষককে ফসল উৎপাদনে বাধ্য হতে হয়। বীজভাণ্ডারের উপর তাঁর অধিকার থাকে না। অভিজ্ঞতা বলছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলি চুক্তি চাষে কম মজুরি দিয়ে কৃষি-শ্রমিককে বেমালুম ঠকায়। পেপসিকোর দ্বারা পঞ্জাবের টমাটো চাষিদের এবং পশ্চিমবঙ্গের আলু চাষিদের প্রতারিত করার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, চুক্তি চাষ কৃষকজীবনে তিমিরবিনাশী নয়, তিমিরবিস্তারী হয়ে উঠতে পারে। ফলে চুক্তি চাষের মাধ্যমে কৃষকের মঙ্গল হবে, জোর দিয়ে বলা যায় না।

কমল কুমার দাস

কলকাতা-৭৮

আগাছা-নাশক

‘৩০ কোটি ডলারের ধাক্কা মনসান্টোকে’ (১২-৮) শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে জানাই, বর্তমানে ভারতে কোটি কোটি কৃষক আগাছানাশক হিসাবে ‘গ্লাইফোসেট’-সহ অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান, যেমন পেন্ডিমিথানিল, প্রিটিলাক্লোর, ২, ৪ডি,পাইরাজ়ো সালফিউরন ইথাইল, কুইজ়ালোফপ ইথাইল, বিসপাইরিবাক সোডিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। কৃষিক্ষেত্রে কৃষিশ্রমিকের অপ্রতুলতার কারণে আমরা কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মিগণ শত শত কৃষকভাইকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ আগাছানাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমেরিকাতে মনসান্টোর বিরুদ্ধে গ্লাইফোসেট থেকে ক্যানসার ছড়ানোর অভিযোগ হয়েছে। ফলে পরিবেশ ও কৃষকের স্বাস্থ্যরক্ষার তাগিদে অবিলম্বে সমস্ত ধরনের আগাছানাশকের পরীক্ষানিরীক্ষা প্রয়োজন।

সফিকুল ইসলাম

গৌরীভোজ, উত্তর ২৪ পরগনা

নতুন সিস্টেম

গ্র্যাজুয়েশনের প্রথম বর্ষে নতুন Choice Based Credit System-এ ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা যে সমস্যাটির সম্মুখীন হচ্ছি, সেই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই চিঠি। আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ঠাকুরপুকুর বিবেকানন্দ কলেজের রাশিবিজ্ঞান (সাম্মানিক) বিষয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের। প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় আমি শুধু প্রথম দিনের প্রথম পেপারের পরীক্ষাটাই দিতে পেরেছি, অসুস্থতার কারণে বাকি কোনও পরীক্ষাই দিতে পারিনি। বহু কলেজের কিছু ছাত্রছাত্রী আমার মতো এই পরিস্থিতিতে রয়েছে। এখন আমাদের সকলকেই প্রথম বর্ষে আবার পড়তে হবে এবং আমরা সকলেই প্রথম বর্ষে নতুন CBC System-র অধীনেই ভর্তি হতে চাই (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে) নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য: ১) পুরনো অ্যানুয়াল সিস্টেম-এর থেকে নতুন সিবিসি সিস্টেম-এর প্রশ্নের ধরন, পরীক্ষার সময়-সূচি, এবং সেই অনুযায়ী সিলেবাস যথেষ্ট আলাদা। সেই জন্য শিক্ষকদের এই দুই ধরনের সিস্টেমের আওতায় থাকা ছাত্রছাত্রীদের এক সঙ্গে ক্লাসে পড়াতে যথেষ্টই অসুবিধা হবে। সে ক্ষেত্রে, পুরনো সিস্টেমের আওতায় থাকা হাতে-গোনা কয়েক জন ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষকরা সে রকম গুরুত্ব দিয়ে ও আগ্রহ সহকারে পড়াবেন কি না, সে সম্পর্কে আমরা দ্বিধান্বিত। ২) ক্লাসের বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী সিমেস্টার সিস্টেমে পরীক্ষা দেবে এবং আমরা আলাদা ভাবে পুরনো সিস্টেমে পরীক্ষা দেব, এর ফলে আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতামূলক আচরণের অভাব দেখা যাবে, তাতে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে। ৩) রাশিবিজ্ঞান ছাড়াও, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগে এ রকম আরও বহু বিষয় রয়েছে, যার জন্য আমাদের টিউশনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু যেখানে বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই নতুন সিস্টেমের আওতায় থাকবে, সেখানে আমাদের টিউশনে পড়ার সুযোগ পাওয়া সমস্যাজনক হয়ে উঠবে। তাই আমরা নতুন সিস্টেমের আওতায়, প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে চাই। আমাদের কলেজ এ বিষয়ে সম্মত হলেও, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি দিচ্ছে না। বলছে, প্রথম শিক্ষাবর্ষে আবার পড়তে চাইলে, অ্যানুয়াল সিস্টেমের আওতাতেই ভর্তি হতে হবে। আগামী দুই বছর এই সিস্টেমের অধীনেই পড়তে হবে। এবং এখানেই আমাদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষের যে সব ছাত্রছাত্রী ফাইনাল পরীক্ষার কোনও পেপারের পরীক্ষা দিতে বসেনি, তাদের আবার প্রথম বর্ষে নতুন সিবিসি সিস্টেমের আওতায় ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আমরা শুধুমাত্র একটা পেপারের পরীক্ষায় বসেছি বলে, কেন নতুন সিস্টেমে ভর্তি হওয়ার অনুমতি পাব না! ফাইনাল পরীক্ষায় পুরোপুরি না বসা আর ফাইনাল পরীক্ষার শুধুমাত্র একটা পেপারের পরীক্ষায় বসা তো একই ব্যাপার।

বিদীপ্তা চক্রবর্তী

কলকাতা-৩৪

অন্য তারিখ

কলকাতার কড়চায় ‘বিজ্ঞান নিয়ে’ (২০-৮) প্রতিবেদনটিতে একটি মুদ্রণপ্রমাদ ঘটেছে। ২৫ তারিখ নয়, বিড়লা তারামণ্ডলে ‘বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা’ শীর্ষক আলোচনাটি হবে রবিবার ২৬ অগস্ট।

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-৩৩

ধর্মঘট

রবিবাসরীয় পৃষ্ঠায় ‘পুস্তক পরিচয়’ (১২-৮) কলামে ‘বাংলায় ধর্মঘট’ পুস্তক প্রসঙ্গে প্রকাশিত আলোচনায় ছাপা হয়েছে ১৯২৭ সালে পালকিবাহকদের এক মাস ব্যাপী ধর্মঘটের কথা। ধর্মঘট হয়েছিল ১৮২৭ সালে।

অশোক ঘোষ

কলকাতা-১২

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।