মালদহের গাজোল ব্লক-সহ আরও বিভিন্ন এলাকায় সদ্য মেরামত করা স্ট্রিটল্যাম্পগুলো সমস্যা-অজ্ঞ সমাধানের চিত্র বহন করে চলেছে। বহু দিন ধরে খারাপ হয়ে পড়েছিল বাল্‌বগুলি, ফলে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হত মানুষের ভোগান্তি। হোঁচট খাওয়া থেকে শুরু করে, সাইকেল-বাইকের সংঘর্ষ, এমনকি সাপের কামড়। নারী ও শিশুর মর্যাদার চরম অবক্ষয়ের দিনে এই অন্ধকার কোণগুলি হয়ে উঠত অসামাজিক কাজকর্মের আখড়া। অবশেষে এই পুরনো নষ্ট হয়ে যাওয়া বাল্‌ব ঠিক করা শুরু হয়েছে। কিন্তু তা কত দিনের জন্য আদৌ ঠিক থাকবে, সন্দেহ। কারণ, এই বাল্‌ব এক বার জ্বললে আর নেভে না। নিয়ন্ত্রণের জন্য নেই কোনও সুইচ। তাই সারা দিন ধরে জ্বলেই থাকে। একটি করে সুইচ জোগানো কি অসম্ভব? এতে বাল্‌বের আয়ু বাড়ত, কমত বিদ্যুৎ খরচও।

ধীমান দাস

গাজোল, মালদহ

মায়াপুরের বাস

সম্প্রতি পরিবার নিয়ে মায়াপুর ঘুরে এলাম। ধর্মতলা থেকে সরকারি বাসে খুব সুন্দর ও নিরাপদে যাওয়ার সময় কৃষ্ণনগর থেকে ৩-৪ কিলোমিটার আগে বাসটি বিকল হয়ে যায়। গাড়িতে তখন প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন মায়াপুরে যাওয়ার জন্য। আমি চালক ও পরিচালককে জিজ্ঞাসা করলাম, এখন আমরা কী করব? ওঁরা বললেন, ‘‘আমরা সব জায়গায় গাড়ি ব্রেকডাউনের খবর জানিয়ে দিয়েছি, পিছনে যে সরকারি বাস আসছে, তাতে আপনাদের তুলে দেব। কৃষ্ণনগর যাওয়ার জন্যে আপনাদের ভাড়া লাগবে না।’’ আমরা পরের বাসটিতে কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ডে গেলাম। ওখানে প্রচুর বেসরকারি বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে মায়াপুরে যাওয়ার জন্য। বাধ্য হয়ে বেসরকারি বাসে উঠলাম। কৃষ্ণনগর থেকে মায়াপুর ১৮ কিলোমিটার রাস্তা। ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে মায়াপুর নিয়ে গেল, যেখানে আধ ঘণ্টার রাস্তা। বেলা সাড়ে বারোটায় মায়াপুর পৌঁছে, তড়িঘড়ি করতে লাগলাম, আজই কলকাতা ফিরতে হবে। দুপুর আড়াইটের সময় মায়াপুরে কর্মরত সরকারি বাসের স্টাফের সঙ্গে দেখা করলাম। উনি জানালেন, আজ কলকাতা ফেরার কোনও বাস নেই। বাধ্য হয়ে অনেক বেশি পয়সা খরচ করে কলকাতা ফিরি। সরকারের কাছে আর্জি, মায়াপুর রুটে মাত্র একখানি বাসের পরিবর্তে আরও কয়েকটি বাস বাড়ানো হোক। 

পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৯০

চিৎপুর খাল

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

চিৎপুর খালের সংস্কার শেষ কবে হয়েছিল, মনে করতে পারছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। চিৎপুর লকগেট থেকে আর জি কর হাসপাতাল পর্যন্ত খালের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে বোঝা যাবে, কতটা অস্বাস্থ্যকর হয়ে রয়েছে এই এলাকা। দুর্গন্ধ ও মশার আঁতুড়ঘর তো আছেই, খালের দু’পাশে ঝুপড়ির বাসিন্দারা শৌচকর্ম সারছেন খালের ওপর। সেই বর্জ্য সরাসরি মিশছে খালের জলে। কিছুটা দূরেই গঙ্গা। খালপাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ অঘোষিত ভ্যাটের চেহারা নিয়েছে। আশপাশের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়ির সব বর্জ্য খালের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন মানুষজন। প্লাস্টিক, থার্মোকল থেকে যাবতীয় আবর্জনা খাল বেয়ে মিশছে গঙ্গায়। সব মিলিয়ে নানা দিক থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খালপাড় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে আর জি কর হাসপাতাল। তার কাছেই এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ? 

