‘হিন্দু ধর্ম কী ও কার’ শীর্ষক প্রবুদ্ধ বাগচীর চিঠিটি (৭-৩) পড়ে বিস্মিত হলাম। পত্রলেখক ধর্ম বদলানোর জন্য ‘স্বীকৃত সংস্থা’র কথা বলেছেন যা নাকি হিন্দু ধর্মে নেই। তিনি খোলসা করে বলেননি ‘স্বীকৃত সংস্থা’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন। যেখানে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত মানুষকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার’ দিয়েই রেখেছে, সেখানে তারও উপরে আর কোন প্রতিষ্ঠানকে তিনি চাইছেন?

রামকৃষ্ণ মিশন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা স্ববিরোধী। কারণ তিনি নিজেই বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট রামকৃষ্ণপন্থী মতামতকে ‘স্বতন্ত্র ধর্ম’ হিসাবে মান্যতা দেয়নি। তার অর্থ তো রামকৃষ্ণ মতাবলম্বীরা হিন্দুই। তা ছাড়া ‘সনাতনী হিন্দু ধর্ম’ বলতেই বা তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন? যে ধর্মে পাশাপশি দুটি বাড়ির আচারেই মিল থাকে না, সেখানে বিবেকানন্দ, অরবিন্দ বা আধুনিক কালের রবিশঙ্করের দর্শন ভাবনা বা ধর্মীয় চেতনা কি একেবারেই ‘খাপে খাপে’ মিলে যায়? তাই বলে কি তাঁরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী নন?

বিবেকানন্দ তাঁর শিকাগো বক্তৃতায় বলেছেন— ‘...I thank you in the name of the mother of religions; and I thank you in the name of the millions and millions of Hindu people of all classes and sects…’। শুধু বেদান্ত নয়, বিবেকানন্দ বৌদ্ধ মতকেও হিন্দুধর্মেরই একটি শাখা বলে উল্লেখ করেছেন। বিবেকানন্দ যে হিন্দু ছিলেন এবং হিন্দুই ছিলেন, তা আমার বা আপনার বলার অপেক্ষা রাখে না।

পত্রলেখক আরও বলেছেন,
‘...বৈষ্ণব ধর্মকে হিন্দু ধর্মের অন্তর্গত করে দেখা যায় না।’ তা হলে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ভগবদ্গীতা কোন জাদুবলে বৈষ্ণবদের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ হয়ে উঠল? আসলে সনাতন হিন্দু ধর্ম হল যুগযুগান্তর ধরে প্রবাহিত একটি মূল স্রোতধারা, যা বহু উপনদী শাখানদীর জলে সমৃদ্ধ।

পরিশেষে বলি, বৈদিক ধর্মে ধর্মান্তরের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘শুদ্ধি’। ঋষি দেবল অন্যান্য ঋষিদের সঙ্গে নিয়ে সিন্ধুতীরের এক সম্মেলনে ‘দেবল স্মৃতি’ রচনা করেন। সেখানেই এই ধর্মান্তরের প্রক্রিয়ার কথা বলা আছে। এই শুদ্ধি একেবারে হিন্দুধর্মের শেকড় বেদ থেকেই প্রাপ্ত: ‘পরমেশ্বরের নাম নিয়ে এগিয়ে চলো, সমস্ত বিশ্বকে আর্যত্বে (শ্রেষ্ঠত্বে) দীক্ষিত করো (ঋগ্বেদ, ৯।৬৩।৫)।’

সতীদাহ প্রথার যুগ ছেড়ে আমরা আজ অনেকখানি পথ পার হয়ে এসেছি। আজ সেই সংকীর্ণতার জায়গায় ‘হিন্দু’ দাঁড়িয়ে নেই। আজ দলিতদের মন্দিরে ঢুকতে বাধা দিলে দেশ জুড়ে তার প্রতিবাদ হয়। হিন্দু ধর্মের বিস্তৃতি অনেক ব্যাপক। প্রবুদ্ধবাবুর মতো তাকে খণ্ড খণ্ড করে দেখা সমীচীন নয়। তা ছাড়া ‘mother of religions’ এতটা সংকীর্ণ হবেই বা কেন?

স্নেহময় দাস

রঘুনাথগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ

 

শহিদ

 উত্তরপাড়ার বরেণ্য সন্তান স্বাধীনতা সংগ্রামী স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯১০-১৯৪৭)। বেশ কয়েক বার কারাবরণ করেছেন। ১৯৪৭ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হতাহত হন বহু নিরীহ মানুষ। কলকাতায় একটি শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়। তােত অংশ নেন স্মৃতীশ। কিছু দাঙ্গাবাজ গুন্ডা তাঁকে নির্মম ভাবে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুসংবাদে বিচলিত হয়ে মহাত্মা গাঁধী শহিদের বাবাকে প্রাণস্পর্শী পত্রে লেখেন (৪-৯-১৯৪৭): ‘পৃথিবীতে চিরকালই এই জাতীয় মৃত্যুর আবশ্যকতা আছে। এই রূপ এক একটি আত্মদানের ফলে দেশে হাজার হাজার শহীদের অভ্যুদয় ঘটবে। বীর স্মৃতীশের জনক জননীর মতন আমরাও সকলে তার নাম স্মরণ করে গৌরবানুভব করি। তাঁর মৃত্যু হয়নি; পরন্তু দেশের জন্য তাঁর আত্মোৎসর্গের এই কাহিনী মানব-হৃদয়ে শাশ্বতকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে’ (তথ্যসূত্র: উত্তর স্বাক্ষর— উত্তরপাড়া জয়কৃষ্ণ সাধারণ গ্রন্থাগার)।

