বাংলাদেশে রোজা পালনকারীদের সুবিধার্থে সে দেশের সরকার প্রতি বছর সরকারি অফিসে, আদালতে কাজের সময় কালের ‘পরিবর্তন’ ঘটান। ২০১৮ সালেও সরকারি কার্যালয়গুলিতে সকাল ন’টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত কাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে। সেই সঙ্গে বেলা ১:১৫ থেকে ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকছে জোহরের নমাজের জন্য বিরতি।

দুঃখের কথা, আমাদের দুর্ভাগা ভারতের কোনও রাজ্যে কস্মিন কালেও এমন কোনও নির্দেশিকা বলবৎ করা হয়নি। অথচ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি কার্যালয়গুলিতে অগণিত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ কর্মরত।

পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দানের ক্ষেত্রে তৎপর। তাঁর কাছে নিবেদন, এ রাজ্যেও যদি রমজান মাসে সরকারি কার্যালয়গুলিতে বাংলাদেশের মতো সময়সূচি বলবৎ করা যায়, রোজা পালনকারীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

রাজীব মিত্র  বাঁশদ্রোণী

 

গিনিপিগ পড়ুয়া

‘পরীক্ষার পরে’ (১১-৬) শীর্ষক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে এ রাজ্যের বিদ্যালয়-শিক্ষার একটি কঠোর বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। স্কুলছুটের হার আদৌ কমছে না। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৫৬ শতাংশেরও বেশি পড়ুয়া ঝরে যাচ্ছে।

অথচ বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে যখন ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন চালু করা হয়েছিল এবং তার মাধ্যমে গালভরা ‘নিরবচ্ছিন্ন সার্বিক মূল্যায়ন’ ব্যবস্থার নামে প্রচলিত ‘পাশ-ফেল’ প্রথাটির অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিলোপ ঘটানো হয়েছিল, তখন কেন্দ্র সরকারের নীতি নির্ধারকদের দাবি ছিল— এই নীতি চালু হলে স্কুলছুটের সংখ্যা কমবে। কেবল ২০০৯-এর ওই শিক্ষা আইন নয়, আমাদের রাজ্যে ‘পাশ-ফেল’ ব্যবস্থাটি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত অবলুপ্ত হয়েছে ১৯৮১ সালে— সিপিএম পরিচালিত ‘ফ্রন্ট’ সরকারের আমলে। অর্থাৎ পড়ুয়াদের নিয়ে গিনিপিগ করার প্রক্রিয়া চলছে এ রাজ্যে গত ৩৭ বছর ধরে, অন্য রাজ্যে যেখানে তা আট বছর।

নানান ফিকিরে নম্বর পাইয়ে দেওয়ার শত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মাধ্যমিকে দু’লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার কড়ি জোগাড় হল না। প্রায় কিছু না পড়ে, না শিখে, না জেনে প্রথম থেকে অষ্টম পর্যন্ত একের পর এক শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার ফলে ওই পড়ুয়াদের শিক্ষার ভিত্তিটি যে দুর্বল হল, তা কি এর জন্য কোনও ভাবেই দায়ী নয়?

যে পরীক্ষার্থীরা ‘র‌্যাঙ্ক’ করেছে তারা নিশ্চয় অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু যাঁরা এই ‘ফার্স্ট’, ‘সেকেন্ড’দের নিয়ে এত মাতামাতি করছেন, তাঁরা কি জানেন, এদের মধ্যে ব্যতিক্রমী কয়েক জন ছাড়া বেশির ভাগই যে পরিবেশে গড়ে উঠেছে, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে পড়েছে, যত সংখ্যক গৃহশিক্ষকের সাহায্য নিয়েছে বা যে আকাশছোঁয়া বেতনের কোচিং সেন্টারে নাম লিখিয়েছিল— তাতে তাদের কাছে নিজেদের বিদ্যালয়গুলিতে ‘পাশ-ফেল’ আছে কি নেই, তার কোনও গুরুত্ব নেই? সরকার যদি মনে করে শিক্ষার অধিকার নামক আইনটির সংশোধন করে সাবেক ‘পাশ-ফেল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের মধ্যে এই সমস্যার কোনও সমাধান নেই, তা হলে তাকে সঠিক সমাধানের পথ নির্দেশ করে জনসাধারণকে তা অবগত করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কেন এত পরীক্ষার্থী ব্যর্থ হল, কেন এত স্কুলছুট হচ্ছে, তার কারণ ও প্রতিকারের উপায় জানিয়ে সরকারকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

