হার-জিত খেলার অঙ্গ। খেলায় এক দল জিতবে এটাই স্বাভাবিক। তবু বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো আসরে নিজেদের দল ২-০ এগিয়ে থেকে, শেষ লগ্নে ৩-২’এ হেরে যাওয়া কতটা কষ্টকর, তা ফুটবলপ্রেমীরা জানে। জাপানের সমর্থকরা বেলজিয়ামের বিপক্ষে নিজেদের প্রিয় দলকে এ ভাবে হেরে যেতে দেখলেন। বিশ্ব ফুটবলের অন্য যে কোনও দল এ রকম জেতা ম্যাচ হেরে গেলে, তাদের সমর্থকরা গ্যালারিতে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করত অথবা ঘটাত। জাপানিরা তা করেননি। ফুটবল যে শুধুমাত্র খেলা, তা জাপানিরা গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়ে গেলেন।

হারা ম্যাচ জেতার আনন্দে যখন বেলজিয়াম সমর্থকরা উন্মত্ত, ঠিক তখনই জেতা ম্যাচ হারার পরেও জাপানি সমর্থকরা গ্যালারি পরিষ্কার করতে লাগলেন। স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জলের বোতল, চিপ্‌সের প্যাকেট, ছেঁড়া কাগজ একটি নির্দিষ্ট প্যাকেটের মধ্যে পুরে গোটা স্টেডিয়ামকে পরিষ্কার করলেন। বিশ্ব দরবারে নিজেদের উন্মুক্ত মানসিকতা তুলে ধরলেন। এই ঘটনায় বিশ্ব জুড়ে জাপানিদের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।  পরে খবরে জানা গিয়েছে, জাপানি ফুটবল দলও যাওয়ার আগে ড্রেসিং রুম পরিষ্কার করে গিয়েছে।

সুনামি, পরমাণু বোমা এই জাতিকে ধ্বংস করতে পারেনি, ফুটবল তো শুধু মাত্র নব্বই মিনিটের খেলা। আমাদের মতো লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীর কুর্নিশ রইল জাপানিদের প্রতি।

জয়ন্ত শীল   ইছলাবাদ-৩, বর্ধমান

 

মহিলা কামরা

ব্যারাকপুর থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে ওঠার জন্য প্ল্যাটফর্মের শেষের দিকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কামরা থামার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। ট্রেন এসে থামল, কিন্তু ওই কামরাটি দাঁড়াল প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তের ঢালু জায়গায়, যেখান থেকে শুধু মহিলা যাত্রী কেন, পুরুষ যাত্রীদের উঠতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। শুধু তা-ই নয়, কামরাটিকে গার্ডের বগির শেষে রেখে যেন প্রায় ব্রাত্য করা দেওয়া হয়েছে। ১৪ বগির ট্রেনটির মাঝখানে জায়গা করে নিতে না পারুক, অন্তত গার্ডের বগির আগে কামরাটি থাকলে, মহিলাদের ওঠার সুবিধে হয়।

প্রযুক্তিকা ভট্ট  আয়েশবাগ, মুর্শিদাবাদ

 

পুরুষ হকার

মহিলা কামরায় পুরুষ হকারদের অবাধে যাতায়াত। অফিসটাইমে, স্কুল-কলেজের টাইমে, যখন ভিড়ের মধ্যে মশামাছি পর্যন্ত গলতে পারে না, তখন পুরুষ হকারদের যাতায়াতের জন্য জায়গা করে দিতে হয়। মহিলা কামরায় শুধু মহিলা হকাররা উঠলে ভাল হয় না?

কবিতা ঘোষ  চান্দুরিয়া, নদিয়া

 

ন্যায্যমূল্য

রাজ্যের প্রায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যেই অবস্থিত ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানগুলি থেকে বিভিন্ন অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ৬০-৭০ শতাংশ ছাড়ে পাওয়া যায়। কোনও সন্দেহ নেই, উদ্দেশ্যটি মহৎ এবং জনহিতকর। কিন্তু জন্মলগ্ন থেকেই মফস্সল এলাকার বিভিন্ন ওষুধ দোকানদার এবং সাধারণ রোগীদের একাংশও প্রায়শই অভিযোগ করেন, ন্যায্যমূল্যের দোকানের ওষুধে নাকি রোগ সারে না! এমনকি অনেক ডাক্তারবাবুকেও ব্যক্তিগত স্তরে পরামর্শ দিতে শোনা যায়, ‘‘ন্যায্যমূল্যের দোকানের ওষুধ খাবেন না, ওই ওষুধের ক্ষমতা অনেক কম।’’ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, যাহা রটে তাহার কিছু কি বটে? স্বাস্থ্য দফতর এবং ড্রাগ কন্ট্রোল কি ওই ওষুধগুলোর মান পরীক্ষা করেন? না কি পুরোটাই এক শ্রেণির ওষুধ ব্যবসায়ীর অপপ্রচার? সে ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের আস্থাবর্ধক কোনও সরকারি প্রচার নেই কেন?

শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়  নবদ্বীপ, নদিয়া

 

গাছ নেই

বোলপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় গাছ নেই বললেই চলে। হাতে গোনা কয়েকটা গাছ ছড়িয়ে অাছে। শহরের যে দিকে চোখ যায়, ধু ধু প্রান্তর। ব্যতিক্রম শান্তিনিকেতন। ওখানে প্রচুর গাছপালা। বোধ হয় তাই বোলপুরের অন্য জায়গার তুলনায় ওখানে গরমটা কিছুটা কম অনুভূত হয়। স্টেশন থেকে বাইপাস লিঙ্ক রোডের দু’ধারে, মজা ক্যানাল বর্তমানে হাইড্রেনের দু’পাশে এবং বাইপাস রাস্তার ধারে নতুন বৃক্ষরোপণের যথেষ্ট জায়গা আছে।

গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য  বোলপুর, বীরভূম

 

গলসী কলেজ

পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসী ২ নং ব্লকে গলসী মহাবিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ২০০৭ সালে। প্রায় ২৩ বিঘা জমির উপর কলেজটির অবস্থান। আড়াই হাজারেরও বেশি ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশোনা করে। এর মধ্যে ৬০% ছাত্রছাত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। গলসী ২ নং এবং গলসী ১ নং ব্লকের ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কমবেশি ৩০৬টি গ্রামের ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশোনা করে। এ ছাড়াও কাঁকসা ব্লক ও বর্ধমান ব্লকের কিছু ছেলেমেয়েও এখানে ভর্তি হয়। এই কলেজে শুধু কলা বিভাগ পড়ানো হয়। অন্য কোনও বিভাগ চালু হয়নি, অথচ পরিকাঠামো সবই আছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে শুধুমাত্র আর্থিক কারণে বিজ্ঞান বা বাণিজ্য বিভাগে পড়ার সুযোগ পায় না। তার কারণ, এই সব বিভাগে পড়তে হলে এই অঞ্চল থেকে কমবেশি ৭০-৮০ কিমি (আপ-ডাউন) দূরত্ব অতিক্রম করে বর্ধমান শহরে যাতায়াত করে পড়তে হবে, যা ব্যয়সাপেক্ষ তো বটেই, সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। আমি এই কলেজের গেটম্যানের কাজে নিযুক্ত (এজেন্সির মাধ্যমে)। যখন প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ের পরিচয়পত্র দেখে কলেজে প্রবেশ করাই, অনেক ছাত্রছাত্রীর কথোপকথন কানে আসে। অনেকের আক্ষেপ শুনেছি, কেউ বলছে আমার হিসাবশাস্ত্র পড়ার ইচ্ছা ছিল, কেউ বলছে রসায়ন, কিন্তু আর্থিক কারণে বর্ধমানে গিয়ে সেই পড়াশোনার সুযোগ পেলাম না।

অঞ্জন সাম  গলসী, পূর্ব বর্ধমান

 

ভুল গণিত

‘গণিত প্রকাশ’ নামক গণিতের পর্ষদ অনুমোদিত যে পুস্তকটি দশম শ্রেণি তথা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য পুস্তকরূপে প্রণয়ন করা হয়েছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে তার ইংরেজি সংস্করণের অনুশীলনীগুলিতে গাণিতিক অঙ্কের প্রশ্নে অজস্র ছাপার ভুল ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন পাঠ্যক্রমে তিনটি শিক্ষাবর্ষ পেরিয়ে গেলেও ভুলগুলি এখনও পর্যন্ত সংশোধিত হয়নি, এটাও খুবই দুর্ভাগ্যজনক। অথচ অনুরূপ গাণিতিক প্রশ্নগুলি বাংলা সংস্করণের পুস্তকে কিন্তু নির্ভুল রূপে ছাপা রয়েছে। অসংখ্য ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীর সুবিধার কথা চিন্তা করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভুল অঙ্কের প্রশ্নগুলি সংশোধিত রূপে ছাপা হবে— মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে এই আশা ও আবেদন রাখি।

সেবাব্রত মুখোপাধ্যায়  কলকাতা-৮

 

ব্যাঙ্ক ধর্মঘট

আজকাল হুটহাট এক বা একাধিক দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট ডাকা হয়। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ খুব বাড়ে। এখনও দেশের বহু মানুষ ‘নেট ব্যাঙ্কিং’ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নন। অনেকেরই এটিএম কার্ড নেই। অথচ চিকিৎসা, স্কুল-কলেজে ভর্তি, মেয়ের বিয়ে, মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টির জন্য, বা ব্যবসায়ীদের ব্যবসার জন্য, যখন-তখন টাকার দরকার পড়তে পারে।

হৃষীকেশ বসাক  পানাগড়, পশ্চিম বর্ধমান

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।