নির্ঝর দাশগুপ্ত

কলকাতা-১৫

এটিএম

আমি রহড়া স্টেশন রোডস্থিত স্টেট ব্যাঙ্কের এক জন গ্রাহক। গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ঝাড়খণ্ডের সিরসিয়ার একটি এটিএম থেকে দুপুর ১:১৩-য় ২০,০০০ টাকা এবং পর ক্ষণেই দুপুর ১:১৪-য় ১৭০০০ টাকা— দুই খেপে মোট ৩৭,০০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ আমি তখন খড়দহ অঞ্চলে এবং আমার এটিএম কার্ড আমার কাছে। ওই দিনেই স্টেট ব্যাঙ্কের ওই শাখায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে আমার এটিএম কার্ড ব্লক করে দিই। কিন্তু খোয়া যাওয়া টাকার সুরাহা হয়নি।

সুভাষ চন্দ্র সাহা

কলকাতা-১১৮

ল্যাবের কাজ

বর্তমানে রাজ্য সরকার অনুমোদিত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে দু’জন করে ল্যাব অ্যাটেনড্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগ হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দ্বারা। এই পদটিকে রাখা হয়েছে গ্রুপ ডি-র অধীনে। এখন গ্রুপ ডি-র অধীনে স্কুলগুলিতে নিম্নলিখিত পদে নিয়োগ হয়েছে— পিয়ন, ল্যাব অ্যাটেনড্যান্ট, মেট্রন, নাইট গার্ড ইত্যাদি। রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদে নিয়োগ করলেও সুনির্দিষ্ট ডিউটি চার্ট দেয়নি, যে কোনও পদের নিযুক্ত ব্যক্তি কী কী কাজ করবেন, যেটা কেন্দ্র বা বিভিন্ন সার্ভিস কমিশনের দ্বারা নিযুক্ত পদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির সময় বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে উল্লেখ থাকে। 

কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে এবং অন্যান্য রাজ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পাশ করা ছেলেমেয়েদেরই ল্যাব অ্যাটেনড্যান্ট পদে নেওয়া হয় (এবং দেখা হয় বিজ্ঞান সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞান কতটা)। আমাদের রাজ্যেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ল্যাব অ্যাটেনড্যান্ট নিয়োগ করা হয়, তাঁরা ল্যাবের রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলিই করেন, পিয়ন বা অন্য পদে কাজ করতে তাঁদের বাধ্য করা যায় না। 

প্রধান শিক্ষকরা এটাকেই হাতিয়ার করছেন যে, রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ-ডি কর্মীরা ব্যক্তিগত কাজ ছাড়া প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির যাবতীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য। এই ‘যাবতীয় নির্দেশ’ কথাটি থেকেই যাবতীয় সমস্যার উৎপত্তি। কখনও প্রধান শিক্ষকরা ল্যাব অ্যাটেনড্যান্টদের নির্দেশ দিচ্ছেন পিয়নের কাজ করতে, কখনও মেট্রনের কাজ করতে, আবার কখনও অফিস রুম পরিষ্কার করতে— যা সুইপারের কাজ। অথচ এখন শুধু গ্রুপ-ডি বলে কোনও নিয়োগ স্কুলে হয় না, কাজ অনুযায়ী বিভিন্ন পদে নিয়োগ হয়। ল্যাব অ্যাটেনড্যান্টরা যদি অন্য পদের কাজ করবেন, তা হলে রাজ্য সরকার তথা শিক্ষা দফতর কাজ অনুযায়ী বিভিন্ন পদে নিয়োগ করছে কেন?

তাই বিভিন্ন জেলার ডিআই/এসআই মারফত স্কুলগুলিকে নিম্নলিখিত সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হোক— ১) ল্যাব অ্যাটেনড্যান্টদের প্রধান শিক্ষকরা ল্যাবের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া অন্যান্য পদের কাজ করতে অন্যায় ভাবে নির্দেশ দিতে পারেন না। ২) ল্যাব-ভিত্তিক তাঁদের কী কী কাজ করতে হবে, তার তালিকা দেওয়া হোক।

পুলকেশ দাস

কনকাবতী, পশ্চিম মেদিনীপুর

প্রাপ্য টাকা

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ৫০০ টাকার একটি আর ডি করি ফলতা পোস্ট অফিসে। ২০১৫-র ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার আর ডি পাশবইয়ে সই, পোস্ট অফিসের সিল-সহ জমার অঙ্ক মোট ৬,০০০ লেখা আছে। ২০১৮-র মার্চ মাসে ওই আর ডি বন্ধ করে ৬,০০০ টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করি। পোস্টমাস্টার জানালেন, আপনাকে কোনও টাকা দেওয়া যাবে না। কারণ, ‘‘আপনার পাশবইয়ে জমা হয়েছে ৬,০০০ কিন্তু আমাদের রেকর্ডে/ কম্পিউটারে দেখা যাচ্ছে ৫০০০। তাই আমার পক্ষে আপনাকে কোনও টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।’’ তাঁর পরামর্শমতো পোস্টমাস্টারের মাধ্যমে চিঠি দিলাম সুপারিনটেনডেন্ট, পোস্ট অফিসেস, সাউথ প্রেসিডেন্সি ডিভিশন, বারুইপুর, কলকাতা-১৪৪’কে, একটা কপি ওই অফিসের সেভিংস ব্রাঞ্চে জমা দিলাম ১৩-৩-১৮ ও ২৫-৪-১৮-তে এবং ৫-১-১৯ তারিখে। ইনস্পেক্টর, পোস্ট অফিসেস, বিষ্ণুপুর— তাঁকেও ফলতা পোস্টমাস্টার মহাশয়ের মাধ্যমে এক কপি চিঠি পাঠালাম। কিন্তু এখনও তেমন কোনও সদুত্তর কারও কাছ থেকে পেলাম না। 

ফণিভূষণ পাড়ুই

ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।