মেদিনীপুরে বিজেপির সভায় এসে যাঁরা ছাউনি চাপা পড়ে আহত হয়েছেন তাঁদের প্রতি রাজ্য সরকারের একটা কর্তব্য রয়েছে ভেবে মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করে আর্থিক সাহায্য করেছেন। এটা ভাল কথা। কিন্তু এটা কি তাঁর কর্তব্যপরায়ণতা বা সংবেদনশীল মনের বহিঃপ্রকাশ? তা তো মনে হয় না। তা যদি হত, তবে তিনি কেমন করে পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্বে যাঁরা নিহত বা আহত হলেন তাঁদের সম্পর্কে নিস্পৃহ থাকলেন? রাজ্যজুড়ে পেশিশক্তির আস্ফালনে এবং রক্তের খেলায় তিনি মৌনীব্রত অবলম্বন করলেন? কয়েক দিন আগে, প্রথম শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল চালুর দাবিতে যে সমস্ত এসইউসিআই কর্মী রাজভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশি আক্রমণে গুরুতর আহত হলেন, তাঁদের খোঁজখবরও নিলেন না? মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা হস্টেল সমস্যা সমাধানের দাবিতে অনশন আন্দোলনে শামিল হতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হলেন; তাঁদের সঙ্গে দেখাও করলেন না? তা হলে এ সমস্তই কি হিসেবি পদক্ষেপ? কোথায় গেলে ভোট রাজনীতিতে ফয়দা তোলা যাবে সেই হিসাব থেকেই কি তাঁর আচরণগুলো নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে?

গৌরীশঙ্কর দাস
সাঁজোয়াল, খড়্গপুর

 

খুদে হরফ

‘খুদে হরফের জালেই বন্দি বিমার টাকা’ (৭-৭) শীর্ষক সংবাদ পড়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। সংবাদ অনুযায়ী ১) চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে বিমা করানোর দু’বছর পর থেকে গ্রাহক টাকা পাবেন, তার আগে নয়। ২) ‘ডে কেয়ার’-এ চিকিৎসার ক্ষেত্রে গ্রাহক টাকা পাবেন না। টাকা পেতে হলে গ্রাহককে অন্তত এক রাত হাসপাতালে থাকতে হবে। ৩) বিমা সংস্থা এমন কোনও ল্যাবরেটরির রিপোর্ট গ্রাহ্য করবে না, যেখানে প্যাথোলজিতে স্নাতকোত্তর (এম ডি) চিকিৎসকের সই নেই। অনেকের ক্লেম আটকাতে পারে এই কারণে। ৪) যত টাকার পলিসি, ততটাই কভারেজ় মেলে না। কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে তা নথিতে লেখা থাকে। ৫) পলিসির অঙ্ক অনুসারে হাসপাতালে কত টাকার ঘরে থাকা যাবে, তা ঠিক করা থাকে। উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও শর্তাবলি নথিতে খুবই খুদে খুদে হরফে লেখা থাকে। বিমা সংস্থাগুলি গ্রাহকদের বিপদ এড়ানোর জন্য ওই বিষয়গুলি মন দিয়ে পড়তে বলছে।

প্রথমত, বিমা সংস্থাগুলো তো ব্যবসা করতে নেমেছে। নিশ্চয় চিট ফান্ডের মতো মানুষ ঠকাতে নামেনি। তাই বিমার মাধ্যমে গ্রাহককে যদি সুবিধা দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তা হলে এত রাখঢাক কেন? কেন বিশেষ বিশেষ শর্তাবলি খুদে খুদে হরফে লেখা থাকবে? দ্বিতীয়ত, দেশের আমজনতা যে ভাষায় আর আইনে কত সুপণ্ডিত, তা সবার জানা। তাই বিমার টাকা পাওয়ার শর্তাবলি কেন ইংরেজিতে লেখা থাকবে? কেন জটিল আইনি মারপ্যাঁচ থাকবে? প্রিমিয়ামের টাকা নেওয়ার সময় তো কোম্পানিগুলি সানন্দে গ্রহণ করে। তখন তো বার বার বলে দেয় না, টাকা দেওয়ার আগে ভেবেচিন্তে দিন, টাকা কিন্তু বিপদের সময়ে আপনারা না-ও পেতে পারেন! আর গ্রাহককে দেওয়ার সময়ই যত আইনি গ্যাঁড়াকল?

তৃতীয়ত, গ্রামীণ হোন আর শহুরেই হোন, সাধারণ মানুষ— যাঁরা দুঃসময়ে ভাল চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার জন্য সারা বছর ধরে তিল তিল করে টাকা জমিয়ে বিমার বাৎসরিক প্রিমিয়াম দেন— তাঁরা যখন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে বা নার্সিং হোমে ভর্তি থাকবেন, তখন কি তাঁরা তড়াং করে বেড থেকে লাফিয়ে উঠে দেখতে যাবেন, তাঁদের প্যাথোলজিক্যাল রিপোর্ট প্যাথোলজির এমডি ডাক্তার দিলেন না এমবিবিএস ডাক্তার দিলেন? বিশেষ করে যে দেশে বড় নার্সিং হোমে এবং নামকরা হাসপাতালে ভুয়ো ডাক্তারের ছড়াছড়ি!