১৯৪৮ সালে বালি-উত্তরপাড়ার সংযোগস্থলে প্রতিষ্ঠিত হয় শহিদ স্মৃতীশের আবক্ষ মর্মরমূর্তি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওই চক্রাকার স্থানটি নানা ধরনের বিজ্ঞাপনে ভরে গিয়েছে। শহিদের মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। ওই স্থানটি যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হোক, আর একটি প্রস্তরফলকে লেখা হোক স্মৃতীশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের সংক্ষিপ্ত কাহিনি।

সুমঙ্গল চট্টোপাধ্যায়

রিষড়া, হুগলি

     অপচয়

ইদানীং বাঙালির অনুষ্ঠান বা মেলা মানেই কবজি ডুবিয়ে খাওয়া, আর তার থেকেও ঢের বেশি অপচয়। পাতে যেমন অপচয় হচ্ছে অঢেল, তেমনই অত্যাধুনিক খাবার প্রস্তুত প্রণালীতেও আছে চূড়ান্ত অপচয়। ইদানীং শপিং মল বা সুপার মার্কেটে ‘গার্ডেন ফ্রেশ’ সবজি জোগানের নামে, ফসল শুধুমাত্র বাঁকাটেরা আকৃতির কারণে তোলাই হয় না।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে প্রতি বছর যত খাদ্য উৎপাদন হয়, তার ত্রিশ-পঞ্চাশ শতাংশ খাওয়ার টেবিলে পৌঁছনোর আগেই অপচয় হয়, যা মোট উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশ। অথচ পৃথিবীর প্রতি সাত জন মানুষের মধ্যে এক জন ঘুমোতে যায় ক্ষুধার্ত পেটে। পাঁচ বছরের কম বয়সি কুড়ি হাজার শিশু পূর্ণ বিকশিত হওয়ার আগেই ভুখা পেটে মারা যায়। প্রতি দশ জন নারীর মধ্যে সাত জনই ভোগেন তীব্র অপুষ্টিজনিত রক্তাল্পতায়। সমীক্ষা বলছে, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ খাদ্য প্রতি বছর অপচয় হয়, তা দিয়ে পৃথিবীর দুশো কোটি মানুষকে সারা বছর ভরপেট খাওয়ানো সম্ভব।

তাই ঘরে-ঘরে, পরিমিত আহারের পাঠ শুরু হোক। বুঝতে হবে, এক জায়গায় অপচয় মানেই উলটো পিঠে দুঃখকষ্টের হাহাকার।

সঞ্জীব রাহা

পাডিয়া মার্কেট, নদিয়া

হাসপাতালে

কলকাতার একাধিক হাসপাতালের অধিকর্তা হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে কখনওই ঠিক চিকিৎসা হবে না। কাচের সুদৃশ্য প্রাসাদ নয়, এখন দরকার অভঙ্গুর কাঠামো। মূল ভবনের আগেই রোগীর পরিজনদের থাকার জায়গা করতে হবে। সেখান থেকে রোগীদের ভিতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রলি, হুইলচেয়ার এবং হাসপাতালের কর্মী থাকবে। রোগীর পরিজনদের মধ্যে এক জন আত্মবিশ্বাসী ও আস্থাভাজন কাউকে রোগীর সঙ্গে যেতে দিতে হবে, যাঁকে প্রতিটি পদক্ষেপ সহজ করে এবং সম্মানের সঙ্গে বুঝিয়ে বলতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতাল থেকে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত টিম থাকবে। যত গোলমালের উৎস অজানা উৎকণ্ঠা এবং তথ্য নিয়ে অস্বচ্ছতা। হাসপাতালে রোগীকে দেখতে না যাওয়া একটা সামাজিক অপরাধ মনে করা হয়। এই মনোভাব বদলাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভিড় হাসপাতালের কাজে ব্যাঘাত ঘটায় এবং রোগীর পরিষেবার ক্ষতি হয়।

এ ছাড়াও প্রতিটি রোগের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রোটোকল বানাতে হবে। প্রতিটি অঘটনের চুলচেরা বিশ্লেষণ অবশ্যই করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যু মনের উপর চরম আঘাত আনে। তার মোকাবিলার জন্য মনোবিদ-সহ এক বিশেষ টিম রাখা যায়। প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠলে ভাঙচুর না করেও বিচার চাওয়া যায়।

সমরেন্দ্র মৌলিক

বেহালা

 

ভ্রম সংশোধন

•  ‘নিউরোএন্ডোক্রিন টিউমার, টুইটে জানালেন ইরফান’ (১৭-৩, পৃ ৮) শীর্ষক খবরের গ্রাফিক্সে ‘এন্ডোক্রিন গ্লান্ড (হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থি)’র বদলে বন্ধনীর ভিতরে শুধু ‘হরমোন’ লেখা হয়েছে। চিকিৎসক তৃষিত রায়কে লেখা হয়েছে ‘স্নায়ু বিশেষজ্ঞ’। হবে ‘স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ’।

•  ‘ছবিবাবু’ (১৭-৩) চিঠিটির লেখকের নাম ছাপা হয়েছে সুবীর সেনগুপ্ত। চিঠির লেখক সুনীত সেনগুপ্ত।

অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটিগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।