তরুণকান্তি নস্কর  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

 

সরকারি স্কুলে

 বিভিন্ন দৈনিকে বা টেলিভিশনের পর্দায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমছে। কিন্তু ওই বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুবিধা তো কম নেই। তা হলে অভিভাবক-অভিভাবিকারা টাকা খরচ করে ছেলেমেয়েদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন কেন? শুধুই ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর জন্য? সরকারি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় চালু করে তা পরখ করা যেতে পারে। আমার মনে হয়, সচেতন অভিভাবকগণ সন্তানদের বিদ্যালয় পাঠান পড়াশোনার জন্য। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান উদ্দেশ্য যদি শিক্ষার পরিবর্তে সরকারি সুবিধা, যেমন— সাইকেল, জুতো, জামা, খাবার, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী পাইয়ে দেওয়া হয় এবং সেই কাজ শিক্ষকদের দিয়ে করানো হয়, তা হলে শিক্ষাদান ব্যাহত ‍হবেই। এর পর আছে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট, শিক্ষককুলের একাংশের ফাঁকিবাজি, ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউশনি নির্ভরতার ফলে শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী আচরণ, পাশ-ফেল না থাকা।

সুমন্ত কোঙার  মুগুড়া, পূর্ব বর্ধমান

 

দু’টি রেকর্ড

উচ্চ মাধ্যমিকের রেজ়াল্টে এ বার দু’টি রেকর্ড হল। মেধাতালিকায় প্রথম হল কলা বিভাগের ছাত্র। আর্টস শুধু যে কম মেধাবীদের জন্য, এ লোকপ্রচলিত ধারণা ধাক্কা খেল।

দ্বিতীয় রেকর্ড: এই প্রথম জাতপাতের ভিত্তিতে রেজ়াল্ট বিভাজন করা হল। পর্ষদ সভাপতিকে বলতে শুনলাম, এসসি এসটি ওবিসি সংখ্যালঘুদের পাশের শতাংশ ও সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকের শতাংশ ভিত্তিতে নম্বর।

প্রণয় ঘোষ  কালনা, পূর্ব বর্ধমান

 

টিউশন

মাধ্যমিকে এ বার রাজ্যের প্রথম স্থানাধিকারী কোচবিহারের সঞ্জীবনী দেবনাথ। বাবা কোচবিহার মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, মা দিনহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হওয়া সত্ত্বেও এবং নিজের বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের কাছ থেকে লেখাপড়ায় ব্যাপক সহায়তা পাওয়ার পরেও সঞ্জীবনীর গৃহশিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৭। তৃতীয় হওয়া জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র মৃন্ময় মণ্ডলের বাবা বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তারও সব বিষয়ে এক জন করে গৃহশিক্ষক ছিলেন। মাধ্যমিকের শীর্ষ-স্থানাধিকারীদের প্রায় সকলের একাধিক বিষয়ে বাড়তি শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট টিউশন নেওয়া— প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বৃহৎ পরাজয়।

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে ২০০১ সালে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলির চার লক্ষ পঁচাত্তর হাজার শিক্ষকের প্রাইভেট টিউশনের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। অমর্ত্য সেন ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাব্যবস্থার হাল খুবই খারাপ। স্কুলের পড়াশোনার মান না বাড়িয়ে হঠাৎ প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।’’ ১৭ বছর বাদে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হওয়ার স্বার্থে সাধ্যমতো অর্থের বিনিময়ে পড়ুয়ারা সমানে প্রাইভেট টিউশন নিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রাইভেট টিউশনের খরচ সর্বভারতীয় স্তরে সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি তথা সরকারি অনুদানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রাইভেট টিউশনের উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয় না। ফলে টিউশন-পাওয়া ও না-পাওয়া— এই দু’টি পৃথক শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে রাজ্যের পড়ুয়াসমাজ। একই সঙ্গে, যোগ্যতাহীন প্রাইভেট টিউটরদের কোচিং সেন্টারে সাধারণ মানের শিক্ষার্থীদের ভিড় উপচে পড়লেও রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকেছে।

সঙ্গত কারণেই, সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনের অধিকারে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন উঠছে। বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন যথাসময়ে সম্পন্ন না করার দায়ে অভিযুক্ত এক শ্রেণির ফাঁকিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না করে, সমগ্র শিক্ষকসমাজকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁ়ড় করানো— শিক্ষকের স্বাধিকার হরণেরই সামিল।

মানসকুমার রায়চৌধুরী  কলকাতা-২৬

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়