তাই বিমা সংস্থাগুলির কর্তৃপক্ষের কাছে প্রার্থনা, বিমার শর্তাবলি স্ব-স্ব আঞ্চলিক ভাষায় বড় বড় হরফে লেখা হোক এবং কোন কোন বিষয়ে টাকা পাওয়া যাবে, কোন কোন রোগে কত দিন পর কত টাকা পাওয়া যাবে, তা স্পষ্ট করে লেখা হোক। কোনও আইনি জটিলতা না রেখে, সোজা কথাটা সোজা ভাবে লেখাই ভাল।

পরেশ সিংহ রায়

ভাতেন্ডা, উত্তর ২৪ পরগনা

 

 

ভলভো বাস

বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি। রাজ্য পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে বেশ কিছু দিন আগে সিউড়ি–কলকাতা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ভলভো বাস চালু হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বাসভাড়া বৃদ্ধির কারণে এই পরিষেবা মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। বাসভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণের নমুনা: নন-এসি বাসের ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে পুরনো ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, অর্থাৎ বৃদ্ধির পরিমাণ ২০ শতাংশ। পাশপাশি এসি বাসের ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে ৩২০ টাকা থেকে ৫১০ টাকা, অর্থাৎ বৃদ্ধির পরিমাণ ৬০ শতাংশ। বৃদ্ধির পরিমাণের বৈষম্য কি যুক্তিযুক্ত? আবার আসানসোল-কলকাতা রুটে এসি ভলভো বাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ৪৭৫ টাকা। যদিও দুইটি পথের দূরত্ব তুলনা করলে দেখা যাবে, আসানসোল-কলকাতা দূরত্ব ২১৩ কিমি এবং সিউড়ি–কলকাতা দূরত্ব ২১১ কিমি। তা হলে ভাড়ার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য বা বিভিন্নতা কেন? স্বাভাবিক কারণেই সিউড়ি–কলকাতা রুটে এসি বাসের যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে শুরু করেছে। অথচ সিউড়ি শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অগণিত অসুস্থ মানুষ ও বৃদ্ধবৃদ্ধাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য কারণে কলকাতা যাওয়ার প্রয়োজনে ভরসা করার জায়গা নিতে পারত এই ভলভো বাস।

কমলাচরণ ঘোষাল

বীরভূম

 

ব্যাঙ্কের সার্কুলার

মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়ের চিঠির (‘ব্যাঙ্ক, হইলচেয়ার’, ৯-৭) উত্তরে জানাই, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সুস্পষ্ট নির্দেশ [সার্কুলার নং আরবিআই ১৭-১৮/৮৯ ডিবিআর নং লেগ বিসি ৯৬/০৯০৭০০৫ (২০১৭-১৮) নভেম্বর ৯, ২০১৭] আছে, প্রতিবন্ধী অথবা সত্তরোর্ধ্ব অসমর্থ কাস্টমারদের বাড়িতে পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে। সেই সঙ্গে এই সমস্ত অসমর্থ ব্যক্তিদের আরও কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা সার্কুলারে বলা আছে। অধিকাংশ কাস্টমার এটা জানেন না এবং সরকারি ব্যাঙ্কগুলির আধিকারিকগণ এ সব ব্যাপারে কাস্টমারদের অবগত করান না বা মানতে রাজি হন না। আপনি আপনার অঞ্চলের স্টেট ব্যাঙ্কের সিপিআইও/রিজিয়োনাল ম্যানেজারকে আপনার সমস্যার কথা জানান। দরকার হলে আরটিআই-এর মাধ্যমে জানুন।

দেবীদাস অধিকারী

চান্দা, পশ্চিম বর্ধমান

 

জীর্ণ কার্যালয়

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ব্লকের ‘ব্লক ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রিফর্ম অফিস’ কার্যালয় জীর্ণ দশায়। ব্রিটিশ আমলের বাড়িটির স্থানে স্থানে ফাটল, বটগাছ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে। সিঁড়ি টলোমলো। প্রতি দিন বহু লোক কাজে এখানে আসেন। ভঙ্গুর সিঁড়ি দিয়ে অনেকেই এক সঙ্গে ওঠেন। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা দেখেও দেখে না।

ত্রিদিব মিত্র

কলকাতা-১০৩

 

স্কুল বিপদে

উপর কাটরী গ্রামের আপার প্রাইমারি (জুনিয়র হাইস্কুল) বিদ্যালয়টিতে মাত্র দু’জন শিক্ষক আছেন। তাঁরাই টিচিং এবং নন-টিচিংয়ের কাজ করেন। তাঁরাই পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০০-৪০০ জন ছাত্রছাত্রীকে পড়ান। স্কুলটি গ্রামের এক জনের বাড়িতে চলে। গ্রামের মানুষ স্কুলের জন্য একটি জমি দান করেছেন। কিন্তু নানা প্রশাসনিক জটিলতার ফাঁদে, নির্মাণে দেরি হচ্ছে।

শংকর মাহাত

কোটশিলা, পুরুলিয়া

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।